বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলার উন্নয়ন ও মানোন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আয়োজিত আন্তর্জাতিক লেভেল-২ কোচিং কোর্সটি রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেজর জেনারেল হাসান-উজ-জামান। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি এবং দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আয়োজনের মান ও সামগ্রিক অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে স্কুল পর্যায়ে স্কোয়াশ খেলা আরও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উন্নত মানের বিদেশি কোচ নিয়োগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
গত ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কোচিং কোর্সটি বিশ্ব স্কোয়াশ ফেডারেশন ও এশিয়ান স্কোয়াশ ফেডারেশনের অনুমোদনে অনুষ্ঠিত হয়। আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সের পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতেও বিভিন্ন সেশন পরিচালিত হয়। কোর্সটি মূলত বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও হংকং থেকে আগত লেভেল-১ সনদধারী কোচদের নিয়ে আয়োজিত হয়। চলমান পরিস্থিতির কারণে ইরানের দুইজন কোচ অংশগ্রহণ করতে পারেননি।
এই কোর্স পরিচালনায় ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত মালয়েশিয়ান কোচ সুভ্রমনিয়ম। পাশাপাশি বিকেএসপির দুইজন প্রশিক্ষক এবং বাংলাদেশের একমাত্র লেভেল-২ কোচ ফজলে ওয়ালী আহমেদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, হংকং ও মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞ কোচ ও খেলোয়াড়রা, যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সময় কোচিং ও প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন মারজান মনিকা (ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়), রাজু (আমেরিকান ক্লাব), সুমন (উত্তরা ক্লাব), সাজু (বিকেএসপি), রাফি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) এবং সেনাবাহিনীর রনি, শাহাদাৎ ও মাসুমসহ আরও অনেকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নেন পাকিস্তানের জুলফিকার আলী খান, ভারতের প্রদীপ মালিক, হংকংয়ের ইউলসান চ্যান এবং মালয়েশিয়ার টিভিয়ান মোহন।
আয়োজকদের মতে, সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশন ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে খেলাটির পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং কোচ ও রেফারি প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তিনটি লেভেল-১ কোচিং কোর্স সম্পন্ন করে প্রায় তিরিশজন আন্তর্জাতিক মানের কোচ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
ফেডারেশন কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক কোর্স দেশের স্কোয়াশের মানোন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও দক্ষ কোচ ও খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে। আয়োজকদের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে স্কোয়াশ আরও বিস্তৃত হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
