অধরা শিরোপায় চুমু বাংলাদেশের

অধরা শিরোপায় চুমু বাংলাদেশের

অধরা সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জিতলো বাংলাদেশের নারীরা। নেপালকে হারিয়ে নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্নের শিরোপা এখন বাংলাদেশের। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের দফারফা হয়েছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে।

সুপার-সাব শামসুন নাহারের দারুন এক গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ম্যাচের ১৩ মিনিটেই। দশরথ স্টেডিয়ামের পনের হাজার দর্শককে বোকা বানিয়ে স্কোর লাইন ডাবল করে নেন কৃষ্ণা রানী। বিরতির পর স্বাগতিকদের পক্ষে অনিতা গোল করে ব্যবধান কমালেও বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না তা। টাঙ্গাইলের কৃষ্ণা দলের তৃতীয় আর নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১ গোলে। ২০০৩ সালের পুরুষরা জিতেছিল সাফ ফুটবলের শিরোপা। এরপর ১৯ বছর পর দেশের শিরোপার বন্ধ্যাত্ব ঘুঁচলো ছোটন শিষ্যদের কল্যাণে।

মাঝে মধ্যেই বয়সভিত্তিক আসরগুলোতে বাংলাদেশের নারী দলটি সাফল্যে ভাসতো। সিনিয়র পর্যায়ে তার প্রভাব পড়তো না কখনই। এরপর ২০১৪ সাল থেকে বাড়তি পরিকল্পনা এই দলটিকে নিয়ে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয় তাদের ঘিরে। শুরু থেকে দলটির পেছনে শ্রম দেওয়া কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটন বলে আসছিলেন, একটু পরিণত হলেই বদলে যাবে দলের চেহারা। কোচের দাবিকে সত্য প্রমাণ করে সেই বদলে যাওয়া চিত্রের দেখা মিললো সাবিনা-কৃষ্ণাদের খেলায়। 

আসরের ষষ্ঠ সংস্করণে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে সেরা সাফল্য ছিল তাদের ২০১৬ সালের ফাইনাল খেলা। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে পাঁচবার ফাইনাল খেলেছে নেপাল। ২০১৬ সালে নেপালিদের খেলা হয়নি ফাইনাল। অন্য পাঁচ ফাইনালের কোনটিতেই জয়ের দেখা পায়নি হিমালয়ের পাদদেশের ফুটবলাররা।

ফেবারিট হিসেবে সোমবার দশরথ স্টেডিয়ামে শুরুটা দারুণ করেছিল সাবিনা-সানজিদারা। সেই সুবাদেই ডান দিকে থেকে মনিকা চাকমার করা এক ক্রসে দারুণ দক্ষতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন ১০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা জুনিয়র শামসুন নাহার।  দুই নেপালি ডিফেন্ডারের সামনে থাকা শামসুন নাহার হাফ ভলিতে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দশরথ স্টেডিয়ামের প্রায় ১৫ হাজার সমর্থককে স্তব্ধ করে দেন (১-০)!

তার আগে কিক-অফের পর থেকে বাংলাদেশ দাপুটে ফুটবল খেলেছে। বৃষ্টির কারণে মাঠ ভেজা থাকলেও দুই উইং দিয়ে করা আক্রমণে স্বাগতিকদের চাপেই রাখে লাল-সবুজরা। গোলের পর কয়েক মিনিট আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখলেও সময়ের সঙ্গে বেশ গুছিয়ে ওঠে নেপাল।

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি কিক থেকে গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে এ যাত্রায় রক্ষা করেন গোলরক্ষক রূপনা চাকমা। দুই মিনিট পর বক্সে সৃষ্ট জটলা থেকে আসা শট পোস্টে লেগে জালে ঢুকে যাওয়ার ঠিক আগ মুহর্তে তা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন আঁখি খাতুন।

৪২ মিনিটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলে ভূমিকা ছিল প্রথম গোলদাতা শামসুন নাহারের। প্রতিপক্ষের ভুল পাস দখলে নিয়ে আগে বাড়িয়ে দেন তিনি। বক্সের ঠিক ওপরটাই সে বল অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের পা হয়ে যায় কৃষ্ণা রানীর কাছে। বাম পা পায়ে শট নিয়ে তিন বল জালে দক্ষতার সাথে (২-০)।

বিরতির পর অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সাবিত্রা ভান্ডারিকে মাঠে নামায় নেপাল। এক ফুলব্যাক তুলে মিডফিল্ডার আমিশা কারকিকে নামিয়ে ফেরার মরিয়া প্রচেষ্টা চালান কোচ কুমার থাপা। কিন্তু ততক্ষনে রক্ষণে নতুন চ্যাম্পিয়নদের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন মাশুরা পারভীন-আঁখি খাতুনরা। এসময় বেশ সাবধানী ফুটবল খেলে, আক্রমণ প্রতিহত করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা।

এরমাঝেও ৫২ মিনিটে গোলের এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল নেপাল। বক্সের মধ্যে থেকে হেড নিলেও বল পোস্টে রাখতে পারেননি রাশমি। ৬২ মিনিটে নিজেদের সীমানা থেকে বল ধরে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে দারুণ কাটব্যাক করেছিলেন ঋতু পর্ণা চাকমা। গোলমুখে বলটা ঠিকমতো ধরতে না পারায় এ দফায় ব্যর্থ শামসুন নাহার। তবে ৭০ মিনিটে আনিটা বাসনেতের গোলে ব্যবধান কমায় নেপাল (২-১)। তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায় ৮৩ মিনিটে। কৃষ্ণা রানীর পা থেকে দিনের দ্বিতীয় গোলে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের ৩-১ গোলের জয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD