রাত ১০:৫১, বৃহস্পতিবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং

এক নজরে

ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হেরেছে ৭ উইকেটে। অথচ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত বড় স্কোর করার পর হার নেই কোনো দলেরই। ম্যাচের চতুর্থ দিন যখন ৫৩৯ রানে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস, তখনও কেউ ভাবেনি পরাজয়ের পথে মুশফিকুর রহিমের দল।

কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম দিন বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় ইনিংসে গুড়িয়ে দিতে নিউজিল্যান্ড প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল বাউন্সারকে। এমনিতেই উপমহাদেশের ক্রিকেট মানেই স্পিন কিংবা ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের কথা ভাবলে মিরপুর, ফতুল্লা, চট্টগ্রাম কিংবা খুলনা-বগুড়া; বাউন্স বলতে তো এসব জায়গায়  কিছুই নেই। সাকিব-মুশফিকরা যতই ১০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলুক না কেন, এই জায়গাটায় তাই দুর্বলতা থেকেই যায়। যেমন অ্যালিস্টার কুক-জো রুটরা সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান হয়েও বাংলাদেশে গিয়ে স্পিনের সামনে নতজানু হয়ে ফিরে আসেন।

উইকেট কন্ডিশন তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কৌশলগত এক খেলা। বাংলাদেশ টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিশ্বাস করেন সেটাই। আগামীকাল ক্রাইস্টচার্চে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ইনজুরি আক্রান্ত মুশফিকের পরিবর্তে বাংলাদেশেকে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ জানিয়ে দিলেন, কিউই পেসাররা আগের ম্যাচে যে হারে বাউন্সার ছুঁড়েছে; সেটি নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

‘নাহ, তা নিয়ে আমার ও আমাদের কোনোই অভিযোগ নেই। সব দেশ তার নিজের শক্তি-সামর্থ্য ও কন্ডিশনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করে। নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররাও করছে। তারা আমাদের শর্ট ডেলিভারি দিয়ে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এটা তাদের গেম প্ল্যানের অংশ।’- সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন তামিম।

তামিম ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শুধু কিউই ফস্ট বোলারদের কথা বলা কেন, আমরা যদি বুঝি জানি- অমুক ব্যাটসম্যান শর্ট বলে দুর্বল। আমরাও তো তার বিপক্ষে শর্ট বল বেশি করবো। তাকে বিব্রত করতে এবং কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিতে চাইবো। এটা দোষের কিছু নেই। বরং কার্যকর কৌশল। এটা সবাই করে।’

তামিম উদারহণ টেনে বলেন বাংলাদেশের স্পিন-বান্ধব উইকেটের কথা, ‘আমরা ঘরের মাঠে স্পিনিং ট্র্যাকে খেলি। সেখানেও তো বল প্রচুর টার্ন করে। কই কেউই কি তখন বলে; উইকেটে এত টার্ন কেন? কাজেই তারা আমাদের বিপক্ষে শর্ট বল করায় কোনো অভিযোগ নেই। এটা নিছক কৌশলেরই অংশ।’

কঠিন সংকটে অধিনায়কত্ব পেয়েও চাপে নেই তামিম

সত্যিই জীবন কত অদ্ভুত! বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবন কাহিনি ও পলাশির করুণ পরিণতি নিয়ে দেশ বরেণ্য চলচ্চিত্রকার প্রয়াত খান আতা যে চলচ্চিত্র নির্মান করেছিলেন, তাতে একটি জীবনধর্মী সঙ্গীত ব্যবহৃত হয়েছে। যার প্রথম দুই চরণ হলো ‘নদীর এ কূল ভাঙে এ কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা, সকালে আমিররে ভাই ফকির সন্ধ্যে বেলা।’

সত্যিই জীবনটা এমন উত্থান-পতনের খোলা মঞ্চ। ক্রিকেটারদের জীবনটাও ঠিক তেমন। আজ হিরো তো কাল খলনায়ক। আজ পাদ প্রদীপের আলোয়। কাল অন্তরালে। মাত্র ২৪ ঘন্টা সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলেও এমন ওঠা নামার পালা। বুধবার দুপুরের সঙ্গে আজকের দুপুরের কি বিস্তর ফারাক! আসুন একটু জেনে নেই কি সেই পার্থক্য।

দৃশ্যপট ১. ১৮ জানুয়ারী সকাল। ঘড়ির কাটা দুপুর একটা স্পর্শ করেনি। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের ঠিক মাঝখানে মানে পিচের আশপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন দু`জন মানুষ। দুজনারই পরনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ট্র্যাক স্যুট। একজন কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। আরেকজন মুশফিকুর রহীম। তারা মিনিট পাঁচ সাতেক পিচের আশপাশে দাঁড়িয়ে যে উইকেটে খেলা হবে, তা দেখে (যদিও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে পিচের অর্ধেকেরও বেশি অংশ ঢাকাই ছিল) কথা বলতে বলতে ড্রেসিং রুমে আসলেন।

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের চলতি সিরিজ কভার করতে যে সব সাংবাদিক এখন ক্রাইস্টচার্চে তাদের বড় অংশ, ঐ দৃশ্য অবলোকন করলেন। তখন কানাঘুষা শুরু হয়ে গেলো। মুশফিকুর রহীম তো ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ। হয়তোবা ওয়েলিংটন হাসপাতালের চিকিৎকসদের প্রটোকল পরামর্শ সত্বেও ঠিক টেস্টে মাঠে নেমে পড়বেন। তাই বুঝি উইকেট দেখে কোচের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আসলেন সাজঘরে।

টিম বাংলাদেশে সবচেয়ে সিরিয়াস ক্রিকেটারের নাম মুশফিক। অনুশীলনে তার আগে কেউ আসতে পারে না। আবার সবার প্র্যাকটিস শেষ হয়ে যাবার পরও নিজের গরজে বাড়তি প্র্যাকটিসটাও মুশফিকই করেন বেশি। তাই বলাবলি হল, মুশফিক যেমন সিরিয়াস ক্রিকেটার। ইনজুরি তাকে গ্রাস করতে নাও পারে। হয়তো খেলেও ফেলতে পারেন টাইগার টেস্ট অধিনায়ক। মুশফিক বলেই এ কথাটা কম বেশি সবার মনেই গেঁথে গেল। সবাই বলা বলি করলেন, মুশফিক যেহেতু, তাই খেলেও ফেলতে পারেন।

কিন্তু আজ দুপুর পৌনে একটার দিকে ঠিক তার বিপরিত দৃশ্য দেখেই ভুল ভাঙলো সবার। বাংলাদেশের প্র্যাকটিস ছিল দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে। ঠিক পৌনে একটার কয়েক মিনিট পর হ্যাগলে ওভালে ঢুকলো বাংলাদেশের টিম বাস। বাস থেকে নেমে সিড়ি বেঁয়ে হ্যাগলো ওভালের ড্রেসিং রুমে ওঠার আগে ঠিক কালকের মত দু`জন মানুষ সোজা মাঠের মাঝখানে পিচ যেখানে, ঠিক সেখানে চলে গেলেন। পিচ দেখে পাঁচ থেকে সাত মিানট কথাও বললেন। তারপরও কথা বলতে বলতে সাজঘরের পথে পা বাড়ালেন।

সময়কালের পার্থক্য মোটে ২৪ ঘন্টা। দৃশ্যপট এক। কিন্তু পিচের মাঝখানে কথা বলা দুই চরিত্রের রদ বদল। একজন হাথুরুসিংহে। অন্যজন তামিম ইকবাল। টেস্ট শুরুর ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে যখন কোচ তামিম ইকবালকে নিয়ে পিচ দেখতে গেছেন। এবং তার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে বলতেই সাজঘরে। ঠিক তখনই বোঝা গেল , মুশফিক আর দৃশ্যপটে নেই। ইনজুরি তাকে আবারো গ্রাস করেছে। কাল থেকে যে টেস্ট শুরু, তার অধিনায়ক আর মুশফিক নন। তামিম ইকবাল।

কোচ হাথুরুসিংহে সোজা সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেলেন। আর তামিম আসলেন অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সামনে। মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামকে বললেন, ‘রাবিদ ভাই প্রেস কনফারেন্সের প্রস্তুত নিন। তখনই জানা হয়ে গেলো, বোঝাও হলো, শুক্রবার থেকে যে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে, তাতে বালাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

সেই ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু। প্রায় ম্যাচেই একটা দৃশ্য চোখে পড়ছে। সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সম্ভাবনার দরজাও খুলছে। সে পথে হেঁটে খানিকটা পথ এগিয়েও যাচ্ছে। তারপর একটা পর্যায়ে গিয়ে কেমন যেনসব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কাজের কাজটি হচ্ছে না। এই না হবার পালা চলছেই।

দেখতে দেখতে সফর শেষ হবার সময়ও যে ঘনিয়ে এলো। এইতো ২৪ ঘন্টা পর শুরু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এ ম্যাচের আগে ইনজুরি ঘিরে ধরেছে চারদিক থেকে। নিয়মিত অধিনায়ক মুশফিকু রহীম ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ব্যথার কারণে বাইরে। ওপেনার ইমরুল কায়েসও ঊরুর ব্যথায় সাইড বেঞ্চে।

পড়ন্ত বিকেলের খবর, মুমিনুল হকও একাদশের বাইরে ছিটকে পড়েছেন। এমনিতেই সাফল্য ধরা দিচ্ছেন। ‘সোনার হরিণ’ হয়ে পড়েছে। তার সাথে আবার ইনজুরির ভয়াল থাবা। জয় ধরা না দিলেও ওয়েলিংটন টেস্ট শুরুর আগেও টিমের যে আত্ববিশ্বাস ছিল, ক্রিকেটাররা যতটা চাঙ্গা-উৎফুল্ল ছিলেন, তাতে ভাটা এসেছে। একটা গুমোট ভাব চলে এসেছে। এরকম একটা ভাঙা চোরা দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

তিনজন অপরিহার্য্য পারফরমার নেই। মুশফিক নেই, যিনি একাধারে ‘ থ্রি ইন ওয়ান। ’ কীপার। অধিনায়ক এবং মিডল অর্ডারের অন্যতম স্তম্ভও। তার পাশাপাশি নেই ওপেনার ইমরুল কায়েসও। এমনিতেই সাফল্য ধরা দিচ্ছে না। সম্ভাবনার দরজা খুলছে শুধু। কিন্তু সাফল্যের মঞ্চে আর ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। তার সঙ্গে এক ঝাঁক নিয়মিত ও অপরিহার্য পারফরমার ছাড়া খেলতে হবে।

এ দায়িত্ব প্রাপ্তি কতটা সুখের? নাকি বাড়তি চিন্তা-টেনসন ও চাপের? তামিম কি চাপে? প্রশ্ন উঠলো। প্রেস কনফারেন্সে এ সাংবাদিরকর প্রশ্ন ‘আপনি কি চাপে? মানসিকভাবে ঠিক আছেন? তামিমের চিবুক সোজা করা জবাব, ‘না না মোটেই চাপে নেই। আমাকে যখন সহ অধিনায়ক করা হয়েছে, তখন থেকেই একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে। আমি জানি, বুঝি কোন কারণে এক ছোট সময়ের জন্য হলেও অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই মানসিক প্রস্তুুতি সব সময়ই থাকে। কাজেই বাড়তি চাপ অনুভব বা বোধ করা কিছুই নেই।’

কথা বলার সময় তার মুখ ও শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছিল, তিনি মনের দিক থেকে খানিকটা প্রস্তুতও ছিলেন। তাইতো চটপট ব্যাখ্যা, ‘আমার দায়িত্ব দুটা। এক ব্যাটিংটা ঠিক মত করা। দলকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখা। আর এখন মাঠে দল পরিচালনা। কাজেই বাড়তি চাপের কিছু নেই। আমি মনের দিক থেকে তৈরি। জানি কাজটা সহজ হবে না। চ্যালেঞ্জিং হবে। কয়েকজন অতি নির্ভরশীল পারফরমার নেই। কিন্তু কিছু করার নেই। ইনজুরির ওপর কারো হাতও নেই। আমার চেষ্টা থাকবে , দলকে যতটা সম্ভব চাঙ্গা রাখা। এবং মাঠে সামর্থের সেরাটা উপহার দেয়ায় অনুপ্রাণিত করা।’

ক্রিকেট

কিউইদের শর্ট বল নিয়ে অভিযোগ নেই তামিমের

ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হেরেছে ৭ উইকেটে। অথচ টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত বড় স্কোর করার পর হার নেই কোনো দলেরই। ম্যাচের চতুর্থ দিন যখন ৫৩৯ রানে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস, তখনও কেউ ভাবেনি পরাজয়ের পথে মুশফিকুর রহিমের দল।

কিন্তু ম্যাচের পঞ্চম দিন বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দ্বিতীয় ইনিংসে গুড়িয়ে দিতে নিউজিল্যান্ড প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল বাউন্সারকে। এমনিতেই উপমহাদেশের ক্রিকেট মানেই স্পিন কিংবা ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটের কথা ভাবলে মিরপুর, ফতুল্লা, চট্টগ্রাম কিংবা খুলনা-বগুড়া; বাউন্স বলতে তো এসব জায়গায়  কিছুই নেই। সাকিব-মুশফিকরা যতই ১০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলুক না কেন, এই জায়গাটায় তাই দুর্বলতা থেকেই যায়। যেমন অ্যালিস্টার কুক-জো রুটরা সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান হয়েও বাংলাদেশে গিয়ে স্পিনের সামনে নতজানু হয়ে ফিরে আসেন।

উইকেট কন্ডিশন তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কৌশলগত এক খেলা। বাংলাদেশ টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিশ্বাস করেন সেটাই। আগামীকাল ক্রাইস্টচার্চে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ইনজুরি আক্রান্ত মুশফিকের পরিবর্তে বাংলাদেশেকে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ জানিয়ে দিলেন, কিউই পেসাররা আগের ম্যাচে যে হারে বাউন্সার ছুঁড়েছে; সেটি নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

‘নাহ, তা নিয়ে আমার ও আমাদের কোনোই অভিযোগ নেই। সব দেশ তার নিজের শক্তি-সামর্থ্য ও কন্ডিশনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করে। নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররাও করছে। তারা আমাদের শর্ট ডেলিভারি দিয়ে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এটা তাদের গেম প্ল্যানের অংশ।’- সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন তামিম।

তামিম ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শুধু কিউই ফস্ট বোলারদের কথা বলা কেন, আমরা যদি বুঝি জানি- অমুক ব্যাটসম্যান শর্ট বলে দুর্বল। আমরাও তো তার বিপক্ষে শর্ট বল বেশি করবো। তাকে বিব্রত করতে এবং কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিতে চাইবো। এটা দোষের কিছু নেই। বরং কার্যকর কৌশল। এটা সবাই করে।’

তামিম উদারহণ টেনে বলেন বাংলাদেশের স্পিন-বান্ধব উইকেটের কথা, ‘আমরা ঘরের মাঠে স্পিনিং ট্র্যাকে খেলি। সেখানেও তো বল প্রচুর টার্ন করে। কই কেউই কি তখন বলে; উইকেটে এত টার্ন কেন? কাজেই তারা আমাদের বিপক্ষে শর্ট বল করায় কোনো অভিযোগ নেই। এটা নিছক কৌশলেরই অংশ।’

ফুটবল

রিয়াল মাদ্রিদের টানা দ্বিতীয় হার

সব প্রতিযোগিতায় টানা ৪০ ম্যাচে অপরাজিত থেকে আগের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ লা লিগায় ওই হারের পর কোপা দেল’রের ম্যাচে এবার সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে দলটি।

অপরাজিত থাকার স্প্যানিশ রেকর্ড গড়ার পর এবার শেষ দুই ম্যাচেই হারের স্বাদ পেল স্পেন তথা ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাবটি।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গতকাল রাতে কোপা দেল’রের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে সেল্টা ভিগোকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় রিয়াল। কিন্তু ঘরের মাঠের ওই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে পারেনি লস ব্লাঙ্কোসরা। চেনা মাঠে তাদের হারিয়ে দিয়েছে সফরকারীরা।

বার্নাব্যুতে ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি রোনালদো-বেনজেমারা।ফলে গোলশূন্য থেকেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করতে হয়েছে তাদের।

বিশ্রাম শেষে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দর্শকদের স্তব্ধ করে সেল্টাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ল্যাগো অ্যাসপাস। তবে ম্যাচের ৬৯ মিনিটে মার্সেলোর গোলে উচ্ছ্বাস ফেরে রিয়াল শিবিরে। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি স্বাগতিকদের। ম্যাচের ৭০ মিনিটে জনি ক্যাস্ট্রোর গোলে ফের পিছিয়ে পড়ে লস ব্লাঙ্কোসরা।

এরপর আর কোনো গোল হয়নি ম্যাচটিতে। ম্যাচের বাকি সময়ে রোনালদো-বেনজেমারা বেশ কিছু সুযোগ পেলেও সেগুলো থেকে গোল আদায় করতে পারেননি তারা। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে জিনেদিন জিদানের প্রশিক্ষিত দলটিকে।

 

ফেইসবুক

গলফ
দাবা
লন-টেনিস
হকি
হ্যান্ডবল
আর্ন্তজাতিক
সাক্ষাৎকার
সাঁতার
এ্যাথলেটিকস্