জয়ের আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপে কাজে দেবে বাংলাদেশের

জয়ের আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপে কাজে দেবে বাংলাদেশের

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ

সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে একের পর এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতছে বাংলাদেশ। তবে এই জয় বিশ্বকাপে কতোটা কাজে দেবে তা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের। কারণ গত অস্ট্রেলিয়া ও চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশ খেলছে অতি মন্থর স্পিনবান্ধব পিচে। কিন্তু বিশ্বকাপের ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাতের পিচ মোটেও এতোটা মন্থর নয়। প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন আছে সাইফউদ্দিনেরও। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ পেস অলরাউন্ডার এটাও বলছেন, জয়ের মধ্যে থাকার যে আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপে তা ঠিকই কাজে লাগবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ যেমন উইকেটে খেলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবারই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পিচে স্পিনাররা কিছু সুবিধা পেলেও সেখানে ১৭০ এর বেশি রান উঠে নিয়মিতই। কিন্তু বাংলাদেশ গত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ও চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজ এমন উইকেটে খেলছে যেখানে একশ রান করাই কঠিন!

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সর্বশেষ ম্যাচে ৬২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল সফরকারীরা। তারপর নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিউইরা গুটিয়ে গেল আরও কম রানে, ৬০। বল হঠাৎ-ই উঁচু-নিচু হচ্ছে। অসমান টার্ন পাচ্ছেন স্পিনাররা। মিরপুরের উইকেটে ব্যাটারদের দেখে মনে হয় ব্যাটিং করাটা বুঝি দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ! সাইফউদ্দিনও মানছেন, এই উইকেটে বিশ্বকাপের উপযুক্ত প্রস্তুতি হচ্ছে না। তবে জয়ের মধ্যে থাকাটাও দারুণ ব্যপার।

আগামীকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় সাইফউদ্দিন বলছিলেন, 'টি-টোয়েন্টি এমন একটা ফরম্যাট যেখানে ফেভারিট বলাটা কঠিন। ব্যাটিং উইকেটে খেলা হলে যেদিন যাদের ব্যাটে ভালো টাচ থাকবে তারাই জিতবে। এজন্য আত্মবিশ্বাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শেষ কয়েকটা ম্যাচে টানা জয়ের ধারায় আছি। তো নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি ম্যাচগুলোতেও যদি জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারি, বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে শুরু করে সব ম্যাচে ভালো কাজে দেবে।'

সাইফ বলেন, 'দেখেন, আমরা যখন ম্যাচ জিতি তখন শুধু আমরা ক্রিকেটাররা না পুরো দেশবাসীই খুশি হয়। দিনশেষে আসলে সবাই বাংলাদেশের জয়টাই দেখতে চায়। হয়ত কন্ডিশন একটু ভিন্ন বা হয়তবা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অনুযায়ী কম রান হচ্ছে। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটা ম্যাচ জেতার জন্যই খেলি, সেটা ১৯০ রান চেজ করেই হোক বা ১০০ বা ৯০ রান চেজ করেই হোক। আমাদের কাছে জয়টাই মূখ্য।'

বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার আগে বাছাই পর্ব এড়াতে হবে বাংলাদেশকে। বাছাই পর্বের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবেন টাইগাররা। তাছাড়া বিশ্বকাপের ভেন্যুতে আগেভাগে গিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প করার কথা বাংলাদেশের। সাইফউদ্দিন বলছেন, এসব বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বড় কাজে দিবে।

তরুণ অলরাউন্ডার বলেন, 'সামনে আমাদের বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ম্যাচ আছে এবং এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলা হবে তখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। হয়তবা এখানকার অভিজ্ঞতাটা খুব একটা কাজে আসবে না, কিন্তু আত্মবিশ্বাসটা যদি নিয়ে যেতে পারি..যেহেতু আমরা প্রস্তুতির সুযোগ পাব ওখানে, তো আমরা যতটা মানিয়ে নিতে পারব সেখানে তত ভালো হবে।'

'শেষ কয়েকটা সিরিজে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলছে। যদিও বিশ্বকাপ খেলতে গেলে কন্ডিশন একটু ভিন্ন হবে, তবে ওমানে অনুশীলনের সুযোগ পাব। আর আমরা বোলাররা অনেক কন্ডিশনেই ম্যাচ খেলেছি, তো মানিয়ে নিতে পারব বলে আমি মনে করি।'

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD