জয়ে শুরু সাকিবের বরিশালের

জয়ে শুরু সাকিবের বরিশালের

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএলের নতুন আসর শুরু হলো পুরনো ধাঁচেই। তাতে মেহেদী হাসান মিরাজের চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশাল। বিপিএলের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে বরিশালের জয় ৪ উইকেটে।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার চট্টগ্রাম ২০ ওভারে তোলে ১২৫ রান। টপ ও মিডল অর্ডারের বাজে ব্যাটিংয়ের মহড়ার পর আটে নেমে বেনি হাওয়েল করেন ২০ বলে ৪১।

মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে এই রান নিয়েও বেশ লড়াই করে চট্টগ্রাম। তবে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি তারা। শুরুতে সৈকত আলি এগিয়ে নেন বরিশালকে, শেষ দিকে ছোট্ট ক্যামিও খেলে ৮ বল বাকি রেখে দলকে জেতান জিয়াউর রহমান।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করলেও দলকে জেতাতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে পরাজিত দলে থেকেও ম্যাচের সেরা মিরাজ। ১৬ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। ৮৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিনি নিতে পারলেন ইনিংসে দুটির বেশি উইকেট। 

টসে হেরে চট্টগ্রাম ব্যাটিংয়ে নামে। প্রথমবার বিপিএল খেলতে নামা কেনার লুইস ম্যাচের প্রথম বলেই নাঈম হাসানের অফ স্পিন উড়িয়ে মারেন লং অন দিয়ে। ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটসম্যান পরে টিকতে পারেন মোটে আর এক বল। তৃতীয় বলে আবার লং অন দিয়ে ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে।

তিনে নামা আফিফ হোসেন আউট হন এমন এক ডেলিভারিতে, যেটিতে চাইলেও আউট হওয়া কঠিন। আলজারি জোসেফের লেগ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে ধরা পড়েন তিনি উইকেটের পেছনে।

জোসেফকেই টানা দুই বলে বাউন্ডারি মেরে সাব্বির রহমান শুরুটা করেন আশা জাগানিয়া। কিন্তু তিনি উইকেট বিলিয়ে আসেন বাজে শটে। সাকিবকে স্লগ সুইপ করার চেষ্টায় হয়ে যান এলবিডব্লিউ। টুর্নামেন্টে অভিষিক্ত ওপেনার উইল জ্যাকস একপ্রান্তে টিকে থাকেন ৮ ওভার। তবে ইনিংসকে গতি দিতে পারেননি ইংলিশ এই ব্যাটসম্যান। তিনি (২০ বলে ১৬) বিদায় নেন স্বদেশি চায়নাম্যান বোলার জেইক লিন্টটকে স্লগ করার চেষ্টায় লাইন মিস করে।

চট্টগ্রাম অধিনায়ক মিরাজ পাঁচে নেমে ২০ বলে খেলে ৯ রান করে আউট হন নাঈমকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায়। জোসেফকে উইকেট উপহার দেওয়ার আগে শামীম হোসেনও পারেননি ঝড় তুলতে (২৩ বলে ১৪)। চট্টগামের তখন একশ নিয়েই টানাটানি। ১৪ ওভারে রান মোটে ৬ উইকেটে ৬৩।

২০১৬ সালের পর প্রথমবার বিপিএল খেলতে নেমে নাঈম শুরু করেন ডোয়াইন ব্রাভোকে দারুণ ছক্কা মেরে। শেষটা যদিও ভালো করতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। আউট হন ১৮ বলে ১৫ করে।

চট্টগ্রাম শেষটা ভালো করতে পারে হাওয়েলের দারুণ ব্যাটিংয়ে। শেষ দিকে ডোয়াইন ব্রাভো ও জোসেফের ওপর ঝড় বইয়ে দেন হাওয়েল। তিনটি করে চার ও ছক্কা আসে তার ব্যাট থেকে। তার সৌজন্যেই শেষ ৪ ওভারে ৪৮ রান তুলতে পারে চট্টগ্রাম।

বরিশালের রান তাড়াও শুরু হয় দৃষ্টিকটু ব্যাটিংয়ে। দ্বিতীয় ওভারেই মিরাজের সোজা বল স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড নাজমুল হাসান শান্ত। তিনে নেমে অধিনায়ক সাকিবও একইভাবে উইকেট উপহার দেন মিরাজকে (১৬ বলে ১৩)।

ওপেনিংয়ে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন সৈকত আলি। ছবি: ফরচুন বরিশালওপেনিংয়ে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন সৈকত আলি। ছবি: ফরচুন বরিশালতৌহিদ হৃদয় ১৭ বল খেলে বাউন্ডারির দেখা না পেয়ে আউট হন ১৬ রানে। বরিশাল তবু পথেই ছিল সৈকত আলির সৌজন্যে। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান একটি ছক্কা মারেন বেনি হাওয়েলকে, আরেকটি মিরাজকে।

এক পর্যায়ে ৩৫ বলে ৩৪ রান প্রয়োজন ছিল বরিশালের, উইকেট তখনও বাকি ৭টি। কিন্তু মিরাজের এক ওভারে তিন উইকেট ম্যাচে নিয়ে আসে উত্তেজনা। স্লগ করে ছক্কার চেষ্টায় সৈকত (৩৫ বলে ৩৯) ধরা পড়েন সীমানায়, পরের বলে ইরফান শুক্কুর এলবিডব্লিউ হন রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে। ওভারের শেষ বলে আফিফের দুর্দান্ত থ্রোয়ে রান আউট হয়ে যান সালমান হোসেন।

চাপে পড়া বরিশালকে সেখান থেকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান দুই অভিজ্ঞ ব্রাভো ও জিয়াউর।

প্রথম স্পেলে দারুণ বোলিং করা তরুণ পেসার মুকিদুল ইসলামের এক ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নিশ্চিত করে দেন জিয়াউর (১২ বলে ১৯*)।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD