লা লিগায় রিয়ালের ৩৫

লা লিগায় রিয়ালের ৩৫

স্প্যানিশ লা লিগায় ৩৫ তম শিরোপা জিতলো রিয়াল মাদ্রিদ। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে শেষ পাঁচ রাউন্ডে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। এস্পানিওলের বিপক্ষে এই সহজ সমীকরণ সামনে রেখে‌ও নিজেদের স্বরূপে ছিলো কার্লো আনচেলোত্তির দল। ৪-০ গোলে এস্পানিওলকে পরাজিত করে শিরোপা উল্লাসে মাতে তারা। দলের জয়ের সঙ্গে সঙ্গে কোচ হিসেবে আনচেলোত্তি‌ও স্থান পেয়ে গেলেন রেকর্ড বইয়ে। তা হলো, একমাত্র কোচ হিসেবে ইউরোপের ৫টি সেরা টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। 

নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বেনজেমা ও ভিনিসিউস জুনিয়রকে ছাড়া খেলতে নামা রিয়াল নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরুতে একটু সময় নেয়। আসরে দুই দলের প্রথম দেখায় ২-১ ব‍্যবধানে জেতা এস্পানিওল খেলে আক্রমণাত্মক ফুটবল। প্রথম ভালো সুযোগ অবশ‍্য পায় রিয়ালই। ত্রয়োদশ মিনিটে কর্নারে কাসেমিরোর হেডে গোলমুখে বল পেয়ে যান মারিয়ানো দিয়াস। তার চেষ্টা ব‍্যর্থ হয় পোস্টে লেগে।

২১ মিনিটে রাউল ডি তমাসের শট ফিরিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। পরের মিনিটে লুকা মদ্রিচের চিপে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে হেড লক্ষ‍্যে রাখতে পারেননি মারিয়ানো। প্রথম আধ ঘণ্টায় বল দখল ও গোলের লক্ষ‍্যে শটে এগিয়ে ছিল এস্পানিওল। তবে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পর তাদের চেপে ধরে রিয়াল।

৩৩ মিনিটে রদ্রিগোর চমৎকার ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় তারা। মার্সেলোকে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তরুণ উইঙ্গার। ফিরতি পাস পেয়ে ডি-বক্সের মুখ থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। ৪৩ মিনিটে ব‍্যবধান ২-০ করেন রদ্রিগো। নিজেদের অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে মারিয়ানোর কাছে হেরে যান সের্জি‌ও গোমেস। তার কাছ থেকে বল পেয়ে এগিয়ে যান রদ্রিগো। ডি-বক্সে ঢুকে কাছের পোস্ট দিয়ে বল পাঠান জালে। 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রিয়ালকে চেপে ধরে এস্পানিওল। ডি তমাসের ফ্রি কিক পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। ৪৮ মিনিটে বল বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় জালেই পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন মারিয়ানো। ভাগ‍্য ভালো তার, বল যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে।

প্রতি-আক্রমণ থেকে ৫৪ মিনিটে ব‍্যবধান আরও বাড়ান আসেনসিও। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ডানদিকে তিনি খুঁজে নেন অরক্ষিত আসেনসিওকে। এই ম‍্যাচে রিয়ালকে নেতৃত্ব দেওয়া স্প‍্যানিশ ফরোয়ার্ডের শট দূরের পোস্টের ভেতর দিকে লেগে জড়ায় জালে।

এরপর বেনজেমা, ইসকো, টনি ক্রুস, ভিনিসিউসদের মাঠে নামান আনচেলত্তি। আর‌ও ধার বাড়ে রিয়ালের আক্রমণভাগে। ৭১ মিনিটে লুকাস ভাসকেসের আড়াআড়ি শট একটুর জন‍্য লক্ষ‍্যে থাকেনি। একটু পর ইসকো বল জালে পাঠান, কিন্তু গোলরক্ষকের সামনে রদ্রিগো অফসাইডে রেফারি তা বাতিল করেন। 

১০ মিনিট পর প্রতি-আক্রমণ থেকে বল জালে পাঠান বেনজেমা। ভিনিসিউসের কাছ থেকে বল পেয়ে বুলেট গতির শটে গোলরক্ষককে ফাঁকি দেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার। লিগে এটি তার ২৬তম গোল।

এই গোলের পরই মেক্সিকান ওয়েভ দিয়ে গ‍্যালারিতে শুরু হয় শিরোপা উৎসব। রিয়াল সমর্থকদের ‘চ্যাম্পিয়োন্স’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বার্নাব্যু। 

এতে স্পেনের সফলতম দলটি রেকর্ড ৩৫তম লিগ শিরোপা জিতলো। এর মধ‍্য দিয়ে একটি চক্র পূর্ণ হলো কোচ কার্লো আনচেলত্তির। পেলেন ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের প্রতিটাতেই চ‍্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ।

৩৪ ম‍্যাচে ৮১ পয়েন্ট হলো রিয়াল মাদ্রিদের। চার ম‍্যাচ বাকি থাকতে শিরোপা জিতে নিল তারা। সমান ম‍্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে সেভিয়া। এক ম‍্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে তিনে। সমান ম‍্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে চারে গতবারের চ‍্যাম্পিয়ন আতলেতিকো মাদ্রিদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD