টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচে ১০ রানে জিতে অজিদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। এই প্রথমবারের মত অজিদের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করলো মাহমুদুল্লাহর দল।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ৩-০ ব্যবধানে এগিয়েও থাকলো বাংলাদেশ। এই নিয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে অষ্টম সিরিজ জিতলো টাইগাররা। তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হলো।   

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৭ রান করে ম্যাচ হারে অস্ট্রেলিয়া।

দুই ম্যাচ বাকী রেখেই সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। বৃষ্টি কারণে এক ঘন্টা ১৫ মিনিট পর খেলা শুরু হয়। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে ব্যাট হাতে এবারও ব্যর্থ হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও সৌম্য সরকার। ১৩ বল ও দলীয় ৩ রানের মধ্যে বিদায় নেন দু’জনে।

দ্বিতীয় ওভারে নাইমকে ব্যক্তিগত ১ রানে ফেরান অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজেলউড। পরের ওভারে সৌম্যকে ২ রানে আউট করেন অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার এডাম জাম্পা। ১১ বল খেলেন সৌম্য।

সিরিজে ৩ ম্যাচে নাইম করেছেন ৪০ রান, আর সৌম্য করেছেন ৪ রান। ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন তারা। আগের দুই ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে তাদের রান ছিলো যথাক্রমে ১৫ ও ৯।

শুরুর ধাক্কাটা সামলে উঠতে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে লড়াই শুরু করেন সাকিব আল হাসান ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শুরুতে সাবধান ছিলেন তারা। ৭ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৩২ রান আসে বাংলাদেশের।

অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়াম পেসার মিচেল মার্শের করা অষ্টম ওভারে সাকিব ২টি ও মাহমুদুল্লাহ ১টি চারে ১৫ রান পায় বাংলাদেশ। তবে নবম ওভারের প্রথম বলে এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরে। জাম্পার বলে লং-অফে অ্যাস্টন আগারকে ক্যাচ দিয়ে থামেন সাকিব। ১৭ বলে ৪টি চারে ২৬ রান করেন সাকিব। ৩৬ বলে দলকে ৪৪ রান উপহার দিয়েছিলেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ জুটি।

দলীয় ৪৭ রানে সাকিবের বিদায়ের পর ক্রিজে অধিনায়কের সঙ্গী হন আগের ম্যাচের হিরো আফিফ হোসেন। মারমুখী মেজাজেই শুরু করেছিলেন। ১০ম ওভারে আগারকে মিড-উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান আফিফ। পরের ওভারে মিডিয়াম পেসার এলিসকে চারও মারেন তিনি। ফলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেন আফিফ। কিন্তু ১২তম ওভারের শেষ বলে থামতে হয় তাকে। রান আউটের ফাঁদে পড়ে ১৩ বলে ১৯ রান করা আফিফ। চতুর্থ উইকেটে মাহমুদুল্লাহর সাথে ২২ বলে ২৯ রান যোগ করেন আফিফ।

এরপর শামিম হোসেন ও নুরুল হাসান ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি। ৩ রান করে আউট হন শামিম। জাম্পাকে ছক্কা মারা নুরুলও রান আউট হন। ৫ বলে ১১ রান করেন তিনি। ফলে ১৬তম ওভারে ৯৭ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এ অবস্থায় এক প্রান্ত আগলে, দলের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন মাহেদি হাসান। অধিনায়ককে স্ট্রাইক দেয়াই মূল লক্ষ্য ছিলো তার।  ইনিংসের শেষ ওভারে ৫২তম বলে বাউন্ডারির মাধ্যমে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি।

তবে একই  ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন মাহমুদুল্লাহ। ৯৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মত হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া মাহমুদুল্লাহ ৫৩ বলে ৫২ রান করেন। ৪টি চার মারেন তিনি। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ ওভারের তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাট্টিকের স্বাদ পান  মিডিয়াম পেসার নাথান এলিস। মাহমুদুল্লাহ, মুস্তাফিজুর ও মাহেদি হাসানকে শিকার করেন এলিস। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৭তম, আর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে হ্যাট্টিক করলেন এলিস। ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন এলিস। এছাড়া জশ হ্যাজেলউড ও জাম্পা ২টি করে উইকেট নেন।  

জয়ের জন্য ১২৮ রানের টার্গেট পায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবারের মত খেলতে নামা বেন ম্যাকডারমটের সাথে ইনিংস শুরু করেন অধিনায়ক অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। দ্বিতীয় ওভারে ওয়েডকে বিদায় দেন প্রথম ম্যাচের  সেরা খেলোয়াড় বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। ১ রান করেন ওয়েড।

দলীয় ৮ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর শক্ত হাতে দলের হাল ধরেন ম্যাকডারমট ও তিন নম্বরে নামা মিচেল মার্শ। উইকেট ধরে খেলে ১০ ওভার শেষে অসিদের রান ৫৪ রানে নিয়ে যান ম্যাকডারমট ও মার্শ।

১৩তম ওভারের প্রথম বলে এই জুটি ভাঙ্গার সুযোগ তৈরি করেছিলেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর। কিন্তু ম্যাকডারমটের ক্যাচ ফেলেন শরিফুল। তবে ১৪তম ওভারে ম্যাকডারমটকে থামান সাকিব। নিজের শেষ ওভারে এসে উইকেটের দেখা পান সাকিব। ২টি ছক্কায় ৪১ বলে ৩৫ রান করেন ম্যাকডারমট। দ্বিতীয় উইকেটে ৭১ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রাখেন ম্যাকডারমট-মার্শ।

চার নম্বরে মইসেস হেনরিক্সকে ২ রানের বেশি করতে দেননি বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। হেনরিক্স থামলেও, এক প্রান্ত ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইনফর্ম মার্শ। ২৮তম ওভারের টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখাও পান তিনি। বল খেলেন ৪৫টি।

১৮তম ওভারের প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন মার্শ। সেটি ধরতে ভুল করেননি নাইম। নিজের শেষ ওভারে এসে দ্বিতীয় উইকেটে দেখা পান শরিফুল। অবশ্য ঐ ওভারের চতুর্থ ও শেষ বলে বাউন্ডারি হজম করতে হয় তাকে। এতে শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য ২৩ রান দরকার পড়ে অস্ট্রেলিয়ার।

১৯তম ওভারে মাত্র ১ রান দেন মুস্তাফিজ। ফলে শেষ ওভারে জিততে ২২ রান প্রয়োজন পড়ে অসিদের। মাহেদির করা শেষ ওভারের প্রথম বলে লং-অন দিয়ে ছক্কা মারেন অ্যালেক্স ক্যারি। দ্বিতীয় বলে ১ রান নেন ক্যারি। তৃতীয় বল ডট হয়। চতুর্থ বলে নো-বলের সাথে ১ রান দেন মাহেদি। ফ্রি-হিটের পরের বল থেকে ১ রান নিতে পারেন ক্যারি। আর শেষ দুই বলে ১ রানের বেশি না দিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন মাহেদিই। পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১১৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যারি ২০ ও ক্রিস্টিয়ান ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের শরিফুল ২টি ও নাসুম-সাকিব ১টি করে উইকেট নেন। উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দেন অস্ট্রেলিয়ার কাছে আতঙ্কিত বোলার মুস্তাফিজ।

শনিবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD