গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান পেসার রুবেল হোসেন। তবে আজ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তার জন্য এক অনাড়ম্বর সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল বিসিবি।
আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই দৃশ্যটা হয়ে ওঠে অন্যরকম এবং আবেগঘন।
নিজের বক্তব্য শেষ করে রুবেল চুপচাপ পায়ে এগিয়ে গেলেন উইকেটের দিকে।
সেই চেনা ২২ গজ; যেখানে গড়ে উঠেছে তার ক্যারিয়ারের অসংখ্য স্মৃতি। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন, যেন ফিরে দেখছিলেন তার দীর্ঘ পথচলা।
তারপর ধীরে ঝুঁকে ছুঁয়ে দেখলেন পিচ, আর এক মুহূর্তে আবেগের বাঁধ ভেঙে চুমু খেলেন সেই মাটিতে। অনেকটা ফ্লাইং কিসের স্টাইলে!
রুবেল সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে।
২০২৪ সালের এপ্রিলের পর আর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) দেখা যায়নি তাকে। জাতীয় দলের হয়ে রুবেল শেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২১ সালের ১ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড সফরে। ৫ বছরের বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই শেষ হয়েছিল রুবেলের সীমিত ওভারের ক্রিকেট। ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে সর্বশেষ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন তিনি। মিরপুরে খেলছে নিউজিল্যান্ড, নিজে না খেললেও কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মাঠ থেকে ‘বিদায়’ নিলেন রুবেল।
সম্মাননা অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাসকিন আহমেদ স্মৃতিচারণ করেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাসকিন বলেন, ‘২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটা এখনও আমার মনে আছে। খুব টানটান পরিস্থিতি ছিল। শেষ দিকে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে আপনি আমাদের জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে সাহায্য করেছিলেন।
সেই মুহূর্তে একটা কথাই মনে হচ্ছিল, হিরো হওয়ার জন্য আলাদা কিছু করার দরকার নেই, ঠিক সময়ে নিজের কাজটা ঠিকভাবে করলেই হয়। আর সেটাই করে দেখিয়েছিলেন রুবেল হোসেন, আপনিই জিতিয়েছিলেন ম্যাচটা। বার্মিংহামেও অনেক স্মৃতি আছে, সেগুলো আর বললাম না। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।।’
এরপর রুবেল নিজের বক্তব্যে অনেক কিছু তুলে ধরেন। শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার অবসরের সিদ্ধান্ত জানাই, তখন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল আমাকে ফোন করে বলেন, রুবেল তোকে আমরা সম্মানিত করতে চাই। যে বিষয়টা আমার কাছে খুবই গর্বের ও আনন্দের ছিল। আর আজকে এত সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করেছে, এজন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। ’
পেসার হান্টের মাধ্যমে রুবেল উঠে আসেন। তার উঠে আসায় বড় ভূমিকা রাখেন স্থানীয় কোচ সারোয়ার ইমরান। সাবেক গুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের নাম না বললেই নয়। আমাকে পেসার হান্ট থেকে নিয়ে এসে, যিনি আমাকে ওপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি আমার প্রিয় কোচ শ্রদ্ধেয় সারোয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’
এরপর লম্বা ক্যারিয়ারে সকল কোচদেরও স্মরণ করলেন তিনি, ‘স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে বিসিবির সকল কোচ, গ্রাউন্ডসম্যান, সকল ফিজিক্যাল ট্রেইনার- সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন ও আমার পাশে ছিলেন।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে বাবা-মায়ের ভূমিকার কথা স্মরণ করলেন রুবেল, ‘আমি আজকে এখানে দাঁড়াতে পেরেছি দুজন মানুষের জন্য, তারা আমার বাবা ও মা। যারা আমাকে সবসময় অনেক উৎসাহ দিয়েছেন, আমার পাশে ছিলেন ও আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন। আমি তাদের আজকে খুব মিস করছি। আমি আমার বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে যারা আমার খারাপ সময়ে পাশে ছিলেন, মিডিয়াকর্মী থেকে শুরু করে সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
২০২১ সালে শেষবার দেশের হয়ে খেলেছেন রুবেল। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ওয়ানডেতে ১২৯, টেস্টে ৩৬ ও টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট নিয়েছেন রুবেল।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
