সাকিবের অনুপস্থিতি টের পেয়েছে বাংলাদেশ

সাকিবের অনুপস্থিতি টের পেয়েছে বাংলাদেশ

দেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে লজ্জাজনক হারের ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারতেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। তিনি বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৯৫ রানের বড় টার্গেট দেয়া ম্যাচের পঞ্চম দিন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবের বোলিং ও তার দিক নির্দেশনা অনেক বেশি মিস করেছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় টার্গেট দিতে সক্ষম হওয়ায় ও এশিয়ার মাটিতে বড় রানের টার্গেট তাড়া করে প্রতিপক্ষের ম্যাচ জয়ের নজির খুবই কম থাকায়, চট্টগ্রাম টেস্ট জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলো বাংলাদেশ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই টেস্ট জয়ের পেছনে পুরো অবদান অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা কাইল মায়ার্সের। ৩১০ বলে ২০ বাউন্ডারি ও ৭ ওভার বাউন্ডারিতে অপরাজিত ২১০ রান করেন তিনি।

সাকিব বিহীন বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপকে দক্ষতার সাথে সামাল দিয়েছেন মায়ার্স। কিন্তু পিচের সুবিধা নিতে পারেনি বাংলাদেশের স্পিনাররা। তাই সাকিবকে খুব বেশি মিস করেছে দল। মুমিনুল বলেন, ‘যদি সাকিব ভাই থাকতেন, তবে পিচের সুবিধা ভালোভাবে নিতে পারতেন তিনি। যেহেতু তিনি দলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড় তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারতেন। আমি তাকে মিস করেছি বিশেষভাবে পঞ্চম দিনের বোলিংয়ে।’

প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৬৮ রান ও ৬ ওভার বল করেন সাকিব। কিন্তু দ্বিতীয় দিন উরুর ইনজুরিতে পড়ায় টেস্টের বাকী অংশে আর মাঠে নামেননি তিনি। তৃতীয় দিন থেকেই মাঠের বাইরে ছিলেন সাকিব। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং-বোলিং কিছুই করেননি সাকিব। কুঁচকির ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন সাকিব। আগের দিন অপরাজিত থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যান মায়ার্স ও এনক্রুমার বোনার আজ দিনের প্রথম দুই সেশনে অনায়াসে কাটিয়ে দেন।

চা-বিরতির সময় তিন স্পিনার মিরাজ-তাইজুল ও নাইমকে কিছু পরামর্শ দিতে দেখা গেছে সাকিবকে। চা-বিরতির পর প্রথম ওভারেই বোনার-মায়ার্সের জুটি ভাঙ্গেন তাইজুল। ৮৬ রানে থাকা বোনারকে ফিরিয়ে চতুর্থ উইকেটে ২১৬ রানের জুটির সমাপ্তি টানেন তাইজুল। এরপর জার্মেই ব্ল্যাকউডকে শিকার করেন নাঈম।

কিন্তু ব্যাট হাতে অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন মায়ার্স। দলের রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তিনি। অতীত রেকর্ডে দলের স্পিনারদের উপর ভরসা রেখেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে সাকিবের বোলিং দিক নির্দেশনা মিস করেছেন তিনি।

মুমিনুল বলেন, ‘এই প্রথম আমার অধিনায়কত্বে সাকিব ভাই কোন টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন। কিন্তু অতীতে সাকিবের অনুপস্থিতি সত্বেও আমাদের স্পিনার- তাইজুল, মিরাজরা ভালো করেছে। আমাদের দারুণ বোলিং আক্রমণ রয়েছে, যদি আমরা শক্ত লাইন-লেন্থে বোলিং করতে পারতাম তবে আমরা ভালো করতাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা সত্যিই ভালো বোলার এবং বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচ জিতিয়েছে। কিন্তু দুভার্গ্যজনকভাবে আজ আমরা সঠিক লাইন-লেন্থে বল করতে পারিনি এবং প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD