রাত ১২:২৬, শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

ব্যাট তুলে রেখে এবার রিয়ালিটি শো’তে অভিনয় করলেন বিশ্ব টেনিসের রাজা রজার ফেদেরার। ডিসকভারি চ্যানেলের একটি নতুন সিরিজে একসঙ্গে দেখা যাবে বিয়ার গ্রিলস ও রজার ফেদেরারকে। সিরিজের নাম- রানিং ওয়াইল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস। এটি মূলত রিয়ালিটি শো।

অভিনয় করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ফেদেরার বলেন, ‘টেনিস কোর্টে আমাকে অনেকে কঠিন প্লেয়ার হিসেবে দেখেছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই পাহাড় আর ভয়ঙ্কর জঙ্গলের মাঝে আমি প্রচণ্ড ভয়ে রয়েছি।’ আর ফেদেরারের মুখে কথাগুলো শুনে হেসে উঠেছিলেন বিয়ার গ্রিলস। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে এই পাহাড়টাকে দেখলে সুন্দরী বলে মনে হবে। কিন্তু এই পাহাড়ের মাটিতে পা রাখলেই বোঝা যাবে, এখানে একটা রাত কাটানো কতটা ভয়ঙ্কর! রজার ফেদেরার, এবার জীবনের সব থেকে কঠিন ম্যাচটার জন্য রেডি হোন।’

এটি মূলত রিয়ালিটি শো। সিরিজের নাম- রানিং ওয়াইল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস। সুইস আল্পসের একটা অংশে একসঙ্গে থাকবেন দুজনে। বলা ভাল, ‘সারভাইভ’ করবেন। সিরিজের শুটিং হয়ে গেছে। সেখানে একটা সময় বিয়ার গ্রিলসের সঙ্গে পাহাড়ে চলতে চলতে বরফের নিচে থাকা মরা মাছের চোখ খুবলে খেতে হয়েছে টেনিস সম্রাট ফেদেরারকে। ঠিক যেমন বিয়ার গ্রিলস পাহাড়ে-জঙ্গলে থাকাকালীন করে থাকেন আর কী!

ফেদেরারকে কখনও আবার বরফের মতো ঠাণ্ডা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এত ঝক্কি পোহানোর পর ফেদেরার বলছেন, আমি সব সময় টিভি শো-তে বিয়ারকে এসব আজেবাজে জিনিস খেতে দেখেছি। কিন্তু এগুলো কখনও আমাকেও খেতে হবে, সেটা ভাবিনি। বরং মনে মনে ভাবতাম, জীবনে কোনোদিন খেতে না পেলেও এগুলো খাব না।

হকিকে গুডবাই জানালেন চয়ন

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার। এশিয়ান গেমসই হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ আসর। তবে অনেকেই তখন বিশ্বাস করেননি। ভেবেছিলেন রাগে-ক্ষোভে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু না, সবাইকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ শেষে অবসরটা নিয়েই ফেললেন পেনাল্টি স্পেশালিষ্ট মামুনুর রহমান চয়ন। ভবিষ্যতে ফেডারেশনের অনুরোধেও জাতীয় দলের জার্সি আর গায়ে তুলে নেবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি। তার এ শূণ্যতা অনেক দিন ভোগাবে জাতীয় দলকে। ম্যাচ শেষে দু’দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের ষ্টিক তুলে গার্ড অব অনার জানান প্রায় দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ তারকা হকি খেলোয়াড়কে। এরপর মাঠেই তার হাতে জাতীয় পতাকা আাঁকা ক্রেষ্ট তুলে দেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক আবদুস সাদেক। আগামীকাল এশিয়ান গেমস হকির সমাপনী দিনে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে চয়নের হাতে। তার নেতৃত্বেই মার্চপাষ্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা।

এক যুগ আগে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে গড়ানো চয়নের বয়স মাত্র ৩০। এরচেয়েও অধিক বয়সে হকি খেলা সম্ভব। বাংলাদেশ দলেই আছেন তেমন বয়স্ক প্লেয়ার। অথচ ফিটনেস থাকার পরও হঠাৎ করেই কেনো তিনি অবসরের ঘোষণা দিলেন, সেটা কারো বোধগম্য নয়। তবে অন্য কোনো কারনে নয়, নিজ সন্তানকে সময় দেয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় বলে দিয়েছেন বলে জানালেন চয়ন। বিকেএসপি থেকে উঠে আসা এ হকি তারকার জীবনে কোন অতৃপ্তি নেই, ‘হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। চারটি এশিয়ান গেমস খেলার স্বপ্ন ছিল, সেটা পূরণ হয়ে গেছে। আমি তৃপ্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে। আমার আর কোনো ইচ্ছে নেই। হকি আমাকে অনেক দিয়েছে। হকি খেলেছি বলেই আমি চয়ন আজ সবার কাছে পরিচিত। দেশের সেরা দশজন তারকা খেলোয়াড়ের নাম উঠে আসলে সেখানে আমার নামটিও নেয় মানুষ। আমি হকি না খেললে হয়তো কেউ আমাকে চিনতো না।’

বিদায়ের মুহূর্তটা স্মরণ করে এ তারকা বলেন, ‘আমি আর ন্যাশনাল টিমে খেলতে পারবো না- এটা ভেবেই খুব খারাপ লাগছে। গতকাল রাত থেকেই আমি ঘুমাতে পারিনি। কারন ন্যাশনাল টিমের ফ্ল্যাগটা আর আমার বুকে থাকবে না। কিন্তু আমার সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা আজ যে সম্মান দিয়েছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ।’

অবসর নেয়ার মতো বয়স যে এখনো হয়নি সেটা অকপটেই স্বীকার করে নিলেন চয়ন, ‘আমি হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো কিছু দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু ছেলের কারনেই অবসর নিচ্ছি। তিন বছর বয়সী আমার ছেলেকে যখনি ভিডিও কল দেই তখনি ও মন খারাপ করে থাকে। এখন আমি পুরোটা সময় আমার সন্তানকে দিতে চাই।’

ক্যারিয়ারের স্মরনীয় মুহূর্ত হিসেবে ওয়ার্ল্ড হকি লীগে চীনের বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টাকে আখ্যায়িত করেন চয়ন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে কাতার এশিয়াড দিয়ে শুরু। এরপর ২০১০ সালে গুয়াংজু ও ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়াডে অংশ নিয়েছেন তিনি। চয়নের আগে একমাত্র হকি খেলোয়াড় হিসেবে চারটি এশিয়াডে অংশ নেয়ার কৃতিত্ব ছিল ডিফেন্ডার মুসা মিয়ার। আর তিনটি এশিয়াডে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক খেলোয়াড় জামাল হায়দার, মুসার ভাই ইছা মিয়া ও হাবুলের।

হকিতে ৬ষ্ঠ স্থানই পেলো বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের হকি ইভেন্টে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে ৬ষ্ঠ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের। আজ শনিবার জিবিকে স্পোর্টস এরিনার হকি গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটায় শুরু হওয়া এ ম্যাচে কোরিয়ানদের সামনে পাত্তাই পায়নি লাল-সবুজরা। এ ম্যাচটি আরো একটি কারনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল শিটুলবাহিনীর কাছে। কারণ দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মামুনুর রহমান চয়ন এ ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলের জার্সী তুলে রাখবেন। লক্ষ্যছিল, অভিজ্ঞ এ ফরোয়ার্ডের বিদায়ী ম্যাচে কম গোলে হেরে তাকে সম্মান জানানোর। কিন্তু সেটিও হয়নি।

কোরিয়ার বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমনে শুরু থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল গোপিনাথনের শিষ্যরা। বল দখলের লড়াইয়ের হিসেব কষলে আশি শতাংশ সময় বল ছিল কোরিয়ানদের দখলে। বাংলাদেশ মাঝে মধ্যে বল পেয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করাতো দূরে থাক, ডি-বক্সের সামনেও যেতে পারেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাত্র দশ মিনিটেই এগিয়ে যায় এশিয়ার পরাশক্তিরা। সিনইউ’র হিট থেকে পাওয়া বল কানেক্টে গোল করেন কিম জাংহু (১-০)। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুন করেন সিউ ইনউ (২-০)। প্রথম কোয়ার্টারে দুই গোল করা কোরিয়ানরা দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও দেখা পায় আরো দুই গোলের। ম্যাচের ২৬ মিনিটে জিয়ং জুনউ ফিল্ড গোল করে গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান। এক মিনিট পরেই পিসি পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়ে স্কোর লাইন ৪-০ করেন জাং জংইউন।

দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশের সীমানায় আক্রমনের ধারা অব্যাহত রাখে প্রতিপক্ষ দলের ফরোয়ার্ডরা। ৩৩ মিনিটে আরো একটি পেনাল্টি স্ট্রোক পেয়ে যায় কোরিয়া। সেই পিসিটাও কাজে লাগান অধিনায়ক জাং মানজাই (৫-০)। তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে দলের হয়ে ৬ষ্ঠ ও ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের দেখা পান জাং জংইউন (৬-০)। বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুঁকে দেন লি জুংগিয়ান (৭-০)। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে আসে এ গোলটি।

এর আগে, গত এশিয়ান গেমসেও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেবার ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল লাল-সবুজরা।

হকিতে লক্ষ্য এবার পঞ্চম স্থান

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু লক্ষ ঠিকই পূরণ করেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। জায়গা করে নিয়েছে পঞ্চম স্থান নির্ধারনী লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী শনিবার জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে বিকেল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। শক্তির বিচারে দক্ষিণ কোরিয়া বেশ এগিয়ে। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও তাদের অবস্থান বেশ শক্ত। ১৪তম স্থানে আছে কোরিয়ানরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ নম্বরে। র‌্যাংকিংয়ের এ তফাতটাই দুই দলের শক্তির পার্থক্য নিরুপনের জন্য যথেষ্ট।

বাংলাদেশ দলের কোচ গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তি এবার এশিয়ান গেমস হকির পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থানকে টার্গেট করেই ইন্দোনেশিয়া এসেছিলেন। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ওমানের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর কাজাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধেও পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে শিটুল বাহিনী। তবে মালয়শিয়া ও পাকিস্তানের কাছে হেরে তিন নম্বরে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করে জিমি-চয়নরা।তিন ম্যাচে জিতে প্রথম টার্গেটটা পূর্ণ হয়েছে লাল-সবুজদের।এবার স্থান নির্ধারনী ম্যাচে জয় চাইছেন কোচ গোপিনাথন। পঞ্চম স্থান নিয়েই দেশে ফেরার লক্ষ্য তার।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পরদিন শিষ্যদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ। আজ বৃহস্পতিবার অনুশীলন করেছেন পুরোদমে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে যে ভুলগুলো করেছিল জিমি-চয়নরা, সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা করছেন অনুশীলনে।

বাংলাদেশের অধিনায়ক ফরহাদ আহম্মেদ শিটুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য পঞ্চম স্থান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো আর করতে চাই না। এখন লক্ষ্য স্থাণ নির্ধারনী ম্যাচে ভালো খেলে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করা।’

এদিকে, স্পিড-ফিটনেস-ট্যাকটিকস, হকিতে ম্যাচ জয়ের তিন প্রধান বিষয়। তবে এগুলো থাকলেই যে জয়ের নিশ্চয়তা থাকবে বিষয়টি তেমনও নয়। সতীর্থদের রসায়নটাও গুরুত্বপূর্ণ। পুরো খেলায় দাপট দেখিয়েও কখনও কখনও ভালো দলের নাম যোগ হতে পারে পরাজিতদের কাতারে। এর অন্যতম কারণ বোঝাপড়ার অভাব। বাংলাদেশ দলের মিডফিল্ডার সরোয়ার হোসেন জানান, এক্ষেত্রে মানসিক ব্যাপারটাও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তা না হলে, দুর্বল দলের বিপক্ষে তারা যে পজিশনে গোল পান বড় দলের বিপক্ষে সেখানে কেনো ব্যর্থ হবে বাংলাদেশ।

ব্যর্থতার দায় একে অন্যের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস থেকে এবার শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে একটি ইভেন্টেও কোন পদকের দেখা পায়নি লাল-সবুজরা। প্রত্যাশার ইভেন্ট মহিলা কাবাডি, শ্যূটিং ও গলফ জুড়ে ছিল শুধুই হতাশা। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এছাড়া ভারোত্তোলন, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্সের মতো ইভেন্টগুলো থেকে হিটে বাদ পড়ে লজ্জায় মুখ লুকিয়েছেন অ্যাথলেটরা। এমন হতাশাজনক পারফর্ম্যান্সের পর অংশগ্রহনকারীরা দোষারোপ করছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিবাবক অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ)। আর অলিম্পিক দোষারোপ করছে অ্যাথলেটদের। উভয় পক্ষের এ দোষারোপের মধ্যেই শেষ হয় বাংলাদেশের এবারের এশিয়ান গেমস মিশন। কিন্তু ব্যর্থতার মূল কারন উদঘাটনে কারোই যেনো কোন ভূমিকা নেই। ভুলটা আসলে কোথায়? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন না কেউ। 

আমাদের পাশের দেশ ভারত যখন একের পর এক স্বর্ণ পদক জিতে উৎসবে মাতছে, তখন আমাদের হিসেবের খাতায় প্রাপ্তি একেবারেই শূণ্য। অতিথি হয়েই থাকতে হয়েছে গেমসে। পদক তালিকায় এবারো শীর্ষে আছে চীন। এরইমধ্যে ১০৬ ডিসিপ্লিনের স্বর্ণ পদক জয় করেছে তারা (আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত)। গত আসরের মতো এবারো তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সিঁড়িতে এক কদম এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের সংগ্রহ ৫৩টি স্বর্ণসহ ১৬৩টি পদক। দক্ষিণ কোরিয়া ৩৭টি ডিসিপ্লিনে সেরা হয়ে তিন নম্বরে রয়েছে। আর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ৩০টি স্বর্ণ পদক নিয়ে তালিকার চার নম্বরে আছে।

আমাদের পাশের দেশ ভারত ১১টি স্বর্ণসহ ৫৪টি পদক জিতে নিয়ে সেরা দশে অবস্থান করছে। ইন্দোনেশিয়ার মতো গরীব একটি রাষ্ট্র যদি একের পর এক স্বর্ণ পদক জিততে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? পিছিয়ে থাকতে হবে কেনো বাংলাদেশের? ভারত যদি দিন দিন উন্নতি করতে পারে তাহলে আমরা কেনো পারিনা? এমন প্রশ্ন আসলে সবার মনেই। উত্তর নেই কারো কাছে, শুধু প্রশ্নের পাহাড়। আসলেই কি উত্তর নেই? না কি জেনেও আমরা হাঁটছি ভুল পথে?

এবারের আসরে আসার অন্তত সাত মাস আগেই বিওএ অ্যাথলেটদের অনুশীলন শুরু করার কথা জানিয়েছিল। কয়েকটি ইভেন্টে তারা জোড় দিয়ে ক্যাম্প শুরুও করেছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটে মাঝ পথেই ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্প নিয়ে এমন ধোঁয়াশার কারনে মনোকষ্ট ছিল অংশগ্রহনকারীদের মধ্যেও। সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর নিজের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে বলেছিলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আসার মাত্র এক মাস আগে ক্যাম্প শুরু করেছিলাম। যেটা মোটেও পর্যাপ্ত ছিল না আমার জন্য। আরো বেশী করে অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিওএ সেটা করেনি। ভেবেছিলাম এবার সাত-আট মাস সময় পাচ্ছি। ভালো কিছু করতে পারবো। কিন্তু না, বিওএ’র উদাসীনতার কারনে তা আর হয়নি।’

ক্ষোভ ছিল এসএ গেমসের ভারেত্তোলন ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্ত’র কণ্ঠেও। চলতি এ আসরের মার্চপাষ্টে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী এ অ্যাথলেট জানান, ‘বিওএ আমার অনুশীলনের ব্যবস্থাই করেনি। যতোটুকু করেছি নিজের চেষ্টাতেই করেছি। বিওএ যদি অনুশীলনের ব্যবস্থা করতো, তাহলে আরো ভালো কিছু করতে পারতাম।’ আসলে কতোটুকু ভালো বা উন্নতি করতেন সাঁতারু সাগর কিংবা মাবিয়ারা, সেটা পরের বিষয়। তার আগে বিওএ’র উচিত ছিল আগে থেকেই ক্যাম্প শুরু করা এবং ইভেন্ট ধরে উন্নতির চেষ্টা করা।

তবে অ্যাথলেটদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ডেপুটি সেফ দ্যান মিশন একে সরকার, ‘এখানে এককভাবে বিওএ’র দোষ দিলে চলবে না। অ্যাথলেটরও নিজ উদ্যেগে ভালো করার মানসিকতা থাকতে হবে। তারা শুধু অংশগ্রহন করার জন্যই আসে। দেশকে কিছু দেয়ার চিন্তা তাদের মাথায় কাজ করে না। আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনিভাবে অ্যাথলেটদেরও দায়িত্ব নিয়ে অংশগ্রহন করা উচিত।’

পাকিস্তানের কাছে কাঙ্ক্ষিত পরাজয়

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকিতে পাকিস্তানের অবস্থান খুবই শক্ত। র‌্যাংকিংয়ের দুই স্থানে দেশটি। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আছে ১৩ নম্বরে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এশিয়াতে সাত ও বিশ^ র‌্যাংকিংয়ে ৩৩ নম্বর স্থানে। শক্তির ফারাকটা যে কতোটা সেটা র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান দিয়েই বুঝা যাচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিবেশী এ দলটির বিরুদ্ধে কখনোই পেরে উঠেনি লাল-সবুজরা। সফলতা বলতে ১-০ গোলে হারা। সেটা ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপে। চলতি এশিয়ান গেমসেও টার্গেট ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কম গোলে হারার। কিন্তু সেটা আর হয়নি। নিজেদের দূর্বল রক্ষণভাগের কারনে ৫-০ গোলের বড় লজ্জার হার নিয়েই গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের ফিরতে হয়েছে ড্রেসিং রুমে।

এ ম্যাচে হারলেও পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ নিশ্চিত করা জিমি-চয়নরা আগামি ১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে জাপান-কোরিয়া ম্যাচে পরাজিত দলের।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন হারের পরও সন্তুষ্ট কোচ গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তি, ‘ওরা (পাকিস্তান) বিশ্বমানের টিম। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় মিস ছিল হতাশাজনক। প্রস্তুতি ম্যাচে এগুলো কাটিয়ে উঠার চেষ্টা ছিল আমাদের।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে বাংলাদেশ। রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে আতিক মোহাম্মদ দারুন এক ফ্লিকে নিশানা ভেদ করেন (১-০)। পিছিয়ে পড়া শিটুলবাহিনী ঘুড়ে দাঁড়ানোর কোন সুযোগই পায়নি। কিছু বুঝে উঠার আগেই আরো এক গোল হজম করতে হয় লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোলটি করেন পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড মোবাশসের আলী (২-০)।

প্রথম কোয়ার্টারে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা পাকিস্তানীরা যেনো গোলের ক্ষুধায় উন্মত্ত্ব ছিল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে মাঠে নামার দশ মিনিটের মধ্যে গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে যান মোবাশসের আলী (৩-০)। টানা দুই গোল করা এ স্কোরারের সামনে ছিল হ্যাটট্রিকের সুযোগ। কিন্তু সেটা আর কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে পাকিস্তান আরো চেপে ধরেছিল লাল-সবুজদের। এ অর্ধের দুই কোয়ার্টারে আরো দুই গোল আদায় করে নেয় এশিয়ার দুই নম্বর দলটি। তৃতীয় কোয়ার্টারের ৬ মিনিটেই স্কোর লাইন ৪-০তে নিয়ে যান আলী শান। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুঁকে দেন আতিক (৫-০)। তবে শেষ কোয়ার্টারে একটি পিসি পেলেও সেটা কাজে লাগাতে পারেনি গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যরা।

দলীয় অধিনায়ক ফরহাদ আহম্মেদ শিটুল, ‘আমাদের লক্ষ পঞ্চম স্থান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এরচেয়ে ভালো খেললেও আমরা গ্রুপে তৃতীয়ই থাকতাম। এখন লক্ষ্য স্থাণ নির্ধারনী ম্যাচে ভালো খেলে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করা।’

রাসেল মাহমুদ জিমিও তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন, ‘আমরা ভালো খেলেছি। যেখানে সাত আট গোল খাওয়ার কথা, সেখানে পাঁচ গোল খেয়েছি। প্রথম গোলটা ছিল অপ্রত্যাশীত।’

এই পরাজয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বর জাপান ও কোরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে পঞ্চমস্থানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ।

হতাশায় গেমস শেষ বাংলাদেশের

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ন গেমসের গত কয়েকটি আসর থেকে পদক নিয়েই দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে কাবাডিতে পদক ছিল নিশ্চিত। কিন্তু এবার শুধুই হতাশা। একরাশ দু:খ নিয়ে শূণ্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয়া লাল-সবুজের পতাকাবাহিরা কোন ইভেন্টেই আশাব্যঞ্জক সাফল্য পায়নি। উল্টো ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে ছিল লজ্জাজনক পারফর্ম্যান্স।

ট্র্যাকে কিংবা কোর্টে, সব জায়গাতেই অ্যাথলেটরা ছিলেন বিবর্ণ। পারফরমেন্স মোটেই ছিল না আশা জাগানিয়া। শুধু লজ্জাতেই ফেলেছে দেশকে। বিশেষ করে সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, শ্যূটিং, ভারোত্তোলন, গলফ, রেসলিং ও রোয়িংয়ের শুরুতেই বাদ পড়েন অ্যাথলেটরা। চূড়ান্ত পর্বে লড়াইয়ে যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেননি। তবে, পদক না পেলেও এবার জাকার্তায় এসে নিজেদের উন্নতির গ্রাফটা ঠিকই প্রমান হয়েছে ফুটবল, হকি আর আরচ্যারিতে। আর সম্ভাবনাময় ইভেন্ট কাবাডিতে (মহিলা) গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়ে নিজেদের জাতীয় খেলার অবস্থা যে কোথায় গিয়ে ঠেঁকেছে, সেটাই প্রমান করেছেন মালেকারা।

চলতি এ আসরের ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেয় লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক এবং কর্মকর্তা মিলে বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। বিশাল এ বহর নিয়ে বেশ কয়েক ধাপে জাকার্তায় এসেছিল তারা। অথচ গেমস শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ ক্রীড়াবিদ ফিরেছেন দেশে।

ইন্দোনেশিয়ায় এখন হকি দল ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ নেই। হকি ইভেন্টেও পদকের কোন সম্ভাবনা নেই। জেগে আছে শুধু স্থান নির্ধারনী ম্যাচ জয়ের আশা। সেটাও পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থানের জন্য। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ একটি পদকও দেশে নিয়ে ফিরতে পারেনি। এটা যে কতোটা লজ্জা আর কষ্টের, সেটা হয়তো অনুধাবন করতে পারেননি বিওএ কর্মকর্তারা।

কাবাডি ইভেন্টে প্রতিবারই একটা পদক জেতে বাংলাদেশ। আগের আসরগুলোতে নিদেনপক্ষে একটি ব্রোঞ্জ এলেও এবার একেবারেই শূণ্য হাতে ফিরতে হয়েছে। তিন খেলার সব ক’টিতে হেরে বিদায় নিয়েছে চার বছর আগের ব্রোঞ্জ জয়ীরা। অন্যদিকে পুরুষ কাবাডি দল কিছুটা সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। সাঁতার থেকে পদকের স্বপ্ন না দেখলেও নিজেদের উন্নতিটা প্রমান করবেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু হিটেই বাদ পড়েছেন দেশসেরা এই দুই সাঁতারু। সাগরতো ২০০ মিটারে পুলেই নামেননি অনুশীলন করতে না পারার দোহাই দিয়ে।

শ্যূটিং রেঞ্জেও গ্রাস করেছিল হতাশা। দেশসেরা শ্যূটারররা ইন্দোনেশিয়া এসে পদক জয়তো দূরের কথা, নিজেদের সেরাটাও দিতে ব্যর্থ হন। আবদুল্লাহেল বাকী, রিসালাতুল ইসলাম, উম্মে জাকিয়া সুলতানা, শারমিন আক্তার রত্নারা হতাশ করেছেন পালেম্বাংয়ের কাজাবারিং শ্যূটিং কমপ্লেক্সে।

এবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চপাষ্টে লাল-সবুজের পতাকা ছিল যে অ্যাথলেটের কাঁধে, সেই মাবিয়ার পারফর্ম্যান্স‌ই সবচেয়ে বাজে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতেও পারেননি তিনি। দেশসেরা এ ভারোত্তোলক ব্যর্থ হন স্ন্যাচ আর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ইভেন্টে। বার বার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সামর্থ্যরে অধিক ভার তুলতে ব্যর্থ হন গোহাটি এসএ গেমসে সোনা জেতা এই তারকা ভারোত্তোলক।

বাস্কেটবলের অবস্থা ছিল আরো করুণ। টানা দুই ম্যাচে হেরেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। কুস্তির শুরুতেই শেষ হয়ে যায় লাল-সবুজদের স্বপ্ন। মোহাম্মদ আলী আমজাদ ও শরৎ চন্দ্র রায়ের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেন শিরিন সুলতানা। বিচ ভলিবলে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যায় লাল-সবুজরা। ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডের লড়াইয়ে নামার পর প্রমানিত হয়েছে বাংলাদেশী অ্যাথলেটরা যে দিনদিন কতোটা পিছিয়ে পড়ছে। আবু তালেব ও সুমি আক্তাররা হিটেই বাদ পড়েছেন অ্যাথলেটিক্স থেকে। তাদের পারফর্ম্যান্স ছিল আরো হতাশার।

তবে এতো হতাশার মধ্যেও আশা জাগিয়েছে ফুটবল, হকি ও আরচ্যারি ইভেন্ট। পদক না আসলেও এ তিন ইভেন্টে যে বাংলাদেশ আগের চেয়ে উন্নতি করেছে সেটা প্রমান হয়েছে।

এশিয়াডে ভারতীয় অ্যাথলেটদের প্রেম!

চলতি জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দুই অ্যাথলেট লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছেন, এমন গুঞ্জনই ছড়িয়েছে। তাঁরা হলেন জ্যাভলিন থ্রোতে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া ‌ও সোনাজয়ী নারী কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাত। তবে তাদের দু’জনই এই অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন৷

সোমবার এশিয়াডের নবম দিনে জ্যাভলিন থ্রোতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন ভারতের নীরজ চোপড়া। তাঁর সোনা জয়ের পরই আবেগঘন টুইট করেন আরেক সোনাজয়ী ভারতীয় অ্যাথলেট ভিনেশ ফোগাত। টুইটে সোনাজয়ী কুস্তিগীর লেখেন, ‘কামাল করেছে নীরজ। ফাইনালে পারফরমেন্স করতে হলে নীরজের মতোই করা উচিত৷’ এর আগের টুইটে নীরজের জাতীয় রেকর্ড ভাঙা নিয়ে ভিনেশ লেখেন, ‘ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে পারফরমেন্স করা আর জাতীয় রেকর্ড ভাঙার কায়দা, তোমার থেকে শেখা উচিত৷’

সমবীর রাথি ও ভিনেশ ফোগাত

এদিকে, তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৮৮.০৬ মিটার দূরত্বে জ্যাভলিন থ্রো করেন নীরজ। জাতীয় রেকর্ড ভেঙে দেশকে সোনা এনে দেন তিনি। তবে অল্পের জন্য এশিয়াড়ের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। মাত্র ১.০৯ মিটার থেকে দূরে থেমে যান ভারতীয় এই অ্যাথলেট৷

নীরজের সোনা জয়ের পরই টুইট করে তাঁকে অভিনন্দন জানান ভিনেশ। এই টুইটের পরই জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে ‌ওঠে। সাথে ‌ওঠে তাদের মধ্যে প্রেমের গুঞ্জন‌ও। এর আগে কুস্তিতে ভিনেশের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন নীরজ। ঠিক এক সপ্তাহ আগে মেয়েদের কুস্তির ফাইনালে জাপানি খেলোয়াড় যুকি ইরে-কে হারিয়ে সোনা জেতেন ভিনেশ। সেই ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে দেখেছিলেন নীরজ। তাতে তাঁদের প্রেমের গুঞ্জনটি আর‌ও ডালপালা গজায়।

এই সব ঘটনার পরই নিজের এনগেজমেন্টের কথা জানিয়ে দেন ফোগাত। কুস্তির আখড়ায় তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ সমবীর রাথিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন এশিয়াড়ে সোনাজয়ী প্রথম ভারতীয় নারী ফোগাত। এদিকে, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী কুস্তিগীর সমবীর নর্দান রেলওয়ের ট্রেন টিকিট চেকারের চাকরি করেন৷

বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াই কাল

ইন্দোনেশিয়ার থেকে প্রতিনিধি

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়ে ভাবছেনা বাংলাদেশ। লক্ষ্য ভালো খেলা উপহার দেয়া। এশিয়ান গেমস হকিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামীকাল মঙ্গলবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কাগজে-কলমে এই ম্যাচের ফল গোবিনাথানের শিষ্যদের তুলে নিতে পারে সেমিফাইনালে।

গ্রুপ বি’তে চার ম্যাচ শেষে মালয়েশিয়ার পয়েন্ট ৯, বাংলাদেশেরও তাই। ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে পাকিস্তান। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ওমানের কাছে মালয়েশিয়া হারলে, আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্র করলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারালে তো কথাই নেই। শেষ চারে জায়গা হবে জিমি-চয়নদের। তবে এর সবই কাগজ-কলমের হিসেব। বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। পাকিস্তানকে হারানোর সামর্থ্য নেই গোবিনাথানের শিষ্যদের।

 

জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবছেন না কোচ। জানান ভালো খেলার কথা, 'ইন্দোনেশিয়ায় ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ্য পুরণ করেছি। ষষ্ঠ স্থান পেয়েছি। এখন যা হবে সেটা আমাদের দলকে শুধুই এগিয়ে নে‌ওয়া। আসলে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়; কথা হলো আমরা ভালো খেলতে চাই।'

এবারের গেমসে প্রতিটি ম্যাচেই হতাশার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করার ব্যর্থতা। এক আশরাফুল ছাড়া বাকীদের স্টিকে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। অনুশীলনে যদিও কাজ হচ্ছে, তবে ম্যাচে তার প্রভাব পড়ছেনা। সেই আশরাফুল ইসলাম‌ও বললেন ভালো খেলার কথা, 'আমাদের কাছে পাকিস্তানের খেলার ফুটেজ আছে। আমরা সেই ফুটেজ দেখে োদের বিপক্ষে করণীয় কাজ করার চেষ্টা করবো। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা ভালো খেলার চেষ্টাই করবো।'

হতাশার মধ্যেও স্বপ্নজাল বুনছেন সুমী

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে 

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে আবারো হিটেই বাদ পড়লেন বাংলাদেশী স্প্রিন্টার সুমী আক্তার। বির্বণ হয়েছে তার স্বপ্ন। ৮০০ মিটারে আজ সোমবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু দৌড় শেষ করলেন ২ মিনিট ২৬.৫৯ সেকেন্ডে। তাতে এক নম্বর হিটে সাত জনের মধ্যে সবার পেছনেই ছিল তার নাম। দৌড় শেষ করে অন্যান্য প্রতিযোগিরা যখন ট্র্যাকে বসে বাতাস খাচ্ছিলেন, তখনও দৌড়ে যাচ্ছিলেন লাল-সবুজের পতাকাবাহী এই স্প্রিন্টার। যদিও এটা তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং।

ইভেন্টের হিট রাউন্ড শেষে দেখা গেছে ২০ জন প্রতিযোগির মধ্যে ১৮তম হয়েছেন তিনি! আবু তালেবের পর বাংলাদেশী এই অ্যাথলেটকেও হতাশা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে দেশে। হয়তো আগামীকালের মধ্যেই কোচ রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে ঢাকায় ফিরবেন সুমী ও আবু তালেব। জাকার্তা থেকে হতাশা নিয়ে ফিরলেও নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সুমী। তার লক্ষ এখন এসএ গেমস। আগামী বছর নেপালে অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরের ৮০০ মিটারে স্বর্ণ পদক জয় করতে চান তিনি।

নারী অ্যাথলেট হিসেবে সুমী আক্তার যখন জাকার্তায় আসেন, তখন ৮০০ মিটারে তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং ছিল ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড। উন্নতি চোখে পড়েছে প্রায় ৪ সেকেন্ড। বাংলাদেশী এ অ্যাথলেট যখন নিজের ৪ সেকেন্ড উন্নতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, তখন এশিয়ার অন্য দেশের প্রতিযোগিরা হিট শেষ করেন দুই মিনিট ৪ দশমিক ৩৫ সেকেন্ড সময়ে। হিট রাউন্ডে এক নম্বর হওয়া বাহরাইনের মার্তা ইয়োতার সঙ্গে সুমী’র ফারাকটা যে কতোটা বিশাল, সেটা স্ক্রিনেই ভেসে উঠেছে।

তবুও নিজের টাইমিং এবং উন্নতি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত, ‘এখানে আমরা পদক জিততে আসিনি। আমাদের লক্ষই ছিল নিজেদের সেরাটা দিয়ে উন্নতিটা প্রমান করার। আমাদের মূল লক্ষ এসএ গেমস। আজ ট্র্যাকে নিজের সেরা টাইমিংয়ের ৪ সেকেন্ড আগে শেষ করেছি ৮০০ মিটার। এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। এই টাইমিং ধরে রাখতে পারলে আগামী এসএ গেমসে পদক জিতবই।’ তবে অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন নিজেদের দূর্বলতার কথা, ‘এশিয়ার অন্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা স্পষ্ট। ওদের সঙ্গে আমাদের এ দূরত্বটা কমাতে হলে অনুশীলনে আরো উন্নতি করতে হবে।’

৪০০ মিটারে ১৬ বারের সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও সুমীর কোচ রাজিয়া সুলতানা অনু স্বপ্ন দেখছেন তাকে ঘিরে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি ইভেন্টে খেলে চারটিতেই সোনা সুমির। তাঁর ভালোর জন্য যে কোন একটি বেছে নেয়ার পরামর্শ অনুর,‘ আমার মনে হয়, সুমীর একটি ইভেন্টেই জোর দেয়া উচিত। একটি ইভেন্টে খেললে আরও ভালো করতে পারবে। ৪০০ মিটার বেশ দ্রুত গতির, তুলনায় ৮০০ মিটার ধীর আর কঠিন। সমন্বয় করা কঠিন।’

বাংলাদেশের হকি ও একজন তাহির জামান

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির পঞ্চম স্থান নির্ধারনী ম্যাচ এরই মধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। আগামি ১ সেপ্টেম্বর স্থান নির্ধারনী ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ এখনও অজানা। তবে তার আগে আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামতে হবে লাল-সবুজদের। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাকিস্তান। জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের কোন লক্ষ্য নেই গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের। যত কম গোল হজম করা যায় ততই মঙ্গল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সুখকর কোন উদাহরন নেই বাংলাদেশের। ১৯৮৫ সালে এশিয়া কাপেই সবচেয়ে বড় সাফল্য পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেবার মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সাফল্য ঠিক তার দশ বছর পর। ১৯৯৫ সালে সাফ গেমসে পাকিস্তানের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল লাল-সুবজ জার্সীধারীরা। মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান সবগুলি গোলই দিয়েছিল পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে। দেশের হয়ে দুটি গোল করেছিলেন আব্দুস সাদেক ও মুসা মিয়া।

তাহির জামান

বর্তমানে ওমান হকি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তাহির জামান। গতবছর বাংলাদেশে এসে কোচিং করিয়ে গেছেন। তারা চেয়ে ভালো বাংলাদেশকে আর কেউ চেনার কথা নয়। বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের পার্থক্য নিরুপন করতে গিয়ে পাকিস্তানের এ লিজেন্ড বলেন, ‘ক'দিন আগেও তোমাদের দেশে ঘুরে এসেছি। পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই কিন্তু মানে রয়েছে পিছিয়ে। তবে হ্যাঁ একটা দিকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সেটি হলো তারা ভয়কে জয় করতে শিখেছে। আগে যেমন সারাক্ষন ডিফেন্সিভ খেলায় মনোনিবেশ করতো এখন তারা আক্রমন করতে শিখেছে। বড় ব্যাবধানে পিছিয়ে থাকার পরও রক্ষনাত্মক না থেকে আক্রমনে যেতে চেষ্টা করে।’

বাংলাদেশের মাটিতে খেলেছেন তাহির জামান। প্রতিবারই মোহামেডানের জার্সী গায়ে ছিল তার। প্রতিবারই মোহামেডানের হয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। জার্সী তুলে রাখার পর ঢাকায় এসেছিলেন উষা ক্রীড়া চক্রের কোচ হয়ে। সেবারও চ্যাম্পিয়ন উষা। ওই সময়ের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের তুলনায় তাহির জামান বলেন, ‘আমাদের সময়ে স্কিল ছিল এখন যেটা গতির কাছে পরাজিত। বর্তমান প্লেয়ারদের গতির সাথে স্কিল থাকা জরুরী। তা না হলে ছিটকে পড়বে। আরো একটি ব্যাপার হলো আর্থিক। আমরা ছুটেছি মাঠের জন্য এখন ওরা ছুটে টাকার জন্য।’

একটা সময় এশিয়া শাষন করতো হকি। বর্তমানে ইউরোপ রাজত্ব করছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইয়েস, এশিয়া পিছিয়ে থাকার একটা টেকনিক্যাল কারনও রয়েছে। নুতন নিয়মগুলি আসার আগে থেকেই তারা এটিকে চর্চা করে। এশিয়ায় যখন নিয়মগুলি পালন করতে শুরু করে তখন ইউরোপের ওরা পুরোপুরিভাবে নিয়মগুলি আয়ত্ব করে নেয়। পিছিয়ে থাকার এটিও একটি কারন। সত্যি কথা বলতে গেলে আমরা একটু অলসও বটে। করি-করছি- করবো ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায়। তবে বর্তমান সময়ে পাকিস্তান একটু নড়ে চড়ে বসবে বলেই ধারণা করছি। ইমরান খান পাকিস্তানের হাল ধরেছেন। খেলার মাঠের মতোই তার নেতৃত্বে সচল হবে পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হকি।’

ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হকিতে

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস হকি ইভেন্টে ষষ্ঠ কিংবা পঞ্চম হওয়ার লক্ষ নিয়েই ইন্দোনেশিয়া এসেছিল বাংলাদেশ দল। আজ রবিবার থাইল্যান্ডকে পরাস্ত করার মধ্য দিয়ে সে টার্গেট পূরণ হয়েছে লাল-সবুজ জার্সীধারীদের। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলার দামাল ছেলেরা। আর পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াইয়ে নামবে ১ সেপ্টেম্বর। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ওই ম্যাচে হারলেও ষষ্ঠ স্থানটি নিশ্চিতই থাকবে গোবিনাথনের শিষ্যদের।

এ জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের আগামী আসরের বাছাইপর্ব খেলতে হবে না লাল-সবুজদের। প্রায় বিশ বছর পর আসা সুযোগটি দারুনভাবে কাজে লাগিয়েছেন জিমি-চয়নরা।

জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে ৩-১ গোলের জয় পায় ফরহাদ আহম্মেদ শিটুলবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে আশরাফুল জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি আসে মিলন হোসেনের ষ্টিক থেকে। থাইল্যান্ডের হয়ে হারাপান সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি করেন।

এশিয়ান গেমসে ১৯৭৮ সালে প্রথম অংশ নিয়েই ষষ্ঠ হয়েছিল বাংলাদেশ হকি। এরপর আর উপরের দিকে আসা হয়নি। দিনদিন অবনমনই হয়েছে হকিতে। সবশেষ দু’টি আসরে (২০১০ ও ২০১৪ সালে) অষ্টম হয়েই দেশে ফিরতে হয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর পর ছয়ের দেখা পেল আশরাফুল-জিমি-চয়নরা।

এটি চয়নের শেষ এশিয়ান গেমস বিধায় দিনটিকে স্মৃতির পাতায়ই রাখতে চাইলেন চয়ন, ‘চারটি এশিয়ান গেমসে খেলছি। আগের তিনটিতে কোন সাফল্য নেই। তাই এটিকে আমার জীবনের সেরা গেমস বললে অত্যুক্তি হবে না। এটি আমার একার কৃতিত্ব নয়। দলীয় সাফল্য। আমি দলের একটা অংশ। সকলেরই চেষ্টা ছিল ম্যাচ জয়ের। ২০ বছর পর এমন সুযোগ কেউ নষ্ট করতে চাইনি বলে জান প্রান বাজি রেখে খেলেছি।’

ম্যাচে দু’গোল করা উদীয়মান পিসি মাস্টার আশরাফুল জানান, ‘আমাদের চেয়ে থাইল্যান্ড অনেক বেশি উন্নতি করেছে। যে থাইল্যান্ডকে বলে কয়ে হারাতাম আমরা, সেই দলটির বিপক্ষে প্রথম ত্রিশ মিনিট গোলশুন্য ছিলাম। কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও আমরা মানসিকভাবে জেতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। দলের জয়ে সকলেই খুশি। আগ থেকেই আমাদের বোঝাপড়া ছিল।’

নিজেদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই কোয়ার্টারে কোনো গোলের দেখাই পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে তৃতীয় কোয়ার্টারে আসে সফলতা। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ শিবিরে হাসি ফুঁটিয়ে তুলেন আশরাফুল। প্রথম পিসিটাই কাজে লাগান এ পিসি মাস্টার। জিমি-সারোয়ার কম্বিনেশনে আশরাফুরের দারুণ ড্রাগ অ্যান্ড ফ্লিকে গোলের দেখা পায় লাল-সবুজরা (১-০)।

ঠিক ছয় মিনিট পরেই গোলের গ্রাফটা আরো একধাঁপ উপরে নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে প্র্রশান্তি নিয়ে আসেন সেই আশরাফুল। একই কম্বিেিনশনে দ্বিতীয় পিসি থেকে গোল করে থাইল্যান্ডকে চাপের মুখে ফেলে দেন তরুন এ ফরোয়ার্ড (২-০)।

শেষ কোয়ার্টারের ৩ মিনিটে একটি গোল শোধ দেন থাইল্যান্ডের হারাপান বুরিরাক (২-১)। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুল- মিমোর আদান প্রদানে বল পেয়ে যান মিলন হোসেন। থাইল্যান্ডের গোলকীপার শুয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে‌ও ব্যর্থ হন (৩-১)। এরপর আর কোন গোল না হলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গোবিনাথনের শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর গেলা কোচ গোবিনাথান বলেন, ‘থাইল্যান্ড যে এত উন্নতী করেছে তা বুঝতে পারিনি। ছেলেরা জয় পেয়েছে তাতে আমি খুশি। কিন্ত মাঠের খেলায় সন্তষ্ট হতে পারিনি। মুলত বাংলাদেশের ’দরকার দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষন। তোমাদের প্রতিভা আছে বিকশিত হতে সময়ের প্রয়োজন।’

আবারো হিটেই বাদ শ্যূটার সাব্বির

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের শ্যূটিং ইভেন্টের বাছাই পর্ব থেকেই আবারো বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আজ রবিবার স্কিট ইভেন্টের হিট রাউন্ড থেকে বাদ পড়েন সাব্বির হাসান। আর আরচ্যারির পুরুষ কম্পাউন্ড ইভেন্টে এলিমিনেশন রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন জাবেদ আলম, অসিম কুমার ও আবুল কাশেম মামুন। শ্যূটার সাব্বির হাসান দ্বিতীয় দিনের মতো রেঞ্জে নেমেছিলেন স্কিট ইভেন্টে।

কিন্তু দ্বিতীয় দিনেও সুবিধা করতে পারেননি। হিট রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয় তার। ৩০জন শ্যূটারের মধ্যে হয়েছেন ২৭তম। ১২৫ পয়েন্টের মধ্যে করেছেন মাত্র ৯৫ পয়েন্ট। শনিবার শুরু হওয়া এ লড়াইয়ের প্রথম দিনেই তিন শট নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলার পথটা রুদ্ধ করে ফেলেন। প্রথম শুটে মাত্র ১৮ পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় শুটে অবশ্য নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। ২৫-এর মধ্যে করেছিলেন ২৩ স্কোর। কিন্তু তিন নম্বর শুটে গিয়ে ১৭ স্কোর তুলে নিয়ে একেবারেই পিছিয়ে পড়েন। প্রথম দিনেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সাব্বির হাসানের বিদায়।

আজ সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো রেঞ্জে নেমেও সুবিধে করতে পারেননি। চতুর্থ শুট নিয়ে তুলেছিলেন ১৯ এবং শেষ শুটে পান ১৮ পয়েন্ট। পাঁচ শুটে নিজের ঝুলিতে জমা করেন মাত্র ৯৫ পয়েন্ট। ফলে হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হয় তাকে।

আরচ্যারি থেকে‌ও বিদায় 

এদিকে, আরচ্যারির পুরুষ কম্পাউন্ড এলিমিনেশন রাউন্ডে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। লাল-সবুজদের হয়ে লড়াই করা জাবেদ আলম, অসিম কুমার ও আবুল কাশেম স্কোর করেছিলেন ২২৮ পয়েন্ট। আর স্বাগতিক আরচ্যাররা তুলে নেন ২২৩০ পয়েন্ট।

 

মাত্র দুই পয়েন্টের জন্য বিদায় নিলেও এ ইভেন্টে বাংলাদেশের আরচ্যারদের উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরচ্যারি-শ্যূটিংয়েও হতাশা

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসে একের পর এক ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে বাংলাদেশের। আজ শনিবার গেমসের অষ্টম দিনে আরচ্যারির রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে হেরেছে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী দল উভয়ই।

রিকার্ভ দলগত পুরুষ, নারী দুই বিভাগেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে লাল-সবুজরা। ৬-২ সেটে পুরুষরা হেরেছেন মঙ্গোলিয়ার কাছে। পুরুষ দলের হয়ে ইমদাদুল হক মিলন, ইব্রাহিম শেখ ও রোমান সানা।

একই ব্যবধানে নারীদের হার জাপানের বিপক্ষে। নারী দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন নাসরিন আক্তার, ইতি খাতুন ও বিউটি রায়।

আরচ্যারিতে ব্যর্থতার দিনে শ্যূটিং ইভেন্ট থেকে‌ও কোনো আশার খবর পায়নি বাংলাদেশ। সেখানে‌ও ভর করেছে হতাশা। বাকি, আরমিন, আরদিন, শাকিলের পর এবার হতাশ করলেন শ্যূটার সৈয়দ মোহাম্মদ সাব্বির হাসান। স্কিটে টোটাল স্কোর করলেন ৫৮।

কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে প্রথমে করলেন ১৮, এরপর ২৩ এবং তৃতীয় চেষ্টায় ১৭। ত্রিশ জন প্রতিযোগির মধ্যে হলেন ২৮ তম।

থাইল্যান্ডকে হারাতে চায় বাংলাদেশ হকি দল

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমস হকির গ্রুপ পর্বে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আগামীকাল মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। স্থানীয় সময় বিকাল চারটায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হবে দুই দলের দ্বৈরথ। থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলে পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াইয়ের সুযোগ পাবে জিমি-চয়নরা। সেই সাথে আগামী এশিয়া কাপ আর এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বও খেলতে হবেনা গোবিনাথনের শিষ্যদের। আগামী আসরে সরাসরি সুযোগ পাবে চূড়ান্ত পর্বে।

হকি ইভেন্টে টানা দুই ম্যাচ জয়ের পর শক্তিশালী মালয়শিয়ার কাছে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় লাল-সবুজ জার্সীধারীরা। তবে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের আশা শিটুলবাহিনীর। বিশ্ব হকি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১ আর থাইল্যান্ডের ৪৭। শুধু র‌্যাঙ্কিং নয়, হকিতে কখনই থাইদের কাছে হারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায় না টিম বাংলাদেশ। বহু বছর পর এমন সুযোগের সামনে দাড়িয়ে জিমি-চয়ন-শিটুলরা।

ম্যাচকে সামনে রেখে আজ শনিবার সকালে কঠোর পরিশ্রম করেছেন গোবীনাথনের শিষ্যরা। কোচের কথায়, ‘দল সবসময় জয়ের জন্যই মাঠে নামে। মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তানের বিপক্ষে যেভাবে মাঠে নেমেছে সেভাবেই মাঠে নামবো। সবসময় সেরাটা দিতেই প্রস্তত আমার দল। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে টার্গেটে পৌঁছানো সম্ভব। এখানে বাধার কিছু দেখছি না।’

দলের সহকারি কোচ আশিকুজ্জামান জানান, ‘বাংলাদেশের সামনে ২০ বছর আগে এমন একটি সুযোগ এসেছিল। তবে সেটি কাজে লাগানো যায়নি। থাইল্যান্ডকে হারাতে পারলে আমাদের ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত। পঞ্চম স্থানের জন্য লড়তে হবে কোরিয়া কিংবা অন্য একটি দেশের সঙ্গে।

তাছাড়া আগামী এশিয়ান গেমস ও এশিয়া কাপের বাছাইপর্বও খেলতে হবে না জিততে পারলে। তাই আমরা সকলে ইতিবাচক চিন্তা করছি। দলে কোন ইনজুরি নেই। আশরাফুল গত ম্যাচে ইনজুরির কারনে খেলতে না পারলেও আগামীকাল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে তার কোন অসুবিধে হবে না।’

ট্র্যাকেও হতাশ করলেন অ্যাথলেটরা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

কাবাডি, হকি, ভারোত্তোলন, কুস্তির পর এশিয়ান গেমস অ্যাথলেটিক্সেও হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। হিট থেকেই বাদ পড়তে হয়েছে দুই স্প্রিন্টার আবু তালেব ও সুমি আক্তারকে। এশিয়াড অ্যাথলেটিক্সে কখনোই পদকের আশা থাকে না বাংলাদেশের। নিজেদের সেরাটা দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় মঞ্চ হিসেবেই এ আসরকে বেছে নেয় লাল-সবুজরা। একই সঙ্গে এশিয়ার সেরা এথলেটদের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো খুজে বের করার চেষ্টা থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্সের পুরুষ ও মহিলাদের ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেয়ার জন্য আবু তালেব ও সুমি আক্তার এসেছেন ইন্দোনেশিয়ায়। আজ শনিবার সকালে ট্র্যাকে নেমেছিলেন সেনা বাহিনীর অ্যাথলেট আবু তালেব। কিন্তু ট্র্যাকে নেমেই লজ্জায় ডুবিয়েছেন দেশকে। ২৮ জনের মধ্যে হয়েছেন ২৭তম! সময় নিয়েছেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড! শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় হয়ে ফিরেছেন ট্র্যাক থেকে। আরেক স্প্রিন্টার সুমি আক্তারও সুবিধা করতে পারেননি ট্র্যাকে।

আজ শনিবার জিবিকে মেইন স্টেডিয়ামে সকালে ৪০০ মিটার দৌড়ে ট্র্যাকে নামেন বাংলাদেশী অ্যাথলেট আবু তালেব। তিনি দাঁড়িয়েছিলেন তিন নম্বর লেনে। হিটে ছিলেন মোট ছয়জন প্রতিযোগী। দৌড়ের শুরুতেই তিনি পিছিয়ে পড়েন। এরপর আর এগিয়ে যেতে পারেননি। শেষ করতে হয়েছে সবার শেষে থেকেই। ফিনিসিং লাইন টাচ করেন ৫০ দশমিক ৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। একরাশ হতাশা নিয়ে দৌড় শেষ করে বিশ্রাম নিতে চলে যান দিনাজপুরের এ স্প্রিন্টার। এমন পারফর্ম্যান্স হয়তো আশা করেননি আবু তালেব নিজেও। দেশের হয়ে পদক জয়ের স্বপ্নতো দূরের থাক, চূড়ান্ত পর্বেও অংশ নেয়ার আশা করেননি। তবে প্রত্যাশা ছিল অন্তত নিজের বেষ্ট টাইমিং ছাড়িয়ে যাওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্নটা‌ও পূরন হয়নি। নিজের রেকর্ডকেও ছুঁতে পারেননি জাকার্তায়। বরং আরো বেশী সময় নিয়েছেন। গত বছর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে একই ইভেন্টে স্বর্ণ জয়ী এ স্প্রিন্টার সময় নিয়েছিলেন ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড সময়।

দৌড় শেষে আবু তালেব বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম আন্তর্জাতিক আসর। আজ আমি মোটেও ভালো করতে পারিনি। আমি আমার টাইমিং নিয়ে সন্তুষ্ঠ নই। ফিনিসিং আরো ভালো করা উচিত ছিল। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে আমার বেষ্ট টাইমিং ছিল ৪৮ দশমিক ৯০ সেকেন্ড। কিন্তু আজ সেটাও আমি করতে পারিনি।’ নিজের সেরা টাইমিং উৎরে যেতে না পারার কারন হিসেবে তিনি বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে আসার জন্য আমার প্রস্তুতি বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু আসার কিছু দিন আগে আমি বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য ছিলাম। আসার পরও ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি অসুস্থ্যতার কারনে। আমার বাঁ পায়ের মাসলের দিকে ব্যথা ছিল। সে ব্যথা নিয়েই আজ ট্র্যাকে নেমেছিলাম। সব কিছু মিলিয়ে আমি হতাশ।’

উল্লেখ্য, এবারের আসরে আবু তালেবের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু জহির রায়হানের ইনজুরির কারনেই কপাল খোলে তার। সে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। নিজেকে প্রমানের বড় মঞ্চ থেকে ফিরেছেন হতাশা সঙ্গী করে।

ফুটবল থেকে বিদায় বাংলাদেশের

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাস নতুন করে রচনা করেছিল বাংলাদেশ। সেরা ষোল’তে জায়গা করে নিয়েই আত্মতুষ্টিটা ছিল বেশ। তবে লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার কাছে সম্মানজনকভাবে হারের। সেটাই হয়েছে আজ শুক্রবার। র‌্যাংকিংয়ের ১০৮ নম্বর পজিশনে থাকা দলটির কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের পতাকাধারীরা।

এশিয়াডের চলতি আসরে বাংলাদেশ দল যে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠবে সেটাই ছিল অপ্রত্যাশিত। ইন্দোনেশিয়া আসার আগে কোচ জেমি ডে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার কোন প্রতিশ্রুতি না দিলেও ভালো ফুটবল উপহার দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেটা তিনি রেখেছেন। মাঠের লড়াইয়ে জামাল-জনি-সুফিলরা নিজেদের শতভাগ দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। প্রথম রাউন্ডে উজবেকিস্তানের কাছে হারলেও থাইল্যান্ডের সাথে ড্র ও শক্তিশালী কাতারকে ১-০ গোলে ধরাশায়ী করে চমকে দেয় সবাইকে। বিশেষ করে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজক দেশটির বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টি ছিল অবিশ্বাস্য।

তবে আজ প্রি-কোয়ার্টারের ম্যাচে ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়া। পেনাল্টি থেকে আসে গোলটি। বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরার হাতে লাগলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে কোরিয়াকে এগিয়ে নেন কিম ইউ সুং (১-০)।

তিন মিনিটবাদেই লাল-সবুজরা বড় বাঁচা বেঁচে যায়। আগুয়ান গোলরক্ষক আশরাফুলকে ফাঁকি কিম ইয়ং দারুন এক শট নিয়েছিলেন। কিন্তু বল সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের প্রথমার্ধে আরো একটি গোল হজম করতে হয় জামাল ভূঁইয়ার দলকে। ৩৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে দারুন গোলটি করেন হ্যান ইয়ং তাই। কিম কুক বুমের পাসে বল পেয়ে দারুন এক প্লেসিং শটে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড (২-০)। তবে এই গোলের পেছনে বাংলাদেশ দলের ডিফেন্ডারদের ব্যর্থতা‌ও কম নয়।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে নিজেদের রক্ষণভাগ সামলানোতেই বেশী ব্যস্ত ছিল জেমি ডে’র শিষ্যরা। তপু-সুশান্তদের রক্ষণ দেয়াল ভেদ করে ৬৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান কোরিয়ান স্ট্রাইকার কেং কুক চুল (৩-০)।

তবে অতিরিক্ত সময়ে একটি সান্ত্বনার গোল পায় টিম বাংলাদেশ। ডানদিক থেকে রবিউল মোহাম্মদের পাসে বক্সের ভেতরে জটলার মধ্য থেকে ডান পায়ের বুদ্ধিদীপ্ত শটে বল জালে জড়ান সাদ উদ্দিন (৩-১)।

শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হার দিয়েই এবারের এশিয়াড মিশন শেষ হয় বাংলার দামাল ছেলেদের। এখন টার্গেট সাফ ফুটবল। চলতি মাসেই সাফ ফুটবল শুরু হবে ঘরের মাটিতে।

ঈদের ছুটিতে হতাশাজনক পারফরমেন্স বাংলাদেশের

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমসে ঈদ-উল-আযহার কোন ছুটি ছিল না। ঈদের দিনও বিভিন্ন ইভেন্টে লড়াই করতে হয়েছে অ্যাথলেটদের। বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরাও বেশ কয়েকটি ইভেন্টে লড়াই করেছিলেন ঈদের ছুটিতে। কিন্তু ঈদের আনন্দের মতো মাঠে পারফর্ম্যান্স রাঙাতে পারেননি জিমি-শিরিন-রোমান সানা-খাদিজা-সাগররা। হতাশ করেছেন সবাই। কেউ পুলে, কেউ টার্ফে- সব ইভেন্টেই ছিল ব্যর্থতার গল্প। তবে ব্যতিক্রম ছিল আরচ্যারি ইভেন্ট। হাসি-কান্নার মিশ্রন ছিল এ ইভেন্টে। ঈদের ছুটিতে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের বিভিন্ন ইভেন্টের ব্যর্থতা-সাফল্যের খবরগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে

 

হকি : ওমানের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ হকি দল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাজাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল ঈদের দিন সকাল ১০টায়। জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচে লাল-সবুজরা জয় পায় ৬-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে ঈদের দিনটাকে রাঙিয়ে তুলেছিল। উল্লাসে মেতেছিল পুরো দল। তবে শিষ্যদের জয়ের পরও পারফর্ম্যান্স নিয়ে হতাশা ছিল কোজ গোপীনাথন কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে, ‘জয় পাওয়ায় খুশী। কিন্তু ওদের পারফর্ম্যান্সে আমি মোটেও খুশী নই। আরো বেটার খেলার যোগ্যতা আছে আমার দলে।’

সাঁতার : মাহফিজুর রহমান সাগরের প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল। অনুশীলনের ঘাটতির অজুহাত তুলে ২০০ মিটারে পুলে না নামা এ সাঁতারু নিজের প্রিয় ইভেন্টেও ছিলেন ব্যর্থ। হিটে ৪৭ জনের মধ্যে ৩৫তম হন পাবনার এ সাঁতারু। ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলেও ছিল হতাশা। ৫১ জনের মধ্যে হয়েছে ৩৬তম। হতাশ করেছেন আরেক সাঁতারু খাদিজা আক্তার বৃষ্টিও। তিনিও নিজের প্রিয় ইভেন্টে (৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোক) হিটে ৩০ জনের মধ্যে ২৭তম হন খাদিজা আক্তার। ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলের হিট থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। ৩১ জনের মধ্যে ২৮তম স্থান নিয়েই ফিরে আসতে হয়।

আরচ্যারী : মঙ্গলবার দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য আরচ্যারীতে ছিল মিশ্র অনুভুতির। ছেলেদের রিকার্ভ রাউন্ডে তৃতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে ওঠেন রোমান সানা। ৭৯ জনের মধ্যে হন তৃতীয়। যা দেশের জন্য বেশ গর্বের ছিল। প্রত্যাশা ছিল আরো বড়। কিন্তু পারেননি রোমান সানা। বিদায় নিতে হয়েছে বাছাই পর্বের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। তবুও তার এ কৃতিত্বকে বড় করেই দেখছেন আরচ্যারী ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

শ্যুটিং : শুটিংয়ে নারীদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন ইভেন্টে বাংলাদেশের কেউই পরের রাউন্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা দুজনই এ ইভেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন। সুরাইয়া মোট ১১৩০ স্কোর নিয়ে ৩৩ জনের মধ্যে ২৫তম ও শিল্পা ১০৯৭ স্কোর নিয়ে ৩৩ জনের মধ্যে ৩৩তম হয়েছেন। এদিকে আরেক তারকা শ্যুটার শাকিল আহমেদও বিদায় নিয়েছে নিরবে। কমওয়েলথ গেমসে রৌপ্যজয়ী এ শুটার ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ৪০ জনের মধ্যে হন ২২তম। ৩৭তম হয়েছেন বাংলাদেশের পিয়াস হোসেন। ৫০ মিটার এয়ার রাইফেল থ্রি পজিশনে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের শোভন আর রবিউল।

কাবাডি: পুরুষ কাবাডিতে ভারতের কাছে হার দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ ঈদের ছুটিতে জয় পায় শ্রীলংকার বিপক্ষে। জয়ের ব্যবধান ২৯-২৫ পয়েন্ট। পুরুষরা জিতলেও টানা তৃতীয় হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। আগেই দুই হারে বিদায় নিশ্চিত করা নারীরা ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে।

এছাড়া, ব্রিজে বাংলাদেশ জয় পায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। আরব দেশটিকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে পরের রাউন্ডে। পুরুষ বিচ ভলিবলের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে বাংলাদেশ হেরে গেছে ইন্দোনেশিয়ার কাছে। কুস্তিতে শিরিন সুলতানাও লজ্জা উপহার দেন।

হকিতে মালয়শিয়ার কাছে হার ৭-০ গোলের

এশিয়ান গেমস হকিতে শক্তিশালী মালয়শিয়ার কাছে ৭-০ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার পালেম্বাংয়ে, প্রথম কোয়ার্টারে মালয়শিয়ান আক্রমণ রুখতে পারলেও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভেঙে পড়ে জিমি-চয়নদের প্রতিরোধ।

খেলার ১৮ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে রাজী রহিম এগিয়ে দেন দলকে। রাজী আর আরশাদের কল্যাণে দ্বিতীয় কোয়ার্টারেই আরও দু’গোল করে মালয়শিয়া। ফয়জাল সারি, জুয়েল স্যামুয়েল ভ্যান হিউজেন আর নূর নাবিল আর ফারহান আশারির গোলের সুবাদে তৃতীয় ও শেষ কোয়ার্টারে আরও চার গোল করে মায়লশিয়া। আর তাতেই ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয় বাংলাদেশকে।

আগামী রোববার থাইল্যান্ড আর মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ। আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় এখনও পরের রাউন্ডে খেলার আশা আছে জিমি-চয়নদের।

ফুটবলে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া

এশিয়ান গেমসের গত আসরে রানার্সআপ হয়েছিল উত্তর কোরিয়া। তাদের বিপক্ষেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বেকাসির উইবায়া মুক্তি স্টেডিয়ামে শুরু হবে খেলাটি। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ পেয়েছে কাঙ্খিত সাফল্য। এখন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ লাল-সবুজের।

তবে আগেরবারের রানার্সআপদের বিপক্ষে লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না। মুখোমুখি লড়াইয়ে ফেবারিট তারাই। তবুও আত্মবিশ্বাসী কাতারের বিপক্ষে গোল পাওয়া জামাল ভূঁইয়া। দলের অধিনায়ক অনুশীলন শেষে বলেন,‘এটা আমাদের জন্য আরেকটি ম্যাচ। আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা হয়তো একাধিক সুযোগ পাবো না। চাপে থাকব। কিন্তু যখনই সুযোগ পাবো সেটা কাউন্ট করার চেষ্টা করবো।’

কাতারকে হারানোর পর বাংলাদেশ দল রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। পুরো দলের লক্ষ্য আরও উচুঁতে। উত্তর কোরিয়াকেও হারানো সম্ভব এমন আত্মবিশ্বাসের মূলমন্ত্র ফুটবলারদের কানে তুলে দিয়েছেন কোচ জেমি ডে। কোচ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন,‘আমরা কাতারের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি তার থেকেও ভালো খেলতে হবে। আমরা গোলমুখে যদি আরেকটু গোছানো ফুটবল খেলতে পারি তাহলে আমাদের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব। আমাদেরও সুযোগ থাকবে ভালো কিছু করার।’

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের স্থান ১৯৪ এবং উত্তর কোরিয়ার স্থান ১০৮। মাঠের খেলায় র‌্যাঙ্কিং খুব যে প্রভাব ফেলে না, তা এরই মধ্যে প্রমাণ করেছে দূর্বার বাংলাদেশ। কাতারকে হারিয়ে যেভাবে বদলে গেল বাংলাদেশ ফুটবল দল, তাতে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ভালো লড়াই করার দাবি রাখে। এর আগে বাংলাদেশ ১৯৮০ সালে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে তিনবার খেলেছিল। দুবার হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ড্র হয়েছে আরেক ম্যাচ।

এশিয়ান গেমসে ফুটবল ও হকি বাদে এখন পর্যন্ত বড় কোনো সাফল্য নেই বাংলাদেশের। কাতারকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল ফুটবলাররা। আজ আরেকটি চমক দেখানোর অপেক্ষা বাংলাদেশের।

হকিতে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

কাজাখস্তানকে ৬-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শ্যূটিংয়ে ৫০ মিটার রাইফেলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছেন সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা। অন্যদিকে, বাস্কেটবল আর কাবাডিতেও হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

পরিবার ছেড়ে দেশের বাইরে ঈদ, কষ্টতো থাকবেই। সেই কষ্ট লাঘবের উপায় জয় ছাড়া আর কি হতে পারতো। জাকার্তার গিলোর বুং কর্নোর হকি ফিল্ডে জিমি, চয়নরা তাই খেলা দিয়েই উদযাপনটা সারলেন। প্রথম কোয়ার্টারে গোল করলেন ফজলে রাব্বি, রাসেল মাহমুদ জিমি।

তৃতীয় কোয়ার্টারে খোরশেদের জোড়া গোল আর চতুর্থ কোয়ার্টারে চয়ন ও কৌশিক স্কোরশীটে নাম লেখালে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তবে ব্যবধানটা দ্বিগূন হতে পারতো যদিনা পেনাল্টি কর্নার, আর সহজ সুযোগগুলো নষ্ট না করতেন খেলোয়াড়রা।

এশিয়ান গেমস শ্যূটিংয়ে টানা চারদিন ব্যর্থতায় কাটলো বাংলাদেশের। বুধবার মেয়েদের ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশনে অংশ নিয়েছেন সুরাইয়া আক্তার ও শারমিন শিল্পা। দুই জনই বাদ পড়েন প্রথম রাউন্ড থেকে। ৩৩ জন প্রতিযোগির মধ্যে ৩৩তমই হন শারমিন শিল্পা। তার স্কোর ১০৯৭। আর ২৫তম হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করা সুরাইয়া স্কোর করেছেন ১১৩০। 

 

কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারালে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকে থাকতো বাংলাদেশের। তবে ৩৮-১৮ পয়েন্টে হেরে এবারের মতো যাত্রা শেষ সুবিমল চন্দ্র দাসের খেলোয়াড়দের। এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ছিল ‘এ’ গ্রুপে। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৫০-২১ পয়েন্টে হারার পর থাইল্যান্ডকে ৩৪-২২ পয়েন্টে ও শ্রীলংকাকে ২৯-২৫ পয়েন্টে হারায় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে কোরিয়ার কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে মাসুদ-জাকিররা শেষ করে এশিয়ান গেমস মিশন।

ব্যর্থ এক দিনে হকিতে আনন্দ

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

ওমানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে শুভ সূচনা করলো হকি দল। তবে সব মিলিয়ে গেমসের তৃতীয় দিনটি হতাশাতেই কেটেছে বাংলাদেশের। নারী কাবাডিতে ইরানের কাছে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া হতাশ হতে হয় শ্যূটিংয়েও।

ওমানকে হারিয়ে লক্ষ্য পুরন হয়েছে হকি দলের। কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানকে নিয়ে গড়া গ্র“পে এই একটি দলের বিপক্ষেই জয়ের আশা করেছে খেলোয়াড়রা। আর এই জয়ে চার বছর ওমানকে হারাতে না পারার আক্ষেপ ঘোচালো জিমি-চয়নরা।

জাকার্তার জিবিকে এ্যারিনায়, ফার্স্ট কোয়ার্টারে আরশাদের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে সমতায় ফেরে ওমান। এরপর তৃতীয় কোয়ার্টারে আশরাফুলের স্টিক থেকে পাওয়া লিড ধরে রাখে গোবিনাথানের শিষ্যরা।

অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি বলেন, 'আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল ‌ওমানের বিরুদ্ধে জয়। সেই টার্গেট পুরণ করতে পেরেছি। এখন পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থানের জন্য লড়বো আমরা। গ্রুপের অন্যরা বেশ শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে সেটা হবে আমাদের জন্য আর‌ও ভালো ব্যাপার। পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের দলের লক্ষ্য‌ও সেই রকম।'

হকি দল আনন্দে ভাসিয়েছে, তবে সবচে’ হতাশ করেছে নারী কাবাডি দল। আগেরবার ব্রোঞ্জ জেতা মালেকা, রুপালীরা এদিন ইরানের কাছে ৪২-১৯ পয়েন্টে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। যদিও পুরুষ দল থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে।

একইভাবে প্রত্যাশা পুরন করতে পারেননি শ্যূটিংয়ের আবদুল্লাহ হেল বাকী, শারমিন আক্তার রত্না এবং উম্মে জাকিয়া সুলতানা। দশ মিটার এয়ার রাইফেল ব্যাক্তিগত ইভেন্ট বাকী আর রত্না-জাকিয়ারা বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন।

এদিকে বিচ ভলিবলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে ২-০ সেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এতো সব হারের মাঝে দিনের শেষ বেলার হকির জয়টাই শেষ পর্যন্ত তৃপ্তি হয়ে থাকলো।

নারী কাবাডি দলের বিদায় টিকে রইলো পুরুষরা

ইন্দোনেশিয়া থেকে, প্রতিনিধি

টানা দুই হারে এশিয়ান গেমসের মহিলা কাবাডি ডিসিপ্লিন থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। পদকের সম্ভাবনাময় ইভেন্টটিতে এবার ফিরতে হচ্ছে শূণ্য হাতেই।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপের কাছে হারের পর আজ সোমবার ইরানের সাথেও পারেনি আব্দুল জলিলের শিষ্যরা। গারুদা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায়, শুরু হওয়া ম্যাচে ২১-৪৭ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে লাল-সবুজের মেয়েদের। আগামীকাল মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

তবে নারী দলের বিদায়ের দিন নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে পুরুষ কাবাডি দল। আজ তারা ৩৪-২২ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছে থাইল্যান্ডের সঙ্গে। যদিও কাবাডিতে একেবারেই নবীন দেশ থাইল্যান্ড। তবুও এ জয়টিকে বড় করেই দেখছে বাংলাদেশ। আগামীকাল মঙ্গলবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকা এবং বুধবার শেষ ম্যাচে মাসুদ করিমদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া।

আজ সকালে, ইরানের বিরুদ্ধে মাঠে নামে বাংলাদেশ মহিলা দল। পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রন ছিল ইরানিদের। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি ম্যাচটিতে জয় পাবে বাংলাদেশ। লিড নেয়াতো দূরের কথা, নিজেদের দূর্বলতার চিত্র ফুঁটে উঠেছে ম্যাচে।

শ্যূটিং, সাঁতার, কাবাডি, কুস্তি-সবখানেই দুঃসংবাদ। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা এশিয়াডে বাংলাদেশ দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে হতাশা ব্যক্ত করেন, ‘দেখুন, আমরা কি চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছি? আসলে এখন পর্যাপ্ত অনুশীলন, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। তবে হ্যাঁ, এখানে যারা অংশগ্রহণ করল তারা সামনের সাফ গেমসে ভালো করবে বলে আমি আশাকরি। উন্নতি করার জন্য নিজ নিজ ফেডারেশনকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’

নারীদের হতাশার দিন ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পুরুষ কাবাডি দল। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই পেয়েছে জয়ের দেখা। ভারতের কাছে হারের ক্ষত ভুলেছে মাসুদ করিমরা ৩৪-২২ পয়েন্টের ব্যবধানে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে। এ জয় কিছুটা হলেও আশার আলো জ¦ালাবে টিম বাংলাদেশে। পরের দুই ম্যাচ জিততে পারলে টিকে থাকবে পদকের আশা। ২ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ভারত, যারা আজ ৪৪-২৮ পয়েন্টে হারায় শ্রীলংকাকে। বাংলাদেশ ও কোরিয়ার ঝুলিতে সমান ২ পয়েন্ট, যদিও বাংলাদেশ এক ম্যাচ বেশি খেলেছে।

ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো বাংলাদেশ। শক্তিশালী কাতারের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৯০ মিনিট ছিল গোল শূণ্য ড্র। অতিরিক্ত দু’মিনিটের খেলা চলছিল তখন। দু’দলই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল পয়েন্ট ভাগ করে মাঠ ছাড়ার। ঠিক ঐ মুহুর্তেই সব হিসেব-নিকেষ পাল্টে দেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ডান পায়ের মাটি কামড়ানো দারুণ এক শটে কাতারের জালে বল প্রবেশ করান। উল্লাসে মেতে উঠে বাংলাদেশ শিবির। এমন একটি জয় যে কতোটা দরকার ছিল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলে আবারো সুদিনের বাতাস লাগবে এ জয়ে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে হলে কাতারের বিরুদ্ধে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না। কারন গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হার ও থাইল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলের ড্র’র কারণে ঝুলিতে ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। এমন সমীকরনের ম্যাচে জালে উঠে বাংলার দামাল ছেলেরা। অতীত রেকর্ড আর ফিফা র‌্যাকিংকে দু’পায়ে মাড়িয়ে বিশাল এক যুদ্ধে জয় ছিঁনিয়ে আনেন জামাল-সুফিলরা। এ জয় অনেক বড় এক ঘটনা দেশের ফুটবলের জন্য।

সন্ধ্যা সাতটায় জাকার্তার প্যাট্রিয়ট স্টেডিয়ামে কাতারের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। আগের চারবারের মুখোমুখিতে তিনবারই হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। একটি মাত্র ম্যাচে ড্র পেয়েছিল। সেটাও ১৯৭৯ সালে। অতীত রেকর্ডের সঙ্গে ফিফা র‌্যাংকিংও ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পক্ষে। র‌্যাংকিংয়ে তাদের ৯৮ নম্বরে। আর বাংলাদেশ রয়েছে ১৯৪ তম স্থানে। দু’দলের শক্তির ফারাকটা এখানেই প্রমানীত। কিন্তু জীবন-মরন লড়াইয়ে যেনো অন্য এক বাংলাদেশকে দেখা যায়।

শুরু থেকেই কাতারের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে জেমি ডে’র শিষ্যরা। ম্যাচের ৮ মিনিটেই প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাঁদিক থেকে নেয়া সুফিলের জোড়ালো শট খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা। অল্পের জন্য সাইডবার ঘেঁষে বল বাইরে চলে যায়। আক্রমনাতœক ফুটবলের কৌশল নিয়ে মাঠে নামা লাল-সবুজ শিবির ৯মিনিট বাদেই গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করে। ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে যান সুফিল। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিনকে ওয়ান বাই ওয়ান পজিশনে পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে ডস দিতে পারলেই নিশ্চিত গোল পেয়ে যেতো বাংলাদেশ। কিন্তু সরাসরি বল তুলে দেন গোলরক্ষকের হাতে।

আক্রমন ও রক্ষণবাগের সঙ্গে গতকাল গোলরক্ষক আশরাফুল রানাও ছিলেন উজ্জ্বল। তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গেই কাতারের তিনটি আক্রমন প্রতিহত করে দরকে বিপদমুক্ত করেছেন। ৩৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভিত আরো একবার নাড়িয়ে দিয়েছিলেন জেমি ডে’র শিষ্যরা। জামাল ভূঁইয়ার কর্ণার কিকে বক্সের ভেতর থেকে হেড নেন তপু বর্মন। কাতারের গোলরক্ষক মারওয়ান বাদরিলদিন বুকে জড়িয়ে নিলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে দূর্দান্ত খেলা লাল-সবুজরা দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আক্রমনের ধার ধরে রেখেছিল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে কাতারের তিন ফুটবলারকে ডস দিয়ে ডানদিক থেকে বক্সে প্রবেশ করেও নিজের ভুলে গোলের মুখ দেখা হয়নি বিপুলের। তিনি ফাঁকায় দাঁড়ানো সুফিলকে পাস দিলেই নিশ্চিত গোল হয়ে যেতো। কিন্তু নিজে গোলের ট্রাই করতে গিয়ে সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেন এ মিডফিল্ডার।

ম্যাচের মূল সময় শেষে যখন অতিরিক্ত সময়ে খেলা মাঠে গড়ায়। অতিরিক্ত দুই মিনিটের খেলাও শেষের পথে। রেফারি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শেষ বাঁশী বাজানোর। ঠিক ঐ মুহুর্তে গোলরক্ষক আশরাফুল রানার থ্রু থেকে মাশুক মিয়া জনির দেয়া পাসে বল পেয়ে জামাল ভূঁইয়া কাতারের দু’ই ডিফেন্ডার কাটিয়ে প্রবেশ করেন ডি বক্সে। সেখান থেকে ডান পায়ের জোড়ালো এক শটে বল জড়ান জালে (১-০)। উৎসবে মেতে উঠে লাল-সবুজ শিবির। কাতারের বিরুদ্ধে দারুণ এ জয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেলো টিম বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক হারে যখন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দল। দলটি নিয়ে যখন স্বপ্ন দেখতেও ভয় পান সমর্থকরা। ঠিক ঐ সময়টাতে পাওয়া এমন জয় সত্যিই নতুন করে ভাবতে শেখাবে সবাই।

এশিয়ান গেমসে সাঁতার-শুটিংয়ে বাংলাদেশের হতাশার দিন

এশিয়ান গেমসের সাঁতার ও শুটিংয়ের বাছাইপর্বে হতাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা। মেয়েদের কাবাডিতেও বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে হার দিয়ে। জাকার্তা-পালেমবাংয়ের প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে রোববার জেবিকে অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে মেয়েদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকের হিটে খাদিজা আক্তার সময় নেন ১ মিনিট ২৭ দশমিক ২০ সেকেন্ড। দুই নম্বর হিটে সাত প্রতিযোগীর মধ্যে সপ্তম এবং সব মিলিয়ে ২৬ প্রতিযোগীর মধ্যে ২৪তম হয়ে ছিটকে যান তিনি।

জেএসসি শুটিং রেঞ্জে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের মিশ্র দলীয় ইভেন্টে হতাশ করেছেন সৈয়দা আতকিয়া হাসান ও অর্ণব সারার জুটি। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে দুজন মোট ৮১৪ দশমিক ৯ স্কোর গড়েন। বাংলাদেশ ২২ দলের মধ্যে হয় ত্রয়োদশ। পদকের লড়াইয়ে ওঠা পাঁচ দলের মধ্যে সর্বনিম্ন ৮২৯ দশমিক ৮ স্কোর চাইনিজ তাইপের।

১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিশ্র দলীয় ইভেন্টেও কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড পেরুতে পারেনি বাংলাদেশ। আরদিনা ফেরদৌস ও নুর হাসান আলিফ মিলে ৭৩৪ স্কোর গড়ায় বাংলাদেশ ২১ দলের মধ্যে ১৯তম হয়। পদকের লড়াইয়ে ওঠা পাঁচ দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭৫৯ স্কোর করেছে কাজাখস্তান।

কাবাডিতে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপের কাছে ৪৩-২৮ ব্যবধানে হেরে যান শাহানাজ-রুপালিরা।

 

হিটেই বাদ খাদিজা পুলে নামেননি সাগর

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

প্রত্যাশা ছিল হিট উৎরে মূল পর্বে খেলার। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠেনি। বাছাই পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো সাঁতারু খাদিজা আক্তার বৃষ্টিকে। আজ রবিবার জিবিকে একুয়াটিক সেন্টারে, নিজের প্রিয় ইভেন্ট ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ২৬ জনের মধ্যে ২৪তম হয়েই পুল থেকে উঠে আসতে হলো ১৬ বছর বয়সী এ সাঁতারুকে। তাও আবার নিজের ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংয়ের চেয়েও অনেক বেশি সময় নিয়ে।

আগামী বৃহস্পতিবার ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ও শুক্রবার ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে আবারো পুলে নামবেন বৃষ্টি। আরেক সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর পুলেই নামেননি। ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে লড়াইয়ের কথা ছিল তার। কিন্তু অনুশীলনের পর্যাপ্ততার কারনে পুলে নামতে রাজী হননি পাবনার এ সাঁতারু।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এরআগে লড়াইয়ের কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না বৃষ্টির। প্রথম মঞ্চ হিসেবে পেয়ে গেলেন এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরকে। তাই হয়তো চাপটা সামলাতে পারেননি এ সাঁতারু। জিবিকে একুয়াটিক সেন্টারের পুলে নেমে দুই নম্বর হিটে খাদিজা ছিলেন এক নম্বর লেনে। হিটে ফিনিসিং লাইন টাচ করলেন ১ মিনিট ২৭ দশমিক ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। অথচ তার ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং ছিল ১ মিনিট ২২ দশমিক ৭২ সেকেন্ড। বিকেএসপির এ সাঁতারু যে কতোটা চাপের মধ্যে ছিলেন সেটা ফুঁটে উঠে পুলে।

হিটে বাদ পড়ে হতাশা নিমজ্জিত বৃষ্টি বলেন, ‘পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাব আর সঙ্গে কোচ না আসায় তার পারফরম্যান্স খারাপ হয়েছে। সুযোগ সুবিধার অভাবে ঢাকায় আমি খুব একটা ভালো অনুশীলন করতে পারিনি। সুইমিং পুল প্রস্তুত ছিল না, এমনকি সেখানে পানির সমস্যাও ছিল। তাছাড়া এখানে কোচ সাথে না আসায় ভালো দিকনির্দেশনা পাইনি।’

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ থেকে দুজন সাঁতারু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাহফিজুর রহমান সাগর আর খাদিজা। গতকাল সাগর ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের হিটেই নামেননি অনুশীলনের অভাবের অভিযোগ তুলে।

সাগর বলেন, ‘ঢাকা থেকে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিল। তাই জাকার্তায় এসে অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাইনি। সেজন্যই ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেই।’

নারী কাবাডিতে পদকের স্বপ্ন শেষ!

ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিনিধি

সবশেষ এশিয়ান গেমসেও পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলো বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। এবারও একই ইভেন্ট থেকে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন মালেকা-শারমীনরা। কিন্তু টার্ফে নেমে হতাশই করলেন আব্দুল জলিলের শিষ্যরা।চাইনিজ তাইপের কাছে ২৮-৪৩ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরে পদক জয়ের স্বপ্ন অনেকটা ধূসর হয়ে যায় লাল-সবুজদের।

 

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে শক্তিশালী ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। এই দুই দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় পাওয়া অনেকটাই ‘অলিক কল্পনা’। আগামীকাল সোমবার স্থাণীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় ইরানের মুখোমুখি হবে মহিলা কাবাডি দল।

জাকার্তার গারুদা স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমার্ধেই চাইনিজ তাইপে এগিয়ে যায় ম্যাচে। ১৬-২৩ পয়েন্টে লিড নেয়া দলটি দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক বোনাস পয়েন্ট তুলে নিয়ে প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে পরাজিত করে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। দুই দলের লড়াইয়ে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়েছে। বয়স র্পাথক্য, ফিটনেস লেবেল চোখে পড়ার মতো।

লাল-সবুজদের পারফর্ম্যান্স দেখে হতাশ ভারত কাবাডি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর প্রাসাদ রাও। জানান, ‘তোমাদের খেলোয়াড়দের এভারেজ বয়স অনেক বেশী। ফিটনেস লেবেলেও পিছিয়ে। পুরনো নিয়মেই আবদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশ। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় কাবাডি থেকে হারিয়ে যেতে হবে।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে চাইনিজ তাইপে পুরোপুরি অচেনা বাংলাদেশের কাছে। তবুও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মালেকারা। কিন্তু গত এশিয়ান গেমসে ছয় দলের মধ্যে ৬ষ্ঠ হওয়া দলটি যে কি পরিমান উন্নতি করেছে সেটা কল্পনাও করা যায়নি। গত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয় করা বাংলাদেশের উপর আধিপাত্য ধরে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় তাইপে। রেইডিং-ক্যাচিংয়ে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছে তারা।

ম্যাচ শেষে একরাশ হতাশা নিয়েই কোচ আব্দুল জলিন বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে জয়ের আশা নিয়েই এখানে এসেছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে আমরা যতোটা উন্নতি করেছি, তারচেয়ে অনেক বেশী উন্নতি করেছে চাইনিজ তাইপে। আমরা ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলাম। এরপর ৩০ মাস পর আবারো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছে মেয়েরা। এভাবে বিরতি দিয়ে খেলতে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায় না। তাছাড়া চলতি এ আসরকে সামনে মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়া এসেছে দল। তাহলে কিভাবে জয় প্রত্যাশা করতে পারি আমরা।’

প্রথম ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি জয় তুলে নিয়ে দেশে ফেরা।

অন্যদিকে, পুরুষ কাবাডি ইভেন্টে ভারতের কাছে ৫০-২১ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ পুরুষ দল।

বাংলাদেশ হকি দলের ভাবনায় ওমান

ইন্দোনেশিয়া থেকে কবিরুল ইসলাম

এশিয়ান গেমসের হকিতে প্রতিবারই হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। তবে এবার আর হতাশা নয়, বরং পঞ্চম কিংবা ৬ষ্ঠ স্থান অর্জনই মূল লক্ষ্য রাসেল মাহমুদ জিমিদের। আগামীকাল সোমবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ওমানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় দুপুর চারটায় জিবিকে হকি গ্রাউন্ডে শুরু হবে ম্যাচটি।

একটা সময় ওমানকে বলে কয়ে হারাতো লাল-সবুজরা। সেই ওমানই এখন বড় আতংকে পরিনত হয়েছে। কারন সবশেষ লড়াইয়েও ওমানের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেটা ছিল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফাইনালে। ২-০ গোলে হেরেছিল জিমি-চয়নরা। চলতি এ আসরে ‘বি’ গ্রুপে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যদের প্রতিপক্ষ ওমান, পাকিস্তান, মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড ও কাজাগিস্তান। র‌্যাংকিং ও শক্তিতে যোজন-যোজন এগিয়ে থাকায় পাকিস্তান ও মালেশিয়ার সঙ্গে জয়ের কথা ভাবছে না গোবিনাথান কৃষ্ণমূর্তি।

র‌্যাংকিংয়ে মালেশিয়া ১২ আর পাকিস্তান রয়েছে ১৩ নম্বরে। থাইল্যান্ড ও কাজাখস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশই ফেভারিট। অগ্নীপরীক্ষা বলতে ওমান। যদিও র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ৩১ আর ওমান আছে ৩৩-এ। আজ রবিবার অনুশীলন শেষে চয়ন জানালেন, ‘আমাদের ভাবনায় শুধুই ওমান ম্যাচ। কারণ এই ম্যাচে হারলে কঠিন হয়ে যাবে পঞ্চম হওয়া। বিশ্বকাপ খেলা দলগুলো এখানে আছে। এজন্য এখানে পদকের বদলে ৫ বা ৬ নম্বর হওয়া লক্ষ্য আমাদের।’

এশিয়াডে আসার আগে প্রস্তুতির দারুন সুযোগ পেয়েছিল হকি দল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছিল। জয় পেয়েছিল স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে। তাই ওমানের বিরুদ্ধে ভালো কিছুর প্রত্যাশা গোপিনাথন কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে, ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ওমানকে হারানোটা হবে আমার জন্য ওদের দেয়া উপহার।’

এটা ঠিক হকিতে গতির সঙ্গে তাল মেলাতে দরকার দূর্দান্ত ফিটনেস। বাংলাদেশের সেখানে ঘাটতি আছে। তারপরও আত্মবিশ্বাস আর গত কিছুদিনের প্রস্তুতি সঙ্গে করে নামছে অগ্নিপরীক্ষায়। জয় ছাড়া দ্বিতীয় ভাবনা নেই জিমি-চয়নদের।

এশিয়ান গেমসের পর্দা উঠছে আজ

 আজ পর্দা উঠছে এশিয়ান গেমসের। বাংলাদেশসহ অংশগ্রহণকারী সব   দেশের অ্যাথলেটরা এরিমধ্যে পৌঁছেছেন আয়োজক ইন্দোনেশিয়ায়।   জমকালো উদ্বোধনীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হবে এবারের এশিয়ান গেমসের। আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে ইন্দোনেশিয়া। এ উপলক্ষে পুরো দেশকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দুই ভেন্যু শহর জাকার্তা ও প্ল্যামব্যাংগে শোভা পাচ্ছে রঙিন ব্যানার, পোস্টার ও বিলবোর্ড। বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে নানা ধরণের ম্যুরাল। দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হয়েছে রঙিন কার্টুন। বিদেশি অতিথিদের উষ্ণ আতিথ্য দিতে উন্মুখ আয়োজকরা। এবারের আসরে ৪৫টি দেশের প্রায় ১২ হাজার অ্যাথলিটের মিলনমেলা বসবে ইন্দোনেশিয়ায়। আর ১৪টি ইভেন্টে এবার বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন ১৪৪জন অ্যাথলিট।

এদিকে, গতকাল গেমস ভিলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ বহরকে বরণ করে নিয়েছে এশিয়ান গেমসের আয়োজকরা। বাংলাদেশ মহিলা কাবাডি দলের সদস্যরা জাকার্তার গেমস ভিলেজে পৌঁছালে, তাদের ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। আয়োজকদের কাছ থেকে স্মারক গ্রহণ করেন বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন আবুল। গেমস কর্তৃপক্ষকেও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেন তিনি। ১৯ আগস্ট শুরু হবে পুরুষ ও মহিলা কাবাডি। ফুটবল, হকি, সাঁতার, বিচ ভলিবল ও কুস্তি দলও এখন অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়ায়।

শুটিংয়ের প্রাথমিক স্কোয়াডে ২২ জন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা নেমে আসে ২১ এ। বাবার অসুস্থতার জন্য শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেন ট্র্যাপ ইভেন্টের একমাত্র প্রতিনিধি ও বৃটিশ বংশদ্ভূত বাংলাদেশি শুটার কোয়ায়সুর মিয়া। ১০ ও ৫০ মিটার রাইফেল ও পিস্তলে অংশ নেবেন ১৫ শুটার। এদিকে স্কিট ইভেন্টে খেলবেন সাব্বির হাসান, এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত কোনো পদক না পেলেও এবার পদকখরা ঘোচাতে চান শ্যুটাররা। এদিকে, প্রথমবারের মত এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ রোয়িং দল। তবে কোন লক্ষ্য নয় যথারীতি অংশ নেয়ায় তুষ্ট ফেডারেশন। কেননা দেশে কোন সুযোগ সুবিধা ছাড়াই পালেমবাং-এর উদ্দেশে ঢাকা যাচ্ছেন একমাত্র রোয়ার আমিনুল ইসলাম।

বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশনের জন্ম তারও ৫ বছর আগে। স্বাধীনতার পর যে ১২ ফেডারেশনের আত্মপ্রকাশ হয়েছিলো তার একটি রোয়িং। এরপর শুধু বছর গড়িয়েছে, কিন্তু কোনো সাফল্য জেতা হয়নি। ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক গেমসে অংশ নিচ্ছে রোয়িং দল। অনুশীলনের জন্য নেই বোট, লেক, কোচ। তাইতো কলকাতা রোয়িং ক্লাবের সহযোগিতায় দেড় মাসের অনুশীলন করেছেন একমাত্র রোয়ার আমিনুল ইসলাম। যিনি কিনা আবার রোয়িং ফেডারেশনের সদস্যও। সিঙ্গেল স্কালস ইভেন্টে অংশ নেবেন আমিনুল। অধিকাংশ ডিসিপ্লিনের মত শুধুই অংশগ্রহনে সীমাবদ্ধ রোয়িং। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিদেশের আসরে অংশ নিতে পারাতেই তৃপ্ত ফেডারেশন। রোয়িং ফেডারেশনের সারা বছরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ শুধুমাত্র নৌকাবাইচে।

 

টাইমিংয়ের উন্নতি চান বাংলাদেশের সাঁতারুরা

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমসে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাঁতারুরা যখন স্বর্ণ জয়ের স্বপ্নে বিভোর, বাংলাদেশের সাঁতারুরা তখন স্বপ্ন দেখেন টাইমিংয়ে উন্নতি করার। নিজের সেরাটা দিয়ে অতীতের চেয়ে কিছুটা ভালো করে খালিহাতে দেশে ফেরাই যেনো গৎবাঁধা নিয়মে পরিনত হয়েছে। গেমস থেকে পদক জয়ের কোন লক্ষ্য নেই তাদের। এজন্য অবশ্য সাঁতারুদের দোষারোপ নয়, বরং দেশের ক্রীড়া সংস্থার অভিবাবক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকেই (বিওএ) দায়ী করাটা শ্রেয়। অনুশীলনের ঘাটতি আর সুযোগ-সুবিধার অভাবেই আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে ভালো করতে পারছেন না সাঁতারুরা। আজ সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হ‌ওয়ার কথা এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসরের।

এবারের গেমসে ৪০টি ইভেন্টের মধ্যে লাল-সবুজরা অংশ নিচ্ছে ১৪টি ইভেন্টে। এরমধ্যে সাঁতার ইভেন্টটিও আছে। বিওএ স্বপ্ন দেখছে আরচ্যারি, কাবাডি ও শ্যুটিং থেকে পদক জয়ের। স্বর্ণ নয়, বরং রৌপ্য কিংবা ব্রোঞ্জ পদক পেলেই খুশী তারা। সম্ভাবনাময় ইভেন্ট সাঁতারসহ অন্য কোন ইভেন্ট নিয়ে মাথা ব্যাথ্যা নেই বিওএ’র। তাই ‘নামকাওয়াস্তে’ অংশগ্রহনের জন্য দল প্রেরণ করেই দায়বোধ সারছে সংস্থাটি। একটা সময় সাঁতার ছিল সবচেয়ে সম্ভাবনার ইভেন্ট। যে ইভেন্টের দিকে একটু নজর দিলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সুনাম কুড়ানো সম্ভব ছিল। অথচ নিজেদের পরিকল্পনার অভাবে আজ সাঁতারুদের মান দিন দিন অবনমনের পথে।

এশিয়ান গেমসে এবার বাংলাদেশ দলের হয়ে অংশ নিচ্ছেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। দেশসেরা এ দুই সাঁতারু বিভিন্ন পাঁচটি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবেন। সাগর নিজের পছন্দের ডিসিপ্লিন ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রি ষ্টাইলে লড়াই করবেন। জাকার্তায় গিয়ে অনুশীলনের একটু সুযোগ পেলে ২০০ মিটার ফ্রিষ্টাইলেও দেখা যেতে পারে তাকে। আর বৃষ্টি ১০০ ও ৫০ মিটার ব্রেষ্ট ষ্ট্রোক ছাড়াও পুলে নামবেন ৫০ মিটার ফ্রি ষ্টাইলে। ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হওয়া এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এ আসর নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই দেশসেরা সাঁতারু সাগরের। প্রস্তুতির স্বল্পতা নিয়েই যতো অভিযোগ তার। আক্ষেপের সঙ্গেই বলেন, ‘গত মার্চ-এপ্রিলে এশিয়ান গেমসের জন্য আমাদের দু’জনকে বাছাই করা হলো। তখন বেশ ভালোই লেগেছিল এই ভেবে যে, প্রস্তুতির জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে দেখা গেলো অতীত চিত্র। মাত্র এক মাস আগে শুরু হলো ক্যাম্প। যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষরা বছর জুড়ে অনুশীলন করছেন কোচের তত্বাবধায়নে। আলাদা ফিজিও রাখা হচ্ছে। ফুড সাপ্লিম্যান্ট দেয়া হচ্ছে তাদের। আর আমাদের ক্ষেত্রে ফিজিওতো দূরের কথা, ঠিক মতো ক্যাম্পই শুরু হয় না। মনে হয়, অংশগ্রহনের জন্যই আমাদের মুধু পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে। এতে করে গেমস শেষে কি হয়? সংবাদ পত্রে আমাদের তুলোধূনো করা হয়। মানুষজন ভাবে সব দোষ সাঁতারুদের। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে কখনোই পদক জয় করা সম্ভব নয়।’

পাবনার এ সাঁতারুর কণ্ঠে রয়েছে হতাশার সুর, ‘সাঁতারু হয়ে মনে হয় ভুলই করেছি। যদি সাঁতারু না হতাশ তবে পড়ালেখা শেষ করে হয়তো ভালো বেতনে চাকরী করতাম।’

এশিয়ান গেমসে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে সদ্য বিয়ে ঠিক হওয়া এ সাঁতারু বলেন, ‘মাত্র এক মাসের অনুশীলনে কিছুই করা সম্ভব নয়। টাইমিংয়ে উন্নতি করাই মূল টার্গেট।’

মহিলা সাঁতারু হিসেবে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন সেরা সাঁতারু ক্যাম্প থেকে উঠে আসা খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। তারও লক্ষ্য নিজের টাইমিংয়ে উন্নতি করা, ‘আমি খুব এক্সাইটেড প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিতে পারায়। নিজের পছন্দের ইভেন্ট ৫০ মিটার ব্রেষ্ট ষ্ট্রোকে উন্নতি করতে চাই। এখানে আসলে পদকের জন্য আসিনি। অভিজ্ঞতা অর্জনটাই আসল কথা।’

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের ড্র

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারলো না বাংলাদেশ। তবে এশিয়ান গেমস ফুটবলে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে তারা।

জাকার্তার পাকান সারি স্টেডিয়ামে, প্রথমে এগিয়ে থেকেও থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে লাল-সবুজের দল। গোল শূন্য প্রথমার্ধের পর খেলার ৫২ মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

পরে গোল পরিশোধের চেষ্টায় বাংলাদেশের সীমানায় বারবার আক্রমণ করে থাইল্যান্ড। ৮০ মিনিটে বদলী খেলোয়াড় সুপাচাই চাইডেডের সমতায় ফেরান থাইল্যান্ডকে। এ ম্যাচ জিতলে পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা ছিলো বাংলাদেশের।

এশিয়ান গেমসে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী ১৯ আগস্ট কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

উজবেকিস্তানের কাছে হারল বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস ফুটবলে বি গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে উজবেকিস্তান। তবে বাংলাদেশের গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানার দৃঢ়তায় বেশি গোলের জয় পাওয়া হয়নি তাদের।

ইন্দোনেশিয়ার পাকান সারি স্টেডিয়ামে, খেলার শুরু থেকেই বাংলাদেশের সীমানায় আক্রমণ করে খেলতে থাকে উজবেকিস্তান। ২৩ মিনিটে ইউরিনবোয়েভের গোলে এগিয়ে যায় তারা। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল পায়নি উজবেকিস্তান।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। ৫৭ মিনিটে খামদামভ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৬৬ মিনিটে ‘হোয়াইট উলভ’দের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আলীবায়েভ। বাকী সময়ে আর কোনো গোল না হলে, ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে উজবেকিস্তান।

আগামী ১৬ আগস্ট নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জামাল ভূঁইয়ার দলের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড।

ভাল খেলতে নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই : রোমান সান

বাংলাদেশ আর্চারির সম্ভাবনাময় তরুণ রোমান সানা। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ব্যক্তিগত রিকার্ভে পৌঁছেছিলেন তৃতীয় রাউন্ডে। টোকিও অলিম্পিক পর্যন্ত বৃত্তি পেয়ে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন সুইজারল্যান্ডে। এশিয়ান গেমসে নিজের সেরা স্কোর করে ছাড়িয়ে যেতে চান রোমান সানা নিজেকেই।

প্রশ্ন : এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে?

রোমান সানা : খুবই ভালো। সিটি গ্রুপের তীর স্পন্সর হওয়ার পর টানা অনুশীলনে আছি আমরা। বাংলাদেশের আর্চারিতে এটা ভাবা যেত না একটা সময়। জার্মান কোচ ফ্রেডরিখ আসার পর সবার স্কোরে উন্নতি হয়েছে অনেক। আমরা প্রথমবার সুযোগ পেয়েছি আর্চারি বিশ্বকাপে। এ সাফল্যটা ছোট করে দেখা যাবে না। আর্চারি বিশ্বকাপ অনেক মর্যাদার টুর্নামেন্ট। সেখানে প্রথমবার অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলেছিল বাংলাদেশ।

প্রশ্ন : ব্যক্তিগত ইভেন্টে আপনি পৌঁছেছিলেন তৃতীয় রাউন্ডে। সব মিলিয়ে হয়েছেন ১৭তম। এটা কি সন্তুষ্টির?

রোমান সানা : প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৭তম হওয়া অবশ্যই সন্তুষ্টির। আমরা চাইনিজ তাইপের চেয়ে আর্চারিতে অনেক পিছিয়ে। সেখানে সেই দেশের আর্চারকে হেড টু হেডে হারিয়েছি আমি। আসলে আমাদের খেলাটাই হেড টু হেডের। ঠিক সময়ে ভালো কয়েকটা নিশানা দরকার।

প্রশ্ন : সেই প্রস্তুতি নিশ্চয়ই আছে আপনার?

রোমান সানা : তা তো বটেই। অজুহাত শোনাতে পারে, এর পরও বলে রাখি—জাকার্তায় বাতাস সমস্যা করতে পারে কিছুটা। জার্মানি বিশ্বকাপে সেই সমস্যায় পড়েছিলাম। আমাদের বাংলাদেশে সাধারণত প্রচণ্ড বাতাস থাকে না। অনুকূল পরিবেশে অনুশীলন করতে পারি। কিন্তু বাইরের দেশে ব্যাপারটা আলাদা। জার্মানি বা ইন্দোনেশিয়ায় বাতাসের গতি প্রচণ্ড। তাতে সমস্যা হতে পারে কিছুটা। ব্যাপারটা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও এক। আমি চেষ্টা করব নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

প্রশ্ন : রিকার্ভের ব্যক্তিগত ইভেন্টে আপনার সেরা স্কোর কত?

রোমান সানা : খুব খারাপ বলব না। ৭২০-এর মধ্যে ৬৭৯। এ স্কোরটা করতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালে পৌঁছানো অসম্ভব নয়। এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, চাইনিজ তাইপে, জাপানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্কোর জানি। ৬৭৫ থেকে ৬৯০-এর ঘরে ঘোরাফেরা করে স্কোরটা। আমি নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারলে, দেখা যাক কী হয়?

প্রশ্ন : কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ বাংলাদেশের সেরা আর্চার মনে করেন আপনাকে।

রোমান সানা : আমার সৌভাগ্য তিনি এতটা পছন্দ করেন। সুইজারল্যান্ডে আমার বৃত্তি পাওয়ায় ভীষণ খুশি তিনি। কোচ হয়ে এসে আপন করে নিয়েছেন পুরো দেশটাকে। আমরা যেমন দেশের জন্য ভালো করতে সব উজাড় করে খেলতে চাই, তেমনি ফ্রেডরিখও নিজের জানা সব কৌশল শেখাচ্ছেন আমাদের।

পদক জয়ে ভালো কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলন দরকার: মাবিয়া

এসএ গেমসে ভারোত্তোলনে সোনা জয়ের পর অর্নাস বোর্ডে দাঁড়ানো মাবিয়া আক্তার সীমান্তের কান্না হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল গোটা বাংলাদেশকে। গত কমনওয়েলথ গেমসে হয়েছিলেন ষষ্ঠ। জাকার্তায় হতে যাওয়া ১৮তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী দিনের মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা থাকছে সেই মাবিয়ার হাতেই। দেশের পতাকা বহণ করা নিয়ে জানালেন নিজের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও হতাশার কথা।


 

প্রশ্ন : গেমসের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের পতাকা থাকছে আপনার হাতে।

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত : খবরটা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমাকে জানানো হয় ৭ আগস্ট। সেদিন ছিল আমার জন্মদিন। জন্মদিনে এর চেয়ে ভালো উপহার আর কীই বা হতে পারে?

প্রশ্ন : দায়িত্বও তো বেড়ে গেল অনেক?

মাবিয়া : তা তো বটেই। পুরো দেশের ভার আমার কাঁধে। আমি গর্বিত এ জন্য। সম্মানের সঙ্গে পালন করতে চাই দায়িত্বটা। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে কৃতজ্ঞতা জানাই এত বড় একটা দায়িত্ব আমাকে দেওয়ার জন্য।

প্রশ্ন : এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি কেমন হলো আপনার?

মাবিয়া : এসএ গেমসের পর ভেবেছিলাম টানা অনুশীলনের মধ্যে থাকবো। ফেডারেশন বিদেশি কোচ নিয়োগ দেবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। কমনওয়েলথ গেমসের পর বসে ছিলাম। জাকার্তায় যাচ্ছি মাত্র একমাস অনুশীলন করে। এত কম অনুশীলনে ভালো করা খুবই কঠিন। এরপরও দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আমি।

প্রশ্ন : এসএ গেমসে আপনার সঙ্গে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ফিরোজা পারভীন। তাঁকেই তো কোচ নিয়োগ করা হয়েছে আপনার?

মাবিয়া : এ নিয়ে আমার কী করার আছে। পারভীন আপা আমার চেয়ে বয়সে বড়। এ জন্য হয়তো ফেডারেশন তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে। আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চমৎকার। নিজের যতটা অভিজ্ঞতা আছে সেটা ভাগাভাগি করছেন পারভীন আপা। কিন্তু আমাদের আসলে আরো একটু ভালো কোচ দরকার। যেমন অবিনাশ পান্ডে এসেছিলেন ২০১৪ সালে। করিয়েছিলেন ১৫ দিনের একটি কোচেস কোর্স। পরে তিনি কোচ হন ইন্দোনেশিয়ার। তাঁর হাত ধরে অলিম্পিকে রুপা জিতেছে ইন্দোনেশিয়া। আমাদেরও এ ধরনের অভিজ্ঞ কোচ দরকার।

প্রশ্ন : গোল্ড কোস্টে সব মিলিয়ে ১৮০ কেজি ওজন তুলেছিলেন আপনি। জাকার্তায় আপনার লক্ষ্য কী?

মাবিয়া : আপাতত লক্ষ্য ১৮০ কেজি ওজনটাই ধরে রাখা। এত কম ওজন তুলে পদক জেতা যাবে না। কিন্তু প্রস্ততি হবে এসএ গেমসের। একটা সময় শ্রীলঙ্কা, নেপালের মতো খেলোয়াড়রা হারতো আমাদের সঙ্গে। সেই তারাও এখন পদক জিতছে কমনওয়েলথ গেমসে। আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। ব্যবধানটা কমানোর সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের ভারোত্তোলকদের। আমারও সামর্থ্য আছে ১৮০ কেজির বেশি উত্তোলনের। এ জন্য শুধু ভালো একজন কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলন করা দরকার। আশা করছি ফেডারেশন সেই সুযোগটা করে দেবে।

বাংলাদেশ দলের ফটোসেশস

আসন্ন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ হতে ১৪টি ডিসিপ্লিনে ১১৭ জন খেলোয়াড় এবং প্রশিক্ষক, টীম ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ ১৬৩ সদস্যের একটি দল অংশগ্রহণ করবে। আগামী ১৮ আগষ্ট হতে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং পালেম্বাং শহরে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম এশিয়ান গেমস।

এতে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ উপলক্ষে আজ বুধবার দুপুরে অলিম্পিক ভবনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, গেমসের ডেপুটি সেফ দ্য মিশন এবং বিওএ’র সদস্য এ,কে সরকার, বিওএ’র উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু, উপ-মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর এবং বিওএ’র কোষাধ্যক্ষ কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।

সংবাদ সম্মেলনে বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা গেমসের বিস্তারিত তথ্যাদি উপস্থাপন করেন। গেমসের ডেপুটি সেফ দ্য মিশন এ,কে সরকার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে গেমসে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়।

কাবাডিতে পদক পুনরুদ্ধার ও ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্তির পর থেকে কাবাডিতে নিয়মিতই পদক আসতো বাংলাদেশের। ১৯৯০ বেইজিং ও ১৯৯৪ হিরোশিমা এশিয়াডে কাবাডিতে রৌপ্যপদক জিতেছিল। ১৯৯৮’র এশিয়াডে ব্যাংককে রৌপ্য হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরের আসরে বুসান থেকে আবার লাল-সবুজ জার্সিধারীরা পুনরুদ্ধার করে হারানো রৌপ্য।

কিন্তু সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১০ সালে চীনের গুয়াংজু ও ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন এশিয়ান গেমস থেকে শূন্য হাতে ফেরে পুরুষ কাবাডি দল। যদিও ২০১০ সালে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মেয়েদের কাবাডিতে আসরে দু’বারই ব্রোঞ্জ জিতে বাংলাদেশ নাম লিখেছিল পদক তালিকায়। এশিয়ান গেমসে হারানো গৌরব ফেরাতে মরিয়া কাবাডি ফেডারেশন। এই আসরকে সামনে রেখে গত ৫ ডিসেম্বর থেকে প্রস্তুতি চলছে পুরুষ কাবাডি দলের। পরপর দু’টি এশিয়ান গেমসে পদকশূন্য থাকার হতাশা কাটাতে কোচ সুবিমল চন্দ্র দাসের অধীনে চলছে অনুশীলন। মেয়েদের পদক ধরে রাখতে দলকে প্রস্তুত করছেন কোচ আবদুল জলিল। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতি, দীর্ঘদিন কোনো প্রতিযোগিতামূলক কোনো টুর্নামেন্ট না খেলা এবং এশিয়াডে অংশ নেয়া দলগুলোর মান বৃদ্ধিতে পদক ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়েছে নারী দলের।

৪৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে অনাবাসিক ক্যাম্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল কাবাডির এশিয়ান গেমস প্রস্তুতি। পরে ৩০ জন নিয়ে শুরু হয়ে আবাসিক ক্যাম্প। এখন ১৫ জন নিয়ে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এশিয়ান গেমসের দল হবে ১২ জনের।
দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও কাবাডি দলকে প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার আক্ষেপ নিয়েই যেতে হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ায়।

পুরুষ দল একটা জায়গায় থাকলেও নারী দলের অবস্থা খুব একটা ভালো না। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ এশিয়ান গেমসের পর নারী দলের কোনো খেলা নেই। ফেডারেশনও আয়োজন করেনি কোনো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা। দল গঠনের জন্য বিজয় দিবস কাবাডি অনুষ্ঠিত হলেও এতে সন্তুষ্ট ছিল না খেলোয়াড়রা। এই টুর্নামেন্ট থেকে ৩০ জনকে বাছাই করে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় প্রস্তুতি। ফেডারেশনের নিজস্ব অর্থায়নে চলা এই ক্যাম্পের পরও এশিয়ান গেমসে পদক ধরে রাখার কথা বলতে পারছেন না দলটির কোচ আবদুল জলিল।

আরচারিতে সাফল্যের আশা

গেল কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে আরচারি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আসরও বসেছে ঢাকায়। এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ের পর সবচেয়ে বড় বহর এবারেরর গেমসে আরচারির। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত ট্রেনিংয়ের পরও সেই আরচারিও এশিয়ান গেমস নিয়ে আশার কথা শোনাতে পারছে না। অন্য ডিসিপ্লিনের মতো তাদের প্রত্যাশা অতীতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। লক্ষ্য বড় জোর কোয়ার্টার ফাইনাল।

মাত্র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে এসেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। এসেই ব্যস্ত এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে। আগামী ১৮ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়ান গেমসে তীর-ধনুকের লড়াইয়ে নামবেন প্রতিযোগীরা। দীর্ঘ প্রস্তুতির আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠেছে বাংলাদেশের আরচাররা। তাছাড়া ঢাকায় ইসলামিক সলিডারিটি ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পদক তালিকার শীর্ষে থেকে আলোড়ন তোলেন রোমান সানা-সজীবরা। তাতে আত্মবিশ্বাসী হয়েই এশিয়ান গেমসে খেলবেন আরচাররা। আরচারদের মানোন্নয়নে বিখ্যাত কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল পদক জয়ের আশ্বাস না দিলেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের কথা উল্লেখ করেন। সাফ চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের অভিজ্ঞতা যেখানে আছে সেখানে পদক জয় সম্ভব নয় কেন? চপল বলেন, ‘অলিম্পিকের পর এশিয়ান গেমসই বড় গেমস। সুতরাং এখানে পদক জিতব সেই আশা করাটা এখনই ঠিক হবে না। তবে জার্কাতা গেমসে বাংলাদেশের আর্চাররা কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ১৩ জন আরচার অংশ নেবেন। রিকার্ভ বিভাগে চারজন পুরুষ, তিনজন মহিলা, কম্পাউন্ডে তিনজন পুরুষ ও তিনজন মহিলা অংশ নেবেন। দুই কোচ হিসেবে যাচ্ছেন মার্টিন ফ্রেডরিখ ও জিয়াউল হক।

টাইমিংয়ের উন্নতি চাইছে অ্যাথলেটিক্স

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর র্পযন্ত ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পালেমবাংয়ে হবে ১৮তম এশিয়ান গেমসের আসর। এই আসরে ১৪ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। অ্যাথলেটিক্স দল‌ও প্রস্তুতি নিচ্ছে এশিয়ান গেমসের। গত এশিয়ান গেমসে সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্স না রাখায় বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন-বিওএ। পারফরমেন্সের উন্নতি না ঘটলেও সমালোচনার মুখে ডিসিপ্লিন দুটিকে এবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাঁতারের মতো অ্যাথলেটিক্সে দুজন অ্যাথলেটকে জাকার্তা পাঠাচ্ছে ফেডারেশন।

দুজনই ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত বছর জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের পারফরমেন্সের ওপর ভিত্তি করেই আবু তালেব ও সুমী আক্তার নামে এ দুজনকে চূড়ান্ত করা হয়। পদকের প্রত্যাশা না দেখালে টাইমিংয়ে উন্নতির কথাই জানান এই দুই প্রতিযোগী।

অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিলো। অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের নিয়মিত পদক আসতো এসএ গেমস থেকে। ১৯৮৫ ও ১৯৯৩ সালে দ্রুততম মানব হন বাংলাদেশের দুই অ্যাথলেট শাহ্‌ আলম ও বিমল তরফদার। দক্ষিণ এশিয়া ছাড়িয়ে স্বপ্নের এশিয়ান গেমসে আলো ছড়াবে এই প্রত্যাশাও জেগেছিল। এখন এশিয়ান গেমসে তো দূরের কথা এসএ গেমসে অ্যাথলেটিক্সে পদক জেতাটা স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন ব্যর্থতায় শুধু অ্যাথলেটদের সমালোচনা করেও লাভ নেই। উপযুক্ত ট্রেনিং ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণে দিনকে দিন পিছিয়ে পড়ছে অ্যাথলেটরা। এক্ষেত্রে ফেডারেশন ও অলিম্পিক এসোসিয়েশনের দায় এড়ানো যায় না। এশিয়ান গেমসে ৪০০ স্প্রিন্টে অংশ নেবেন আবু তালেব। সুমি আক্তার অংশ নিবেন ৪০০ ও ৮০০ মিটার স্প্রিন্টে। দুজনায় গতবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে র্স্বন পদক জিতেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে অ্যাথলেটিক্সের প্রধান আকর্ষণ ১০০ মিটার স্প্রিন্টে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দ্রুততম মানব-মানবীর খেতাব পাওয়া মেজবাহ ও শিরিনকে গুরুত্বপূর্ণ গেমসে না পাঠানোয়।

এই দুই অ্যাথলেটকে দিয়ে এশিয়াডে ফেডারেশেনর প্রত্যাশা হলো টাইমিংয়ের উন্নতি করা। জাতীয় প্রতিযোগিতায় সুমি শুধু ৪০০ মিটার নয় আরও দুটি ইভেন্টে প্রথম হয়ে সেরা অ্যাথলেটের পুরস্কার জিতেছেন। ৪০০ মিটারে সুমির টাইমিং ৫৭.৬০ সেকেন্ড আর তালেবের ৪৮.৯০ সেকেন্ড। সামার অ্যাথলেটিক্সেও সুমি শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলেও ৪০০ মিটারে পদক হারিয়েছে আবু তালেব। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই স্প্রিন্টার। সুমি এবারের সামার মিটে চারটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সবকটিতে স্বর্ণ জিতে সেরা অ্যাথলেট নির্বাচিত হন। গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে এই অ্যাথলেটরা বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ গুয়াংজু

এশিয়ান গেমসে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামীকাল বেলা দেড়টায় দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু ফুটবল দলের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ফুটবল দল।

এ উপলক্ষে সেখানকার মকপো ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ বিকেলে অনুশীলন করেছে অস্ট্রেলিয়ান কোচ এন্ড্রু অর্ডের শিষ্যরা। কোচ জানান, দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেসের উন্নতি হয়েছে। তবে ম্যাচ শেষেই বুঝা যাবে আসলে কতটা উন্নতি হলো।

তিনি মনে করেন, ম্যাচটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাছাড়া এ ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলবে তার দল।

টাইমিংয়ের উন্নতিই লক্ষ্য সাঁতারের

এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসরকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন দুই সাঁতারু সাগর আর বৃষ্টি। তবে স্বল্প দিনের প্রস্তুতিতে ক্ষুব্ধ দু’জনেই। জানান কোন পদক নয়, তাদের লক্ষ্যটা টাইমিংয়ের উন্নতি। সঙ্গে হিট পেরিয়ে খেলতে চান মূল লড়াইয়ে। আর এশিয়াডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পদক জিততে চান এসএ গেমসে।

এবার বাংলাদেশ থেকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে যাচ্ছেন দুই সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর আর খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। এতবড় একটা আসর অথচ প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তিন সপ্তাহও হয়নি। তাইতো এই ইভেন্টে পদকের স্বপ্নকে দূরে ঠেলে সাগরের লক্ষ্যটা আপাতত হিটের বাধা পেরুনো।

অন্যদিকে খাদিজা আক্তার মাত্র দেড় বছর আগে ‘সেরা সাঁতারু’ থেকে এ পর্যন্ত উঠে এসেছেন। প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশের। তবে সে রোমাঞ্চকে পাশ কাটিয়ে লক্ষ্যটা নিজের টাইমিংয়ের উন্নতি।

অনুশীলনে শিষ্যদের বিভিন্ন পরামর্শ দিলেও দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না কোচ তে গুন পার্ক। তার মতে, দীঘমেয়াদী ক্যাম্প না হলে এই ইভেন্টেই পদকের আশা করাটা বোকামি।

আসরে ৫০, ১০০ ও ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে লড়বেন সাগর। আর ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলের সঙ্গে ৫০ ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে পুলে নামবেন বৃষ্টি। এশিয়াডে অংশ নিতে ১৬ আগস্ট দেশ ছাড়ার কথা এই দুই সাঁতারুর।