ঢাকাWednesday , 8 April 2026
  1. NSC
  2. world cup cricket t20
  3. অলিম্পিক এসোসিয়েশন
  4. অ্যাথলেটিক
  5. আইপিএল
  6. আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি
  7. আন্তর্জাতিক
  8. আরচারি
  9. এশিয়া কাপ
  10. এশিয়ান গেমস
  11. এসএ গেমস
  12. কমন ওয়েলথ গেমস
  13. কাবাডি
  14. কুস্তি
  15. ক্রিকেট

‘বিসিবিতে সার্কাস, ২ হাজার টাকায় টিকিট কেটে দেখলেও বৃথা যাবে না’

BDKL DESK
April 8, 2026 8:35 pm
Link Copied!

বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর। ক্ষমতার পালাবদল, বোর্ড ভেঙে দেয়া এবং নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের ঘটনায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গন যখন উত্তাল, তখন এই পরিস্থিতিকে ‘সার্কাস’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ।
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিসিবির ভেতরেও শুরু হয় অস্থিরতা। দীর্ঘদিন সভাপতি থাকা নাজমুল হাসান পাপন পদত্যাগ করার পর থেকেই বোর্ডে নেতৃত্ব পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সভাপতির দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ, এরপর ২০২৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে সেই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে শেষ পর্যন্ত বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।

এই সিদ্ধান্তের পরপরই নতুন করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে আনা হয়েছে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। হঠাৎ এই পরিবর্তন এবং নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেয়ার ঘটনায় দেশের ক্রিকেটে অস্থিতিশীলতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন বিসিবির নীতিনির্ধারণী ধারাবাহিকতা ভেঙে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আফতাব আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় বিসিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যে পরিমাণ সার্কাস চলছে ক্রিকেট বোর্ডে, যদি ২ হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেনেন, সেই টিকিটও বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড। তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

আফতাব তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার তুলনাও টানেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কাজ করলেও তিনি সেখানকার ক্রিকেট বোর্ডের কাঠামো বা সদস্যদের পরিচয় নিয়ে জনসমক্ষে তেমন কোনো আলোচনা দেখেননি। অথচ বাংলাদেশে বোর্ডের প্রতিটি বিষয় গণমাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ পায় যে সাধারণ মানুষ না চাইলেও সবকিছু জেনে যায়। এই অতিরিক্ত প্রচার ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকেই তিনি ‘সার্কাস’ হিসেবে অভিহিত করেন।

এদিকে, বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে দাবি করেছেন, এনএসসি অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত পর্ষদ ভেঙে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিসিবির স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা থামছে না। কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্রীড়া অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঘন ঘন বোর্ড পরিবর্তন, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন এক অস্থির সময় পার করছে। মাঠের খেলাকে ছাপিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েনই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, যা নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের মতো সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।