সাত গোলের রোমাঞ্চে সিটির জয়

সাত গোলের রোমাঞ্চে সিটির জয়

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

খেলা শুরুর মাত্র ১১ মিনিটেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়লে আর যাই হোক ম্যাচে ফেরা যায় না। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ‌ও ফিরতে পারেনি। তবে প্রতিদ্বিন্দ্বতা ধরে রেখেছিলো। তাতে নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে, ৪-৩ এ জয় পেলো ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। 

কেভিন ডে ব্রুইনের গোলে সিটি এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গাব্রিয়েল জেসুস। বেনজেমা একটি গোল শোধ দিয়ে আশা জাগালেও ফিল ফোডেনের হেডে আবারও তা মিউয়ে যায়। তবে নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে শেষ বলে যেন কিছু ছিল না। ফোডেন গোল করতেই চমৎকার গোলে ব্যবধান কমান ভিনিসিউস। এরপর বের্নার্দো সিলভার ঘটনাবহুল গোল এবং শেষে গিয়ে বেনজেমার সফল স্পট কিক। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতাটিতে এই নিয়ে টানা তিনবার রিয়ালকে হারাল সিটি।

ম্যাচ শুরু হতেই যে আঘাত হানলো সিটি, সেখান থেকে আর বের হতে পারল না রিয়াল। তাদের পুরো ৯০ মিনিটের লড়াই যেন হয়ে ওঠল কেবলই ঘর সামলানো আর ব্যবধান কমানোর।

শুরুর বাঁশি থেকে পজেশন ধরে রেখে দ্বিতীয় মিনিটেই সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান ডে ব্রুইনে। ডান দিকে সতীর্থের পাস পেয়ে দুই জনের বাধা পেরিয়ে ছয় গজ বক্সের মুখে ক্রস বাড়ান রিয়াদ মাহরেজ। আর ডাইভিং হেডে গোলটি করেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার।

একাদশ মিনিটে লক্ষ্যে দ্বিতীয় শটেই দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় সিটি। বাঁ দিক থেকে বক্সে বল বাড়ান ডে ব্রুইনে। গত শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ওয়াটফোর্ডের জালে ৪ গোল করা জেসুসের সঙ্গে লেগেই ছিলেন দাভিদ আলাবা; কিন্তু দলকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।

ইউরোপ সেরার মঞ্চে রিয়ালের বিপক্ষে এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে জালের দেখা পেলেন জেসুস। ২০১৯-২০ আসরে সবশেষ দেখা হয়েছিল দুই দলের। দুই লেগেই ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল সিটি এবং দুই ম্যাচেই একটি করে গোল করেছিলেন তিনি।

জোড়া গোল খেয়ে তেতে ওঠার চেষ্টা করলেও পারছিল না রিয়াল। ২৬তম মিনিটে আবারও তাদের রক্ষণ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। তবে মাজহরেজের বুলেট গতির শট পাশের জাল কাঁপায়। তিন মিনিট পর ফিল ফোডেনের কোনাকুনি শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে আবারও বেঁচে যায় সফরকারীরা।

রিয়াল ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ পায় ৩৩তম মিনিটে। মাহরেজের থেকে বল কেড়ে বাঁ দিকে ফেরলঁদ মঁদিকে বাড়ান মদ্রিচ। আর ফরাসি এই লেফট-ব্যাক ক্রস বাড়ান ডি-বক্সে। খুব একটা ভীতি জাগানিয়া কিছু ছিল না; তবে সঙ্গে লেগে থাকা প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে বাঁ পায়ের দারুণ শটে গোলটি করেন রিয়ালের হয়ে সব মিলিয়ে ৬০০তম ম্যাচ খেলতে নামা বেনজেমা। পোস্টে লেগে বল খুঁজে নেয় ঠিকানা। নকআউট পর্বে এই নিয়ে টানা ৪ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন বেনজেমা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোল খেতে বসেছিল রিয়াল। আলাবার বদলি নামা নাচো ফের্নান্দেসের ভুলে বল ধরে সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মাহরেজ। কোনাকুনি শটও নেন তিনি, ভাগ্যের ফেরে বল লাগে পোস্টে। তারপরও সুযোগ ছিল, কিন্তু ফিরতি বল ধরে ফোডেনের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন দানি কারভাহাল।

প্রবল চাপের মুখে নিজেদের সীমানা থেকে বের হতেই পারছিল না রিয়াল। প্রত্যাশিতভাবে ৫৩তম মিনিটে তৃতীয় গোলও পেয়ে যায় সিটি। রক্ষণ ছেড়ে আক্রমণে উঠে আসা ফের্নান্দিনিয়ো ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান ছয় গজ বক্সে আর হেডে বল জালে জড়ান ফোডেন।

এ যাত্রায় পাল্টা জবাব দিতে একেবারেই দেরি করেনি রিয়াল এবং এর পুরো কৃতিত্ব ভিনিসিউসের। দুই মিনিট পর বাঁ দিকের সাইডলাইনে মঁদির পাস ধরতে গিয়ে অসাধারণ নৈপুণ্যে ডজ দেন ডিফেন্ডার ফের্নান্দিনিয়োকে, বল বেরিয়ে যায় তার দুই পায়ের ফাঁক গলে। ঘুরে বল ধরেই ভিনিসিউস দেন ছুট। তার গতির সঙ্গে পেরে উঠেনি কেউ। বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ব্যবধান কমান তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

৬৭তম মিনিটে নিশ্চিত সুযোগ পেয়েছিলেন এমেরিক লাপোর্তে; তবে গোলমুখ থেকে তার দুর্বল শট রুখে দেন দেন কোর্তোয়া। এর সাত মিনিট পর ব্যবধান আবারও দুই গোলে বাড়ান সিলভা।

গোলটি নিয়ে বিতর্ক হওয়ার অবকাশ আছে যথেষ্ট। বক্সের বাইরে টনি ক্রুসের ‘পরিষ্কার ফাউলে’ পড়ে যান অলেকসান্তার জিনচেঙ্কো। কিন্তু রেফারি কী বুঝে বাঁশি বাজাননি। আলগা বল ধরে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শট নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। অবাক করা ব্যাপার, বল একেবারে নাগালের বাইরে না হলেও ঠেকানোর সামান্য চেষ্টাও করেননি গোলরক্ষক।

৮২তম মিনিটে সফল স্পট কিকে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন বেনজেমা। বক্সে হেড নিতে গিয়ে তিনি নিজেই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

ইউরোপ সেরার মঞ্চে এই নিয়ে সবশেষ চার ম্যাচে দুটি হ্যাটট্রিকসহ বেনজেমার গোল হলো ৯টি। আসরে হলো ১৪ গোল, গোলদাতার তালিকার রবের্ত লেভানদোভস্কিকে ছাড়িয়ে বসলেন শীর্ষে। মৌসুমে বেনজেমার মোট গোল হলো ৪১ ম্যাচে ৪০টি।

বল দখলে আধিপত্য করা সিটি শেষ দিকেও সুযোগ পেয়েছে বেশ কয়েকটি। তবে সেগুলো কেবলই প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরাতে পেরেছে, স্কোরলাইনে আর পরিবর্তন আনতে পারেনি।

পুরো ম্যাচে আক্রমণে হিসেবে রিয়াল পিছিয়ে থাকলেও সুযোগ তারাও কম পেয়েছে, তা নয়। গোলের উদ্দেশ্যে সিটির যেখানে ১৬ শটের ৬টি ছিল লক্ষ্যে, সেখানে রিয়ালের ১১ শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৫টি।

তবে সুযোগ পেয়েও ব্যবধানটা আরও বাড়িয়ে নিতে না পারায় আফসোস করতেই পারে সিটি। কেননা ফিরতি লেগ যে হবে প্রতিপক্ষের মাঠে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।

খেলা শেষে রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি বলেন, ম্যানচেস্টার সিটি দারুণ ফুটবল খেলেছে। তারা একটি দল হয়েই নৈপুণ্য দেখিয়েছে। সুখের খবর হলো তাদের মাঠে আমরা তিন গোল করেছি। তবে হতাশার কথা হলো আমরা আবার চার গোল খেয়েছি। 

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD