রোমাঞ্চকর জয়ে ফাইনালে বার্সেলোনা

রোমাঞ্চকর জয়ে ফাইনালে বার্সেলোনা

রোমাঞ্চকর এক জয়ে কোপা ডেল রে'র ফাইনালে উঠে গেলো স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। শুধু জিতলেই চলবে না, মেলাতে হবে সঠিক সমীকরণ‌ও। এমন এক চ্যালেঞ্জে বার্সেলোনার দারুণ শুরুর পর পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে সেভিয়া। তাতে মেসি-দেম্বেলেদের কাজটা হয়ে যায় আরও কঠিন। চরম নাটকীয়তায় ভরা লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অসাধারণ এক জয়ে কোপা ডেল রে'র ফাইনালে উঠেছে রোনাল্ড ক্যুমানের দল।

 ন্যু ক্যাম্পে বুধবার রাতে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৩-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। প্রথম লেগে সেভিয়া ২-০ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ফাইনালে জায়গা পায় কাতালানরা। পেনাল্টি সেভ করে এতে বড় অবদান রাখেন গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। ‌ওসমান দেম্বেলের গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেরার্ড পিকে। আর তৃতীয় গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় মার্টিন ব্রাথওয়েট।

তবে গোল পেতে বার্সেলোনাকে অপেক্ষায় থাকতে হয় ১২ মিনিট। দেম্বেলেকে বল বাড়িয়ে ডি বক্সে ঢুকে যান মেসি। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ডকে পাসের সুযোগ দেননি সেভিয়ার খেলোয়াড়রা। খানিকটা চেষ্টা করে দেম্বেলে বুঝতে পারেন পাস দেওয়া সম্ভব নয়। ডি বক্সের বাইরে থেকে আরেকটু সরে গিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে খুঁজে নেন জাল। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।

বিরতির পরও একচেটিয়া আক্রমণ করতে থাকে বার্সেলোনা। ঘর সামলাতেই ব্যস্ত সময় কাটে সেভিয়ার। অধিকাংশ সময়ই দলটির প্রায় সব খেলোয়াড়কে দেখা যায় ডি-বক্সের আশেপাশে। ফলে স্বাগতিকদের সব আক্রমণ ভেস্তে যায় প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণে। এর মাঝে ৬৭ মিনিটে তাদের হতাশা বাড়ে; দেম্বেলের ক্রসে জর্ডি আলবার দারুণ ভলি ক্রসবারে লেগে ফেরত আসলে।

৭১ মিনিট পর প্রতি-আক্রমণে বার্সেলোনার ডি-বক্সে ঢুকে পড়া লুকাস ওকাম্পোসকে ডিফেন্ডার অস্কার মিনগেসা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সেভিয়া। তবে ওকাম্পোসের দুর্বল স্পট কিক ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন টের স্টেগেন।

যোগ করা সময়ের শুরুতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সেভিয়া। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফের্নান্দো। এরপরই নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। ম্যাচ শেষ হতে তখন বাকি আর কিছুক্ষণ। মরিয়া হয়ে উঠে বার্সেলোনা, তাদের ঠেকিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে সেভিয়া। এমন সময় সেভিয়াকে হতবাক করে জালে বল পাঠান জেরার্ড পিকে। 

এতে গোলের ব্যবধান সমান হলে, ফাইনালিস্ট নির্ধারণে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৫ মিনিটে ফাইনাল নিশ্চিত করা গোলটি করেন ব্রাথওয়েট। আলবার গোলমুখে বাড়ানো ক্রসে বদলি নামা ডেনিস ফরোয়ার্ডের হেডে বল গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক গলে ঠিকানা খুঁজে পায়। বাকি সময়েও একইভাবে চাপ ধরে রেখে ফাইনালে পা রাখে বার্সেলোনা। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD