২০১৬ এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জেতার পর জাতীয় পতাকা জড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের সময় স্যালুট জানিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন মাবিয়া আক্তার। তার সেই ছবি তখন অনুপ্রেরণার হয়ে দাঁড়ায় দেশের সকল ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়াবিদদের জন্য। কিন্তু তারকা এই ভারোত্তলক ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন দুই বছরের জন্য।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশোনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের অক্টোবরে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসকে কেন্দ্র করে। সেই আসরে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ভবনে নমুনা জমা দেন মাবিয়া। পরে পরীক্ষায় জানা যায় তার দেহে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার কাজ শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে নেওয়া।
পরে সাউথ এশিয়া অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই গত বৃহস্পতিবার বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) তাকে চিঠি পাঠিয়েছে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার।
শাস্তি হলেও এর বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশোনের (বিওএ) মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘ইতোমধ্যেই একবার আপিল করা হয়েছে। স্বীকার করে নেওয়ায় তাই শাস্তি কম হয়েছে। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মাবিয়া ওষুধ সেবন করেছিলেন। তবে সব ওষুধ প্রেসক্রিপশনে থাকলে খাওয়া যায় না। প্রেসক্রিপশন ওয়াডায় পাঠিয়ে অনুমতি নিতে হয়।’
এ বিষয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বলেন, ‘আপনারা যে সংবাদটা দেখেছেন কথা সত্যি। আমাকে গত গেত বৃহস্পতিবারে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে একটা সাসপেনশন লেটার পাঠিয়েছে। এন্টিডোপিং রুলস ভায়োলেশনের অভিযোগে দুই বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।’
কেন ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলেন, কী অপরাধ করেছিলেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরেন মাবিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর হয়ে গেছে, তখন আমি আমার পায়ে হাঁটুর ট্রিটমেন্টে ছিলাম। তো ওই ট্রিটমেন্ট চলাকালীন অবস্থায় বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশ নেয়। যেটাতে আমরা তো গিয়েছি নভেম্বর মাসে। অক্টোবরের ২৯ তারিখে আমাদের রেন্ডম একটা স্যাম্পল নেওয়া হয়। ওই স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে যখন, তখন আমি হাঁটুর ট্রিটমেন্ট চলা অবস্থায় ছিলাম। আমি যে মেডিসিন খেয়েছিলাম হাঁটু ব্যথার জন্য, সেখানে ডায়াবেটিক্সের একটা ওষুধ ছিল। যেহেতু আমার হাঁটুতে পানি জমে গিয়েছিল, সেই পানি কমানোরও একটা ওষুধ ছিল। ওইগুলোই আমি খেয়েছিলাম। সেগুলো নাকি ওয়েট লিফটিংয়ের জন্য নিষিদ্ধ। এসব বিষয় কিন্তু আমি জানতাম না। তখনই স্যাম্পল নিয়েছিল এবং আমার ওই টেস্টে পজিটিভ আসে। সে জন্যই আমাকে দুই বছর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’
নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আপিল করবেন মাবিয়া। তিনি বলেন, ‘তবে একটা আপিলের অপশন আছে ১৪ দিনের। আমি আপিল করব, দেখা যাক কি হয়।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে জাতীয় দলে পথচলা শুরু করা মাবিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন। তার অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি স্বর্ণপদক, যার মধ্যে ২০১৬ ও ২০১৯ সালের এসএ গেমসে টানা দুই আসরে সোনা জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, Bangladesherkhela.com এর দায়ভার নেবে না।
