পেনাল্টি মিসে বাংলাদেশের হার ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

পেনাল্টি মিসে বাংলাদেশের হার ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

পেনাল্টি মিস করলেন তপু বর্মণ। জুয়েল রানা করলেন গোল। তাতে ফাইনালে খেলার আশাও উঁকি দিল। কিন্তু শেষ দিকের গোলে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের। কলম্বোর রেসকোর্স মাঠে মাহিন্দা রাজাপাকসে ট্রফির রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে অনেকটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ২-১ গোলে জামাল ভূইয়াদের হারিয়ে ফাইনালে উঠলো স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

আমন্ত্রণমূলক এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলতে শেষ ম্যাচে ১ পয়েন্ট দরকার ছিল বাংলাদেশের। জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না শ্রীলঙ্কার সামনে। শেষ পর্যন্ত জিতেই মাঠ ছেড়েছে তারা। একটি করে জয়, হার ও ড্র নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশ। সিশেলসের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মারিও লেমোসের দল।

মালদ্বীপকে ৪-৪ গোলে রুখে দেওয়া শ্রীলঙ্কা ১-০ গোলে হেরে বসে সিশেলসের কাছে। তাতে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে যায় স্বাগতিকদের সামনে। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে খেলেও সমীকরণ মিলিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সবশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের কাছে হারের মধুর প্রতিশোধও নিল তারা।

কর্দমাক্ত ও ভারী মাঠে দুই দলের খেলায় ছিল না স্বাভাবিক ছন্দ। বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে, আক্রমণে উঠতে ঘাম ছুটেছে দুই দলের খেলোয়াড়দের। জলে-কাঁদায় মাখামাখি ম্যাচে শেষ দিকে পার্থক্য গড়ে দেন ওয়াসিম তাজিক। এই জার্মান প্রবাসী ফরোয়ার্ডের গোলেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এ আসরে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৬ গোলের সবগুলোই তাজিকের!


মালদ্বীপকে হারানো ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রেখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তৃতীয় মিনিটে সুযোগও পায় দল। কিন্তু রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো ইনে লাফিয়ে উঠে তপুর হেডে গতি ছিল না। সহজে বল গ্লাভসে নেন গোলরক্ষক।

দুই মিনিট পর বাইলাইনের একটু উপর থেকে সতীর্থের কাটব্যাকে কোনোমতে সাসাঙ্গা দিলহারা পা ছোঁয়ালেও বল যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ২৩তম মিনিটে ড্রিবলিং করে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এই শ্রীলঙ্কান ফরোয়ার্ডের আরেকটি শট উড়ে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে।

কর্দমাক্ত মাঠে বল পায়ে রাখা কঠিন হলেও একটু একটু করে বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে শ্রীলঙ্কা। ২৪তম মিনিটে সতীর্থের লং পাস ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি দিলহারা। পোস্ট ছেড়ে আনিসুর রহমান জিকো বেরিয়ে আসায় দলকে এগিয়ে নেওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল তার সামনে।

পরের মিনিটই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। বক্সের বেশ বাইরে থেকে শ্রীলঙ্কার এক খেলোয়াড়ের শট জিকো ঝাঁপিয়ে ফেরালেও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি। সামনে থাকা ফরোয়ার্ড ওয়াসিম রাজিক কিছুটা স্লাইড শটে জাল খুঁজে নেন। 

৩২ মিনিটে জামালের কর্নারে তপুর হেড গোললাইন থেকে হাত দিয়ে ফিরিয়ে লাল কার্ড দেখেন ডাকসন পুসলাস। স্পট কিকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ তপু নষ্ট করেন ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে। দুদিন আগে তপুর পেনাল্টি গোলেই মালদ্বীপের বিপক্ষে ১৮ বছর পর জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। গত সাফে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ে একমাত্র গোলটিও করেছিলেন তপু।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্টের হতাশায় পোড়ে বাংলাদেশ। জামালের কর্নারে মোহাম্মদ হৃদয় অনেকটা লাফিয়ে হেড করার পর ঝাঁপিয়ে আটকান গোলরক্ষক। কিন্তু বল পেয়ে যান ফাঁকায় থাকা সুশান্ত ত্রিপুরা। এই ডিফেন্ডারও ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।

৭১ মিনিটে সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাসে মাতে বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে ইয়াসিন আরাফাতের ক্রসে নিখুঁত টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন আবাহনী লিমিটেডের ফরোয়ার্ড জুয়েল।

৯০ মিনিটে বক্সে সাদউদ্দিনের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় শ্রীলঙ্কা। জিকো পারেননি তাজিকের স্পট কিক ফেরাতে। পরে চার মিনিটের যোগ করা সময়টুকু পার করে ফাইনালে ওঠার উচ্ছ্বাসে মাতে শ্রীলঙ্কায়। আশা জাগিয়ে আরও একবার হতাশায় পুড়তে হলো বাংলাদেশকে।

দিনের আরেক ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ফাইনাল নিশ্চিত করে সিশেলস। আগামী শুক্রবার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD