ঢাকাWednesday , 25 February 2026
  1. world cup cricket t20
  2. অলিম্পিক এসোসিয়েশন
  3. অ্যাথলেটিক
  4. আইপিএল
  5. আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরচারি
  8. এশিয়া কাপ
  9. এশিয়ান গেমস
  10. এসএ গেমস
  11. কমন ওয়েলথ গেমস
  12. কাবাডি
  13. কুস্তি
  14. ক্রিকেট
  15. টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

উপেক্ষিত বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার, বাধ্য হয়ে খেলছেন জেলা পর্যায়ে

BDKL DESK
February 25, 2026 5:33 pm
Link Copied!

বগুড়া ও রাজশাহীর বিসিএল ওয়ানডে ম্যাচে যখন ব্যাট-বলের লড়াইয়ে শরিফুল ইসলাম, আকবর আলী কিংবা তানজিদ হাসান তামিমরা, তখন মাগুরার এক স্থানীয় মাঠে নড়াইল জেলা দলের হয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ব্যস্ত অভিষেক দাস।

২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ব্যাচের প্রায় সব সদস্যই যখন জাতীয় দল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটের মূল মঞ্চে দাপট দেখাচ্ছেন, তখন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এই পেস অলরাউন্ডার সুযোগই পাচ্ছেন না ঠিকমতো। ৫ বছর পর এনসিএল টি-টোয়েন্টি দিয়ে পেশাদার ক্রিকেটে ফিরলেও এরপর বিপিএল আর সর্বশেষ বিসিএল কোথাও জায়গা হয়নি অভিষেকের। অগত্যা ম্যাচ প্রাকটিসের জন্য বসে না থেকে জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট খেলছেন তিনি।

অভিষেকের সেই বিশ্বকাপজয়ী ব্যাচের শরিফুল ইসলাম, তানজিদ তামিম ও তানজিদ হাসান সাকিব জাতীয় দলে খেলছেন নিয়মিত। বিসিএল-এর বর্তমান আসরে আকবর আলী করেছেন বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, রান পাচ্ছেন পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম পাটোয়ারীরাও। অথচ একই ব্যাচের অভিষেক দাসের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

গত বছর এনসিএল টি-টোয়েন্টি দিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পেশাদার ক্রিকেটে ফিরে খুলনা বিভাগকে এক রোমাঞ্চকর জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। ৩.৫ ওভারে ৫১ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ১১ বলে ২৭ রানের সেই ক্যামিও ইনিংসটি প্রমাণ করেছিল অভিষেকের সামর্থ্য। ৩ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে উইকেট না পেলেও বোলিং খুব একটা খারাপ করেননি। ৫ বছর পর পেশাদার ক্রিকেটে ফিরে ছন্দ খুজে পেতেও সময় লাগে অনেকের। কিন্তু এরপর বিপিএলের নিলামে নাম থাকলেও কোনো দল তার ওপর ভরসা রাখেনি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে বিসিএলের সময়। নির্বাচক প্যানেল থেকে সরাসরি বার্তা পাওয়ার পরেও দলে জায়গা হয়নি তার। এ প্রসঙ্গে আক্ষেপের সুরে অভিষেক বলেন, ‘আমাকে এনসিএল টি-টোয়েন্টির সময় বলা হয়, বিসিএলের জন্য রেডি হও। টি-টোয়েন্টি খেললে আর টেস্ট খেলতে পারবা না। এজন্য আমি আর কোনো কথা বলি নাই। এখন বিসিএলে রাখলে তো একটা লক্ষ্য ছিল, কিন্তু রাখে নাই। বিসিএলে আমারে না নেওয়ায় হতাশ হয়েছি। খেলায় ব্যাক করার পরেও যদি সুযোগ না দেয়, তাহলে নিজেকে প্রমাণ করবো কোথায়!’

দল ঘোষণার পর নির্বাচকের সাথে কথা হলে কী জানানো হয়েছে? সে বিষয়ে অভিষেক বলেন, ‘শান্ত (হাসিবুল শান্ত) ভাইকে ফোন দিয়েছিলাম। উনি বলছিল যে টিম কম্বিনেশনের কারণে জায়গা হয়নি। স্যার আমাকে রাখার জন্য বলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার সুযোগ হয়নি বলছিল, আমার তো কিছু করার নাই।’

বিসিএলে সুযোগ না পেয়ে অভিষেক এখন নড়াইল জেলা দলের হয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে মাগুরায় অবস্থান করছেন। জেলা পর্যায়ের অগোছালো মাঠ আর উইকেট নিয়ে আক্ষেপ করে অভিষেক বলেন, ‘এইসব জায়গায় বল ওঠে না ঠিকমতো! একদম লোকাল মাঠ। আমি ভাবলাম যে প্র্যাকটিস তো হবে, তাই খেলি। কারণ নিজের জেলার হয়ে খেললে একটা ইমোশন সবসময় কাজ করে। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করি আর কি! সাদা বলের জন্য এখন আমি ফুল রিদমে আছি। তবে এখানে সবকিছু নিয়মমাফিকই হচ্ছে। খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি আছে, টিএ, ডিএ’ও দেয়। এমনিতে ঠিক আছে আরকি।’

জাতীয় মানের একজন ক্রিকেটারের এভাবে জেলা পর্যায়ে ম্যাচ প্র্যাকটিস করাটা কতটা হতাশাজনক? এমন প্রশ্নে অভিষেকের উত্তর, ‘হতাশ… না আসলে। যারা ফ্রি আছে, সবাই কমবেশি খেলতেছে। খেলা তো নেই। কোথাও না খেলা থাকলে তো খেলতে হবে। দেখা যাক এখন, এটা তো আমার হাতে নাই। আমার খেলা ছাড়া আর কোনো তো উপায় নেই।’

মূলত নিজেকে ছন্দে রাখা, পর্যাপ্ত ম্যাচ প্র্যাকটিস আর নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্যই বর্তমানে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছেন অভিষেক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।