আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর এখন উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে নির্ধারিত হয়েছে সুপার এইটের চিত্র। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের পরাশক্তি ও চমক জাগানো কয়েকটি দল, ফলে শিরোপার দৌড়ে প্রতিযোগিতা এখন আরও জমে উঠেছে।
গ্রুপ পর্ব শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তান সুপার এইটে জায়গা করে নেয়। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহ্যবাহী সিংহলজি সুপার স্পোর্টস গ্রাউন্ডে সাহিবজাদা ফারহানের অপরাজিত সেঞ্চুরি, শাদাব খান ও উসমান তারিকের ঘূর্ণিতে নামিবিয়া উড়িয়ে দেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের জন্য নামিবিয়ার ম্যাচটি ছিল ‘বাঁচা-মরার’। জয় পেলেই সরাসরি সুপার এইটে, এমনকি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও এগিয়ে থাকত তারা। পাকিস্তান হেরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ তৈরি হতো টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ আটে ওঠার।
সুপার এইটের কাঠামো আগেই নির্ধারিত ছিল। প্রথম পর্বে গ্রুপে অবস্থান যাই হোক না কেন, নির্দিষ্ট সিডিং অনুযায়ী দলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে। কোনো বাছাই দল বাদ পড়লে তাদের সিডের জায়গা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট গ্রুপ থেকে উঠে আসা অবাছাই দল। সে কারণেই পূর্বনির্ধারিত অস্ট্রেলিয়ার (বি১) স্থানে খেলছে জিম্বাবুয়ে। একইভাবে পাকিস্তান বাদ পড়লে এ২ সিডে জায়গা নিত যুক্তরাষ্ট্র।
সুপার এইট পর্বে প্রতিটি গ্রুপের চার দল একে অন্যের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। সেমিফাইনালে এক নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন খেলবে দুই নম্বর গ্রুপের রানার্সআপের বিপক্ষে, আর দুই নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে এক নম্বর গ্রুপের রানার্সআপের।
সূচি অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সুপার এইটের লড়াই। ২২ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলে শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড এবং আহমেদাবাদে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের।
পরবর্তী দিনগুলোতে পাল্লেকেলে, কলম্বো, আহমেদাবাদ, চেন্নাই, দিল্লি ও কলকাতায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বাকি ম্যাচগুলো। ২৬ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং চেন্নাইয়ে ভারত-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ রয়েছে। ১ মার্চ দিল্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে এবং কলকাতায় ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে সুপার এইট পর্ব।
এবারের সূচিতে একটি বিশেষ দিক হলো শ্রীলঙ্কা ও ভারতের ভেন্যুগুলোতে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কলম্বো ও পাল্লেকেলের পাশাপাশি আহমেদাবাদ, মুম্বাই, চেন্নাই, দিল্লি ও কলকাতায় ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে, যা দর্শক-উপস্থিতি ও সম্প্রচার দিক থেকে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে।
সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট এখন এক নতুন লড়াইয়ের মঞ্চ। গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশ পেরিয়ে এখন প্রতিটি ম্যাচই কার্যত ‘নকআউটের’ সমান গুরুত্ব বহন করছে। শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি লড়াই, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং তারকা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের দশম আসরের শিরোপা দৌড় এখন আরও তীব্র ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
