সাকিবের দিনে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

সাকিবের দিনে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজ

সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে ভরে করে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর তাতেই ১২ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ জিতলো টাইগাররা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর রান খরায় ভুগতে থাকা সাকিব অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। অসাধারণ ইনিংসে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।  

হারারেতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৭ উইকেটে ২৪২ রান তুলে ৫ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। 

২৪১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৯ রান যোগ করেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। ২০ রান করা তামিম সাজঘরে ফেরার পর প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন ২১ রানে ফেরেন। চার ও পাঁচ নম্বরে নম্বরে নামা মোহাম্মদ মিঠুন (২) ও মোসাদ্দেক হোসেন (৫) দ্রুত ফিরে যান অল্প রানের ব্যবধানে। ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। 

পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুই অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলের বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন। দুজনে মিলে তোলেন ৫৫ রান। মাহমুদউল্লাহ ২৬ রান করে বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে একপ্রান্তে আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান সাকিব। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৪৯ তম ফিফটিতে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখেন তিনি। সাকিবেকে সঙ্গ দিতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন। মিরাজ ৬ ও আফিফ ১৫ রানে আউট হলে ১৭৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা ফিকে হয়ে আসে। 

কিন্তু সাকিব–সাইফউদ্দিন সপ্তম উইকেটে ৬৯ রানে জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়েই রানের চাকা সচল রাখেন এ দুজন। শেষ পর্যন্ত ৫ বল হাতে রেখে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন সাকিব। চার রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা সাকিব ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে মূল্যবান ২৮ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন সাইফউদ্দিন।  

এর আগে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা জিম্বাবুয়ে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। তাসকিন আহমেদের বলে ক্যাচ দেন ওপেনার কমুনহুকামউই। আরেক ওপেনার মারুমানিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৩ রানে ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন রেজিস চাকাভা ও ব্রেন্ডন টেলর। তবে তাঁদের বেশিদূর এগোতে দেননি সাকিব আল হাসান। ২৬ রান করা চাকাভাকে ফিরিয়ে ৪৭ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। 

ডিওন মায়ার্স ও টেলর চতুর্থ উইকেট জুটিতে বড় কিছু করার আভাস দিয়েও পারেননি। দারুণ খেলতে থাকা টেলর হিট উইকেটে আউট হন। শরিফুলের করা বাউন্সারটি ছেড়ে দেন টেলর। তখনই ব্যাট স্টাম্পে লাগলে হিট উইকেট হন টেলর (৪৬)। উইকেটে থিতু হওয়া মায়ার্সকে ৩৪ রানে ফেরান সাকিব। জিম্বাবুয়ের রান তখন ৫ উইকেটে ১৪৬ রান। 

ষষ্ঠ উইকেটে সিকান্দার রাজাকে সঙ্গে নিয়ে ৬৩ রানে জুটি গড়ে মাধিভেরে। এর মাঝে ফিটটিও তুলে নেন মাধিভেরে। এরপর অবশ্য তাকে আর ডানা মেলতে দেননি শরিফুল। তামিমের দুর্দান্ত ক্যাচে ৫৬ রান করে আউট হন মাধিভেরে। 

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে সংগ্রহটা বেশি বড় পারেনি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রান করে জিম্বাবুয়ে। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন পেসার শরিফুল। সাকিব নেন ২ উইকেট। সাইফউদ্দিন, তাসকিন ও মিরাজ প্রত্যেকেই নেন একটি করে উইকেট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD