ঢাকাSaturday , 4 April 2026
  1. NSC
  2. world cup cricket t20
  3. অলিম্পিক এসোসিয়েশন
  4. অ্যাথলেটিক
  5. আইপিএল
  6. আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি
  7. আন্তর্জাতিক
  8. আরচারি
  9. এশিয়া কাপ
  10. এশিয়ান গেমস
  11. এসএ গেমস
  12. কমন ওয়েলথ গেমস
  13. কাবাডি
  14. কুস্তি
  15. ক্রিকেট

হারলেও গোলরক্ষক মিলির বীরত্ব মুগ্ধ করলো প্রতিপক্ষকেও

BDKL DESK
April 4, 2026 10:45 pm
Link Copied!

মালদ্বীপে শুক্রবার অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ দলের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার থাইল্যান্ডের চোনবুরিতে লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের মঞ্চে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ২-০ গোরে হার মানলেও মাঠজুড়ে যে লড়াকু মানসিকতা লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা দেখিয়েছে, তাতে স্কোরলাইনের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাদের লড়াই।

ব্যাংককে ম্যাচের শুরু থেকেই ৯ বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বাংলাদেশের গোলপোস্টের নিচে আজ অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মিলি আক্তার। নিয়মিত গোলরক্ষক রুপ্না চাকমার পরিবর্তে মিলিকে নামিয়ে কোচ পিটার বাটলার যে ফাটকা খেলেছিলেন, তার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন এই তরুণী। প্রথমার্ধে চীনের অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নসাৎ করে দেন তিনি। বিশেষ করে বক্সের ভেতর ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে মিলির সাহসী সেভগুলো গ্যালারিতে করতালির জোয়ার আনে। ফলে শক্তিশালী চীনকে প্রথমার্ধে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে রেখে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফেরার ঠিক এক মিনিট পরই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে। ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে করা এক আক্রমণে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে বল পাঠান চাইনিজ মিডফিল্ডার। সহজ প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে চীনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ইউ শিনগি। গোল হজম করলেও মনোবল হারায়নি বাংলাদেশ। মিলি আক্তার একের পর এক কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে আসা আক্রমণগুলো প্রতিহত করে ব্যবধান বাড়তে দেননি।

তবে ৮২ মিনিটে বক্সের ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া ওয়াং আইফাংয়ের এক বুলেট গতির ফ্রি-কিক আর রুখতে পারেননি মিলি। জোরালো শটটি তার হাতে লেগে জালে জড়ালে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চীন। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় এই স্কোরলাইনেই শেষ হয় লড়াই।
মজার বিষয় হলো, মাসখানেক আগে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সিনিয়র এশিয়ান কাপেও চীনের বিপক্ষে একই ব্যবধানে (২-০) হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও গোলরক্ষক হিসেবে চমক দেখিয়েছিলেন এই মিলি আক্তার। সিনিয়র দল প্রথমার্ধে গোল হজম করলেও অনূর্ধ্ব-২০ দল চীনকে রুখে দিয়েছিল প্রথমার্ধ পর্যন্ত।
পুরো ম্যাচে চীন আধিপত্য বিস্তার করলেও বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড সাগরিকা কয়েকবার কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। তবে চীনের শক্তিশালি ডিফেন্সের কারণে গোলরক্ষক পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

টানা দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমানে ০ পয়েন্ট এবং -৩ গোল ব্যবধানে থাকা বাংলাদেশ যদি আগামী ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে জয় বা ড্র পায়, তবে গ্রুপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হবে। অন্য দুই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকলে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখবে লাল-সবুজের দল—যা হবে দেশের নারী ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস।
ম্যাচ শেষে দেখা যায় এক আবেগঘন দৃশ্য। বাংলাদেশের লড়াকু ফুটবল আর অদম্য সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে লাল-সবুজ ডাগ আউটের সামনে গিয়ে কুর্নিশ (সম্মান) প্রদর্শন করেন চাইনিজ ফুটবলাররা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।