হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সিতে খেলছেন এক বছর ধরে। জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো তেমন কোনো সাফল্য পাননি তিনি। যদিও হামজা আসার পর থেকেই লাল-সবুজের দলের খেলায় বেশ উন্নতি হয়েছে। এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে উঠতে না পারলেও জাতীয় দলের হয়ে নিজের পরবর্তী লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন তিনি। লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডারের চোখ এখন সাফের শিরোপায়।
গত বছর ২৫ মার্চ জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হওয়া হামজার ছোঁয়ায় অনেকটাই বদলে গেছে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১ নম্বর দলটির চেয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে তাদের গ্রুপ প্রতিপক্ষ ভারত (১৩৬), সিঙ্গাপুর (১৪৭) ও হংকং (১৫৫) বেশ এগিয়ে ছিল।
এরপরও কোনো ম্যাচেই এক গোলের বেশি ব্যবধানে হারেনি হাভিয়ের কাবরেরার দল। ভারতের বিপক্ষে ২২ বছর পর পাওয়া জয়ে ‘সি’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থেকে বাছাইপর্ব শেষ করে তারা। হামজার অভিষেকের পর মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার মাঠে নামেন ৯ ম্যাচেই। খেলেন ম্যাচের পুরোটা সময়। গোল করেন মোট চারটি।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এক বছর সফলভাবে পার করা হামজার চোখ এখন দলগত সাফল্যের দিকে, যার শুরুটা করতে চান দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে। ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামজা বলেন, “আমি মনে করি গ্রীষ্মে আমাদের সম্ভবত কিছু প্রীতি ম্যাচ থাকবে। তারপরে আমাদের সাফ থাকবে, আমার মনে হয় সেপ্টেম্বরে, যা আমরা জেতার প্রত্যাশা করছি।”
“আমি মনে করি দেশের মধ্যে এবং নিজেদের মধ্যে, কিছু পারফরম্যান্সের পরে আমরা এখন আমাদের ওপর সেই প্রত্যাশা রাখছি। তারপরে আমরা ২০২৭ অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা পরবর্তী এশিয়ান কাপের জন্য কোয়ালিফাই করতে পারব।”
সিঙ্গাপুরের মাঠে সবশেষ ম্যাচেও বেশ জোরাল সমর্থন পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে হামজার পায়ে বল যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গর্জে উঠেছিল স্টেডিয়ামে উপস্থিত বাংলাদেশের ৬ হাজার সমর্থক।
দেশের বাইরেও ভক্তদের এমন সমর্থনে অভিভূত হামজা বলেন, “এটি চমৎকার, সত্যি বলতে। আমি মনে করি তারা বিশ্বের সেরা ভক্ত।” “তাদের এত বিপুল সংখ্যায় এসে আমাদের সমর্থন করার বিষয়টি অতুলনীয়, তাই আমরা অবশ্যই তাদের অনেক ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি তারা আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
