বঙ্গোপসাগরের পাড়ে সাগরিকায় ২২ গজে লাল-সবুজের পতাকা পতপত করেই উড়ছে। ঢাকায় প্রথম দুই ম্যাচ খেলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ দল।
শেষ ম্যাচটি জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে যে পতাকা উড়িয়ে মেহেদী হাসানরা, সেই পতাকা আরও কিছুদিন উড়ানোর দায়িত্ব লিটন দাসের দলের কাঁধে!
ওয়ানডে মিশন শেষ করে বাংলাদেশের সামনে এখন টি-টোয়েন্টি মিশন। আগামী সোমবার (২৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে শুরু হবে তিন ম্যাচের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুটি ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে, পরেরটি ঢাকায়। ওয়ানডে সিরিজ শেষের আগেই টি-টোয়েন্টি দল চট্টগ্রামে পৌঁছে গেছে।
গত রাতে কেবল পৌঁছেছেন নতুন পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পুরো দিনই ছুটির আমেজে কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা।
যে যার মতো করে আড্ডা দিয়েছেন, বাইরে বেরিয়েছেন কেউ কেউ। শুক্রবার জুমার নামাজ অবশ্য দল বেঁধে পড়েছেন ক্রিকেটাররা।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে কোচিং স্টাফদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার তাই ছুটিতে মত্ত ছিলেন সবাই। আগের দিন যখন ওয়ানডে দল ম্যাচ খেলছিল, পাশের ইনডোরে তখন টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের শামীম হোসেন, রিপন মন্ডলরা অনুশীলন করছিলেন।
শুক্রবার রেস্টে কাটিয়ে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে অনুশীলনে নামবেন লিটন দাসের দল। প্রথম ওয়ানডে হেরে পরের দুই ম্যাচে যেভাবে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ, সেটিই দেখার অপেক্ষা। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন তেমন কিছুই দেখতে চান।
আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে পারফরম্যান্স ভালো ছিল পুরো দলের। আশা করি টি-টোয়েন্টিতে এই পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকবে। আমার ধারণা টি-টোয়েন্টিতে আমাদের পারফরম্যান্সটা আরও ভালো হবে।’
টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের। আর এই সুযোগে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হতে যাচ্ছে গত বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের।
দুজনেই রাজশাহীর হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন। ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট শিকার করেছিলেন রিপন, আর ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেছিলেন সাকলাইন। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেলেন তারা।
তাসকিন-মোস্তাফিজ ছাড়াও পেস বোলিং থেকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে নাহিদ রানাকে। ফলে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন তানজিম সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে থাকবেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন।
বোলিং লাইনআপ নিয়ে হাবিবুল বলেন, ‘আমাদের এখন যে বোলিং লাইনআপটা আছে, খুব ভালো। ব্যাকআপ তৈরি করা খুব দরকার। আর এই বছর আমাদের অনেক খেলা। তাই আমরা যদি ব্যাকআপ তৈরি না করতে পারি, তাহলে সমস্যায় পড়তে হবে।’
এর বাইরেও রিপন ও সাকলাইনকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন বাশার। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, যে দুইটা ছেলে এসেছে, তারা দুজনই ভালো ফর্মে আছে। ওদের একটু সুযোগ করে দেওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
বোলিংয়ের পাশাপাশি সাকলাইন লেট অর্ডারে ভালো ব্যাটিং করতে পারে। তাকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি। সাকলাইনকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শোনালো বাশারের কণ্ঠ। তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলার খুব বেশি নেই, যারা ব্যাটিং করতে পারে। বোলিং অলরাউন্ডার আমাদের একটা ঘাটতি আছে। সে ভালো ব্যাটিং করতে পারে। বোলিংটা আমরা ইমার্জিংয়ে দেখেছি, বিপিএলেও দেখেছি। আমাদের মনে হয়েছে, এই ফরম্যাটের জন্য ওর বোলিংটা কার্যকরী হতে পারে।’
রানের মধ্যে থাকলেও ইনিংসগুলোকে বড় করতে পারছিলেন না লিটন। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ১৯ ইনিংস ও ৯১৭ দিনের অপেক্ষার পর ফিফটির দেখা পেয়েছেন শেষ ওয়ানডেতে। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৮২ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে লিটনের এমন একটি বড় ইনিংস খেলা স্বস্তির খবরই।
যদিও ১৯ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া লিটনের সঙ্গে ম্যাচের আগের দিন লম্বা মিটিং করতে দেখা যায় হাবিবুল বাশার সুমনকে। সেই মিটিং কী নিয়ে ছিল, সেটি অবশ্য জানা যায়নি।
হাবিবুল কেবল বললেন, ‘আমরা ক্রিকেট নিয়েই আলাপ করেছি। লিটনকে তো আমি অনেক দিন ধরে চিনি। আর লিটনের মতো ব্যাটসম্যান বেশিদিন অফ ফর্মে থাকে না। টোটকা কিছু না, খুব সিরিয়াস আলাপও ছিল না।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
