মেসি ম্যাজিকে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

মেসি ম্যাজিকে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

কোপা আমেরিকা ফুটবল

বাঁকানো ফ্রি কিক থেকে আবারও গোল করলেন লিওনেল মেসি। সেই সঙ্গে দুটি গোলে অ্যাসিস্ট‌ও করলেন তিনি। তাতে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে তুললেন বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা। নিজের লক্ষ্যের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে ব্যবধান কমালেন এলএম টেন। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হলো ইকুয়েডরকে।

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ফ্রি কিক থেকে গোলের হিসেবে ইতিমধ্যেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। কোপা এবং বিশ্বকাপে মোট ৬ বার ফ্রিকিক থেকে গোল করেন মেসি। আর আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে রোনালদোর ফ্রিকিক গোল ৪টি। আর ৪টি গোল করতে পারলেই ম্যারাডোনাকে ধরে ফেলবেন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা।

গোইয়ানিয়ায় ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম একাদশে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, সার্জিও আগুয়েরোকে রাখেননি আর্জেন্টিনা কোচ লি‌ওনেল স্কলোনি। লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ ও নিকোলাস গঞ্জালেসকে আক্রমণে রেখে ৪-৩-৩ ছকে দল সাজান তিনি। ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণে উঠতে থাকে নীল-সাদা জার্সির দল। অন্যদিকে ৪-৩-৩ ছকে দল সাজিয়ে শুরুর দিকে আর্জেন্টিনাকে বেশ চাপে রাখে ইকুয়েডর।

হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়রা একাধিকবার মাথা গরম করে বিবাদে জড়ান। ফাউল এবং চোট-আঘাতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পাল্লা দিয়ে কার্ডও দেখাতে থাকেন রেফারি। তারই মধ্য অব্যাহত থাকে লিওনেল মেসির যাদু। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কড়া ট্যাকল ও মন্থর গতি এড়িয়ে গোল করার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন এলএম টেন। ২৮ মিনিটের মাথায় তাঁর শট সাইডবারে লেগে ফিরে আসলে এগিয়ে যা‌ওয়া হয়নি আলবিসেলেস্তেদের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ‌ওঠে আর্জেন্টিনা। ৪০ মিনিটে দুর্দান্ত একটি মুভ তৈরি করে নীল-সাদা জার্সির দল। লি‌ওনেল মেসির পাস থেকে সহজ গোল করেন মিডফিল্ডার রডরিগো দে পল।

তবে প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ইকুয়েডর। সেগুলি তারা কাজে লাগাতে পারেনি। আর গোল করের সুযোগ নষ্ট করেছে আর্জেন্টিনাও। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে লিওনেল মেসির দল।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। একাধিকবার গোল করার কাছেও পৌঁছে যায় আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু ইকুয়েডরের দিশাহীন ফুটবলে কিছুটা হলেও খেই হারায় তারা। ৭১ মিনিটের মাথায় অভিজ্ঞ ডি মারিয়াকে নামান কোচ। এরপরই খেলায় গতি বাড়ে আর্জেন্টিনার। ৮৪ মিনিটের মাথায় ডি মারিয়া, মেসি ম্যাজিকে গোল করেন মার্টিনেজ।

৯০ মিনিটে নিজেদের ডি বক্সের ঠিক বাইরে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে ফেলে দিয়ে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যান ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে। সেটপিস থেকে মেসির বাঁকানো শট জালে জড়ায়। শেষ বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন এলএম টেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD