মাঠে ৭ বিদেশি। ডাগআউটে একজন। ৮ বিদেশির এমন রসায়নেও শনিবার পিডব্লিউডির বিপক্ষে হার এড়াতে পারেনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন। বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) তেরতম রাউন্ডে ব্রাদার্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পিডব্লিউডি।
চার পাকিস্তানির সাথে গিনির ২ আর সেনেগালের ১ ফুটবলার ছিলেন ব্রাদার্সের একাদশে। কোচ হিসেবে ডাগআউটে ছিলেন গাম্বিয়ান ওমর সিসে। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে পেরেছিল ব্রাদার্স। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ষষ্ঠ হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে গোপীবাগের ক্লাবটি।
সাফের সদস্য দেশগুলো থেকে একটি ক্লাব সর্বাধিক ৫ জনকে নিবন্ধন করিয়ে স্থানীয় ফুটবলার হিসেবে খেলাতে পারে। এক সাথে মাঠে খেলতে পারেন চারজন। ব্রাদার্স এ ম্যাচ শুরুর একাদশে খেলিয়েছে বিদেশি পাসপোর্টধারী সাত ফুটবলার। মুন্সীগঞ্জের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুই অর্ধে দুই গোল করেছেন পিডব্লিউডির রাশিয়ান ফরোয়ার্ড মারাত দেভেসা তারেক। ব্রাদার্সের একমাত্র গোলটি করেছেন পাকিস্তানের শায়েক দোস্ত। দুই দলের প্রথম দেখা গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
এই জয়ে পিডব্লিউডি রেলিগেশন জোন থেকে একটু দূরে যেতে পেরেছে। তবে বিপদমুক্ত হয়নি এখনো। ব্রাদার্সের সমান ১৩ পয়েন্ট হয়েছে তাদের। উঠেছে টেবিলের আটে। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেয়ে তালিকার সাতে ব্রাদার্স। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে বসুন্ধরা কিংস। সমান ২৫ পয়েন্ট তালিকার দুই ও তিনে থাকা আবাহনী ও ফর্টিসের।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে ডান দিকে দিয়ে উপরে উঠে ব্রাদার্স ডিফেন্ডার সিফাতকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকেই ক্রস দেন রাতুল। গোলমুখের সামনে টোকায় বল জালে জড়ান পিডব্লিউডির রাশিয়ান ফরোয়ার্ড মারাত দেভেসা।
২৫ মিনিটে বক্সের সামনে জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি কিক একটুর জন্য জালের খোঁজ পায়নি। দুই মিনিট পর সিফাতকে তুলে ইনসানকে মাঠে নামান ওমর সিসে। ৩০ মিনিট পর টানা তিনটি কর্নার তুলে নেয় পিডব্লিউডি। যদিও সেখান থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেনি তারা।
৩৬ মিনিটে কেরফালা বক্সে ঢুকে জটলার মধ্যে পড়েন, তিন-চারজনকে কাটালেও শট নিতে পারেননি। সেখান থেকে বল তুলে দেন শায়েক দোস্তের পায়ে। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শট নিলে অনায়াসেই গ্লাভসবন্দি করেন পিডব্লিউডি গোলকিপার। ৩৮ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে আলমগীরের ক্রসে বলে মাথা ছোঁয়ান মনির। তবে হেডে গতি না থাকায় সহজেই বল ধরে ফেলেন পিডব্লিউডির গোলকিপার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পিডব্লিউডির রক্ষণে চাপ বাড়ায় ব্রাদার্স। ৪৫ মিনিটে গোলে ভালো সুযোগ নেয় দলটি। বাঁ-দিক থেকে আসা শায়েকের ক্রসে আলমগীরের হেডে বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স। চার মিনিটের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ফাকা পোস্টেও হেডে গোল করতে পারেননি আলমগীর গাজী। পরের মিনিটে এই ফরোয়ার্ডের আরেকটি নিচু শট ছিল গোলকিপার বরাবর। ৬৩ মিনিটে রাতুলের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন জামাল। এরপর ব্রাদার্স অধিনায়কের ক্রসে হেডে গোল করে শায়েক দোস্ত দলকে ১-১ সমতায় ফেরান।
৭১ মিনিটে ভালো জায়গায় ক্রস পেয়েও গোল করতে পারেননি পিডব্লিউডির মিডফিল্ডার স্বাধীন। এগিয়ে যেতে দুই দলই বেশ চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি হজম করে পিছিয়ে পড়ে ব্রাদার্স। ৮৪ মিনিটে মানাত তারেক বটম কর্নার দিয়ে নিচু শটে পিডব্লিউডিকে পেনাল্টি থেকে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বাকি সময় চেষ্টা করেও দুই দল পায়নি গোলের দেখা।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
