তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম। এবার তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানিয়ে ক্রিকেটারদের সংগঠনটি লিখেছে, ‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্য ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর নজরে এসেছে। আমরা এতে স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।’
এমন বক্তব্য মেনেই নিতে পারছে না সংগঠনটি, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার, দেশের হয়ে ১৬ বছর খেলা ক্রিকেটারকে নিয়ে একজন বোর্ড কর্মকর্তার এমন মন্তব্য চরম নিন্দনীয়। শুধু তামিমের মতো একজন বলেই নয়, দেশের যেকোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক। আমরা এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
বিসিবি সভাপতির কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে কোয়াব উল্লেখ করেছে, ‘একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন জাগে। বিসিবি সভাপতির কাছে এর মধ্যেই আমরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বিসিবি সভাপতি।’
এর আগে, নাজমুল তামিমের দীর্ঘ পোস্টের একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে লেখেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’ পরে তিনি এই পোস্ট সরিয়ে দিলেও ততক্ষণে ভাইরাল। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন নাজমুল। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, বোর্ডের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তা শঙ্কা ও মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া নিয়ে বাংলাদেশ দলের ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমানে সরগরম ক্রীড়াঙ্গন। এই বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের মতামত দেন তামিম ইকবাল। তিনি মূলত আবেগের চেয়ে ক্রিকেটীয় বাস্তবতা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়া অবশ্যই দুঃখজনক। তবে অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যা সমাধান করা যায়। আমি বোর্ডে থাকলে হুট করে মন্তব্য না করে দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতাম।’ এছাড়া বৈশ্বিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন দেশের এই সফলতম ওপেনার।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
