মোহামেডানকে পাত্তাই দিল না আবাহনী

মোহামেডানকে পাত্তাই দিল না আবাহনী

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ৬০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগ জয় দিয়েই শুরু করল আবাহনী লিমিটেড। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যার ম্যাচে, টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে মুশফিকুর রহিমের দল। জবাবে, ৭ উইকেটে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে মোহামেডান।

তবে রেকর্ড রান তাড়া করে জয়ের টার্গেটে নাম মোহামেডানের পরাজয়টা আর‌ও বড় হতেই পারত। ৪২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, তখন হাল ধরেন আবু জায়েদ রনি। খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৪২ বলে ৫৩ রানের ইনিংস। সপ্তম ওভারে ক্রিজে এসে থাকেন শেষ বল পর্যন্ত। ডিপ মিড উইকেটে সাইফউদ্দিনকে দারুণ ছয়ে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়ে। স্রোতের বিপরীতে রনির লড়াই মোহামেডানের একমাত্র পাওয়া। এর আগে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল অপরাজিত ২৮ রানের।

তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৩৬ রান। দ্রুত ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এই দুজনেই মূলত লড়াই করেন।

সাইফউদ্দিনের বোলিং তোপে শুরুতেই বিধ্বস্ত মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড। আবাহনী লিমিটেডের দেওয়া রেকর্ড ১৯৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে রানের খাতা না খুলে দুই উইকেট হারায় সাদা-কালো শিবির।

রান তাড়া করতে নেমে সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের তৃতীয় বলে ডিপ স্কয়ার লেগে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন অভিষেক মিত্র। ১ বল পরেই উইকেটের পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন শামসুর রহমান শুভ। দুজনেই ফেরেন ডাক মেরে। দলের স্কোরে কোনো রান যোগ হ‌ওয়ার আগেই সাজঘরে মোহামেডানের দুই ব্যাটসম্যান। এরপর মোসাদ্দেকের জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরেন ইরফান শুক্কুর ও নাদিফ চৌধুরী।

প্রথম ওভারে সাইফের আক্রমণ সামলে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ইরফান। কিন্তু মোসাদ্দেকের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন ১৮ বলে ২৭ রান করে। একই ওভারে ক্রিজে এসে নাদিফ চৌধুরী ক্যাচ তুলে দেন মোসাদ্দেকের হাতেই। মোসাদ্দেকের পরেই আঘাত হানেন আরাফাত সানি। তিনি শূন্য রানে ফেরান অধিনায়ক শুভাগত হোমকে। এর আগে একই ওভারে রানআউট হয়ে ফেরেন আব্দুল মাজিদ। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।

আবাহনীর বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট তুলে নেন সাইফউদ্দিন ও মোসাদ্দেক।

এর আগে আবাহনী রেকর্ড ১৯৪ রানে টার্গেট দেয়। চলতি আসরে সর্বোচ্চ ১৮৩ রান করেছিল আবাহনী। একবার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও আরেকবার শাইনপুকুরের বিপক্ষে এই রান করে তারা। এবার নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ছাড়িয়ে গেলো।

আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ বলে ৫৭ রান করেন মুশফিক। এছাড়া মুনিম শাহরিয়ার ২৭ বলে ৪৩ রান করেন। আবাহনীর এ জয়ে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে আবাহনী। ১২ ম্যাচ তাদের পয়েন্ট ১৮। সমান ম্যাচ শেষে প্রাইম ব্যাংকেরও একই পয়েন্ট। রানরেটে এগিয়ে থাকায় আবাহনী শীর্ষে ওঠে। ১২ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে মোহামেডান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD