আবার‌ও হতাশা বাংলাদেশ শিবিরে

আবার‌ও হতাশা বাংলাদেশ শিবিরে

রক্ষণ দুর্বলতা আর এলোমেলো পাসে প্রতিপক্ষ নেপালের উপর কোনো প্রাধান্যই বিস্তার করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল দল। তাতে তিনজাতি ফুটবলের ফাইনালে নেপালের কাছে হেরে শিরোপা জেতা হলো না জেমি ডে'র শিষ্যদের। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সোমবার ফাইনালে স্বাগতিক নেপালের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

২০০৩ সালে সবশেষ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ী বাংলাদেশের সামনে ছিল দেড় যুগের শিরোপা খরা কাটানোর সুযোগ। কিন্তু ফাইনালের নিষ্প্রাণ পারফরম্যান্সে সে খরা হল আরও দীর্ঘ। অপেক্ষার ক্ষণটা আরো দীর্ঘ হলো লাল-সবুজের দলের। তাছাড়া নেপালের এই প্রতিযোগিতায় এটিই বাংলাদেশের প্রথম হার। কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে আত্মঘাতি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে শুভসূচনা করা জেমি ডে'র দল দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল।

শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চেপে ধরে নেপাল। সপ্তম মিনিটে বক্সে নেপালের সংযোগ রাই বল পাওয়ার আগেই দ্রুত বিপদমুক্ত করেন মাঝমাঠ ছেড়ে নিচে নেমে আসা জামাল ভূইয়া। বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়ানো নেপালের দ্বাদশ মিনিটের আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন সাদ উদ্দিন। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রস দূরের পোস্টে থাকা ত্রিদেব গুরংয়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ক্লিয়ার করেন সাদ।

সপ্তদশ মিনিটে ক্রসে অনন্ত তামাংয়ের হেড গ্লাভসের টোকায় কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন বাংলাদেশের গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। ওই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় নেপাল। রাকিব হোসেন হেডে কর্নার ফেরালেও বল যায় বক্সে ফাঁকায় থাকা মিডফিল্ডার সংযোগের পায়ে। তার জোরালো শট মানিক মোল্লার পায়ের ফাঁক দিয়ে জাল খুঁজে নেয়।

৩৬ মিনিটে জামালের ফ্রি কিকে মেহেদী হাসানের হেড উপরের জাল কাঁপায়। প্রথমার্ধে আর কোনো আক্রমণ করতে পারেনি ২০০৫ সালে সবশেষ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ। ৪১ মিনিটে গোছালো আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেপাল। রনজিত ধিমালের পাস পেয়ে সংযোগ রাই নিখুঁত টোকায় বল বাড়ান বিশাল রাইয়ের উদ্দেশে। ডান পায়ের নিখুঁত শটে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন এই মিডফিল্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিনটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। ৬৬ মিনিটে ইয়াসিনের দূরপাল্লার শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৮২ মিনিটে মানিক হোসেন মোল্লাকে তুলে মাশুক মিয়া জনিকে নামান কোচ। এরপরই জামালের কর্নারে লাফিয়ে সুফিল হেডে লক্ষ্যভেদ করলে বাংলাদেশ পায় ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ। প্রতিযোগিতায় এই প্রথম বাংলাদেশের কেউ পেল গোলের দেখা।

৮৭ মিনিটে জামালের ফ্রি কিকে বসুন্ধরা কিংসের বদলি ফরোয়ার্ড সুফিলের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মেজাজ হারিয়ে রেফারির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন অধিনায়ক জামাল।

এই নিয়ে শেষ চার ম্যাচে এই প্রথম নেপালের কাছে হারল বাংলাদেশ। গত নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলা দুই প্রীতি ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে ২-০ গোলে জিতেছিল জামালরা। পরের ম্যাচ হয়েছিল গোলশূন্য ড্র। টানা তিন ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। সেই সাথে শিরোপা জিততে না পারার হতাশা নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে জামাল ভূইয়াদেরকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD