মারাকানার ব্যর্থ ভূমিতেই সফল মেসি

মারাকানার ব্যর্থ ভূমিতেই সফল মেসি

কোপা আমেরিকা ফুটবল

ব্যর্থ ভূমি রি‌ও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামেই সাফল্যের আলোয় রঙিন হলেন ছয়বারের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লি‌ওনেল মেসি। তাতে ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘুচল আর্জেন্টিনার। মেসি‌ও হলেন আনন্দে আত্মহারা। ব্যর্থতার ইতিহাস লেখা মারাকানা স্টেডিয়ামই আর্জেন্টাইন তালিসমানকে এনে দিলো আনন্দের উপলক্ষ্য।

২০১৬ সাল। চিলির বিরুদ্ধে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার লি‌ওনেল মেসির আর্জেন্টিনার। চরম হতাশায় এমএলটেন ঘোষণা দিলেন দেশের হয়ে আর ফুটবল না খেলার। অবাক বিশ্ব ফুটবল! হতাশ সমর্থকরা‌ও! দুইমাস পরেই অবশ্য আবার জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

সাল ২০২১। ব্রাজিলকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে ট্রফি জিতল লি‌ওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। বহু ইতিহাসের সাক্ষী মারাকানা স্টেডিয়াম। আবারও এক ইতিহাস। এক শাপমুক্তি। আবেগে ভাসল ফুটবল বিশ্ব। আনন্দে মাতোয়ারা সমর্থকরা।

রবিবার ভোরে দুই দল যখন জাতীয় সঙ্গীতের জন্য দাঁড়িয়ে, মেসির মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই কী চলছে তাঁর মনে। জাতীয় সঙ্গীত শুরু হওয়ার আগে একে অপরের কাঁধে হাত রেখে আরও কাছাকাছি চলে এলেন মেসিরা। গাইতে শুরু করলেন জাতীয় সঙ্গীত। প্রথম আবেগ ফুটে উঠল মেসির মুখে। দেশের জন্য ট্রফি জিততে মরিয়া মনে হল তাঁকে।

খেলার শুরু থেকেই মেসিকে আটকে রেখেছিল ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। তাঁর পায়ে বল গেলেই তিন-চার জন ঘিরে ধরেছেন তাঁকে। বারবার আটকে যেতে দেখা গিয়েছে মেসিকে। খেলার ৩২ মিনিটে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার মারকুইনাসকে আড়াল করে একটা শট নিয়েছিলেন মেসি। তবে তা গোলে রাখতে পারেননি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মুখে জিয়োভানি লো সেলসোকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাজিলের বক্সে সুযোগ তৈরি করছিলেন মেসি। তাকে আটকে দেন মারকুইনাস।

৬১ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ক্রস তুলেছিলেন মেসি। তা থেকে কোনও বিপদ তৈরি হয়নি। ৬৫ মিনিটে আবার‌ও সুযোগ আসে। মারকুইনাসের ভুলে বল পান মেসি। পাশে ছিলেন ফাইনালের এক মাত্র গোলদাতা ডি মারিয়া। কিন্তু তাঁকে বল বাড়াতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সেই ফাঁকটাই দেননি ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা।

বারবার আটকে যাওয়া মেসি ৮৯ মিনিটে ব্রাজিলের গোলরক্ষক এডেরসন মোরায়েজকে একা পেয়েছিলেন। তাও গোল করতে পারেননি। ম্যাচের সব চেয়ে সহজ সুযোগ বোধ হয় সেটাই ছিল। রড্রিগো ডি পলের বাড়ানো বল পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। গতিতে ব্রাজিল রক্ষণকে পেছনে ফেলে গোলের ছয় গজের মধ্যে চলে আসেন তিনি। সামনে একা এডেরসন। কিন্তু তাঁর শটে কোনও জোর ছিল না। সহজেই বল আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক।

ফাইনাল ম্যাচে সেই ভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এ বারের কোপায় ৭ ম্যাচে ৪ গোল করা মেসি। তবে খেলা শেষের বাঁশি বাজতেই আর্জেন্টিনা যেন মেসিময়। জাতীয় সঙ্গীতের আগে এক হয়ে উঠেছিলেন মেসিরা। ম্যাচ শেষে মেসিকে মাথার ওপর তুলে লোফালুফি বুঝিয়ে দিল সতীর্থরাও মেসির হাতে ট্রফি দেখার জন্য কতটা মরিয়া ছিলেন।

১৯৯৩ সালের পর কোপা জয় আর্জেন্টিনার। ২৮ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রফি জয়। সেই শাপমুক্তি ঘটল মেসির হাতেই। দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করে ‘মেসিদোনা’ বলে ডাকা হয় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে। আন্তর্জাতিক ট্রফি নেই বলে নিন্দুকদের সমালোচনা শুনতে হয়েছে বারবার। সেই সব কিছুর জবাব ২০২১ সালের কোপা। ম্যাচ শেষে শিশুর মতো হাসি মেসির মুখে। সবচেয়ে প্রিয় উপহারটা ছোঁয়ার আনন্দ তাঁর মুখে। আর হারলেও খেলা শেষে প্রিয় বন্ধু মেসিকে নেইমারের অভিনন্দন জানানোর ঘটনা বন্ধুত্বের নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ইতিহাসে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD