বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ১৫ ওভারের ম্যাচে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০৩ রান। বিশেষ করে শেষ ২৫ বলে বাংলাদেশ হারায় ৬ উইকেট, যেখানে তুলতে পেরেছে মাত্র ৬ রান। ম্যাচ হারের পেছনে লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতাকেই সামনে আনলেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে কেন লোয়ার অর্ডার পারছেন না, সেটি বুঝছেন না লিটন।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটি বাংলাদেশের দেওয়া সহজ লক্ষ্য ২০ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে ছুঁয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। এভাবে হারের পর লিটন বললেন, ‘ব্যাটিংয়ে আরও কিছু রান নিতে পারলে সিনারিও ভিন্ন হতে পারত।
প্রথম প্রেস কনফারেন্সে একটা কথা বলেছিলাম যে আমাদের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। চাই যে তারা আমাদের ব্যাটিংয়ে কিছু ইনপুট দেবে। সো আজকে জায়গা ছিল, কিন্তু তারা আবারও ব্যর্থ।’
যদিও এর সমাধান জানেন না লিটন। পাল্টা প্রশ্ন করে সমাধান চাইলেন লিটন নিজেই, ‘টি-টোয়েন্টিতে তো পাঁচ বোলার ছাড়া যেতে পারব না। আমি যদি নয় ব্যাটসম্যান নিয়ে যাই, তিন বোলার নিয়ে খেলতে হবে। আপনার কাছে যদি সলিউশন থাকে দিতে পারেন’।
লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে নিয়মিত কাজ হচ্ছে। যদিও প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে লিটন নিজেও হতাশ, ‘অনেক দিন ধরেই কাজ হচ্ছে। আমাদের যারা ব্যাটিং কোচ আছেন, তারা তাদের পেছনে সময় দিচ্ছেন। এটা রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। কিন্তু ওরাও চেষ্টা করছে। আশা করি বিশ্বকাপ আসতে আসতে এই জায়গায় পরিবর্তন আসবে।’
সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে শুরুটা ভালোই করছিলেন লিটন দাস। কিন্তু ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারলেন না অধিনায়ক। বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হলে ১৭ বলে ২৬ রান করে আউট হন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লিটনের আউটের পরই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের।
নিজের ইনিংস নিয়ে লিটন বলেন, ‘আমি আর হৃদয়ের জুটিটা আরও বড় হলে খেলা ভিন্ন হতো। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এরকম ব্রেক মাঝে মাঝে আসে। আপনি হাই রিস্ক গেম খেলতে গেলে আউট হবেন। ওখান থেকে আর কিছু করার ছিল না। অবশ্যই আমি যে শটটা খেলেছি, ওটা যদি সাকসেস হতো; তাহলে হয়তো খেলাটা আরও ডিপ হতো।’
লিটন মনে করেন নিউজিল্যান্ডকে ১৩০ কিংবা ১৪০ রান দেওয়া গেলে ম্যাচটা অন্যরকম হতো, ‘অবশ্যই। কারণ আপনি দেখেন, শুরুতেই তিনটা উইকেট পড়ে গিয়েছিল, তারাও একটু আন্ডার প্রেসারে ছিল। চাপে থাকলেও তাদের রান রেট কখনো ছয়ের উপরে যায়নি। এটা যদি সাত বা আটে যেত, তাহলে হয়তো একটা বাড়তি প্রেসার থাকত।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান স্কোয়াডে ছিলেন না। দারুণ ছন্দে থাকা নাহিদ রানাকেও রাখা হয়নি। নতুন দুই পেসার রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে সুযোগ দেওয়া হয়। যদিও রিপন সুযোগ পেয়েছেন এই সিরিজে। মূল পেসারদের বাইরে রেখে নবীনদের দিয়ে সিরিজ খেলানো লিটনের কাছে বেশ স্বস্তির।
এক প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, ‘খুবই ভালো। আমার মনে হয় সবসময় আপনার সিনিয়র প্লেয়াররাই যে টিমে থাকবে, জিনিসটা তা না। আমি আগেও বলেছি, তাসকিন এবং ফিজ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ। কিন্তু কোনো এক সময় নতুন খেলোয়াড়দেরও গড়ে উঠতে হবে। আমার মনে হয় আজকের ম্যাচটা রিপনের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল, সাইফউদ্দিনও অনেকদিন পর এসেছে। এই খেলোয়াড়দের আমরা যত গেম টাইম দিতে পারব, ততই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে লাভবান হবে।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
