রোহিতের সেঞ্চুরিতে লিড ভারতের

রোহিতের সেঞ্চুরিতে লিড ভারতের

ওভাল টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে রোহিত শর্মা আবার‌ও ভারতের হাতে আনলেন ম্যাচটি। তার দুর্দান্ত শতকে বড় লিডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এখন বিরাট কোহলির দল। বিদেশের মাটিতে রোহিত পেলেন প্রথম টেস্ট শতরান। তাও একেবারে ছক্কা হাঁকিয়ে।

প্রথম সেশনে সাবধানী ইনিংস খেলছিলেন। অর্ধশতরান পার করেই রোহিত ব্যাটিংয়ের গিয়ার চেঞ্জ করলেন। তাতেই বাজিমাত। কেরিয়ারের ৪৩তম টেস্টে ৭৪তম ইনিংসে ২০৪ বলে বিদেশে সেঞ্চুরি পূরণ করেন রোহিত শর্মা। অর্ধশতরান এসেছিল ১৪৫ বলে, তার মধ্যে ছিল পাঁচটি বাউন্ডারি। পঞ্চাশ থেকে একশোয় পৌঁছাতে নিলেন মাত্র ৫৯ বল। রোহিত যখন ছক্কা হাঁকিয়ে শতরান পূর্ণ করেন তখন তাঁর ইনিংসে ১২টি চার ও একটি ছক্কা।

লাঞ্চের সময় ভারতের লিড ছিল ৯ রানের, চা বিরতিতে সেটাই দাঁড়াল ১০০। দ্বিতীয় সেশনে ভারতের কোনও উইকেট পড়েনি। চেতেশ্বর পূজারা রোহিতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি স্ট্রাইক রেট রেখে ব্যাটিং করে গেলেও রোহিতের মনোবলে চিড় ধরেনি। তিনি হাত খুললেন হাফ সেঞ্চুরির পরেই। তবে এর আগে রোহিত যেসব শতরান করেছেন এই শতরানের স্ট্রাইক রেট সবচেয়ে কম। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কথায় রোহিত যে এখন আদর্শ টেস্ট ওপেনার হয়ে উঠেছেন তাতে আর কোনও সংশয়ই নেই।

এর আগে ২০১৩ সালের নভেম্বরে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকেই শতরান করেছিলেন রোহিত শর্মা। টেস্টে তাঁর সর্বাধিক স্কোর ২১২, ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রাঁচিতে। রোহিতের সর্বাধিক টেস্ট স্কোরের তালিকায় এরপরই কলকাতার ১৭৭। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশাখাপত্তনমেই করেছিলেন ১৭৬। এই টেস্টে দুই ইনিংসেই তিনি শতরান হাঁকিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ১২৭। চলতি বছর চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬১ রানে আউট হয়েছিলেন রোহিত। ২০১৩ সালে মুম্বইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, যেটি সচিন তেন্ডুলকরের শেষ টেস্ট ছিল তাতেও শতরান হাঁকিয়েছিলেন, ১২৭ বলে ১১১ করে অপরাজিত ছিলেন। এ ছাড়া নাগপুরে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্টে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক।

রোহিত এর আগে উপমহাদেশেও টেস্ট সেঞ্চুরি পাননি। সব কটিই ছিল ভারতে। ওভাল টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে রোহিত শর্মা ও চেতেশ্বর পুজারার ব্যাটে লড়াইয়ে ফিরলো ভারত। ইংলিশদের চেয়ে ১৭১ রানে এগিয়ে তারা।

আগের দিনের বিনা উইকেটে ৪৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে দলের ৮৩ রানে লোকেশ রাহুলকে সাজঘরে ফেরান এন্ডারসন। দ্বিতীয় উইকেটে রোহিতের সঙ্গে ১৫৩ রানের জুটি গড়ে দলের হাল ধরেন পুজারা। ১২৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে বিদায় নেন রোহিত শর্মা। এরপর পুজারাও বেশিক্ষণ টেকেননি। তার ব্যাট থেকে আসে ৬১ রান।

অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে রবীন্দ্র জাদেজা জুটি বেধে দিনের বাকী সময়টা পার করেন। কোহলি ২২ রান এবং জাদেজা ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের ১৯১ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৯০ রানে অলআউট হয়েছিলো ইংল্যান্ড।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD