ইতালিয়ান কাপের সেমিতে জুভেন্টাস ‌ও আটালান্টা

ইতালিয়ান কাপের সেমিতে জুভেন্টাস ‌ও আটালান্টা

দ্বিতীয় টায়ারের ক্লাব এসপিএএলকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইতালিয়ান কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে জুভেন্টাস। আরেক ম্যাচে ল্যাজিওকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে নাটকীয় জয়ে শেষ চারের টিকিট পেয়েছে ১০ জনের আটলান্টা।

বারগামোতে নাটকীয় ম্যাচটিতে পাঁচজন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করেছেন, একটি লাল কার্ড হয়েছে, আটালান্টা পেনাল্টি মিস করেছে, কিন্তু তারপরেও শেষ হাসি হেসেছে ইন-ফর্ম আটলান্টা। ২০১৯ সালের ফাইনালে এই ল্যাজিওর কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় হতাশ হতে হয়েছিল আটলান্টাকে।

ম্যাচ শেষে আটালান্টা কোচ গিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি বলেছেন, ‘এটা সত্যিই দারুন মজার একটি ম্যাচ ছিল, তাই নয়কি? ম্যাচটি যেমন নাটকীয়তায় ভরা ছিল, একইসাথে ছিল উত্তেজনায় পরিপূর্ণ।’

নিজেদের ক্লাব ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে আটালান্টা। ১৯৬৩ সালে ইতালিয়ান কাপের শিরোপা জয়ের স্মৃতিই এখনো ক্লাবটি পুঁজি হয়ে আছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এনিয়ে টানা ১৪ ম্যাচে অপরাজিত আছে। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ নাপোলি ও স্পেজিয়ার মধ্যে বিজয়ী দলটি। গাসপেরিনি বলেছেন, ‘সেমিফাইনালে পৌঁছানোটা দারুন এক অর্জন। এটা এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে আমরা সর্বোচ্চ দেবার চেষ্টা করি এবং যতটা সম্ভব এগিয়ে যাবার চেষ্টা করি।’

এর আগে মঙ্গলবার উত্তেজনাকর ম্যাচে এসি মিলানকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ইন্টার মিলান। দুই লেগের সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ জুভেন্টাস। আগামী ২-৩ ও ৯-১০ ফেব্রুয়ারি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

জিউইস স্টেডিয়ামে  আলবেনিয়ান ডিফেন্ডার বেরাত ডিমিসিটর গোলে আটলাটা সাত মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল। ল্যাজিও গোলরক্ষক পেপে রেইনা দারুন দক্ষতায় হোসে লুইস পালোমিনোকে হতাশ করেন। লিভারপুল ও নাপোলির সাবেক এই গোলরক্ষক কয়েক মিনিট পরেই লুইস মুরিয়েলকে ব্যবধান দ্বিগুন করতে দেননি। কিন্তু ১৭ মিনিটেই কসোভান এ্যাটাকার ভেডাট মুরিকি ল্যাজিওর হয়ে সমতা ফেরান। ফেনারবাচ থেকে যোগ দেবার পর এটি ল্যাজিওর হয়ে তার ১৬তম ম্যাচ। ফ্রান্সেকো আকারবির ক্রসে তিনি রাজধানীর ক্লাবটির হয়ে প্রথম গোল করেন। ১১ মিনিট পর সেন্টার ব্যাক আকারবি তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুন দক্ষতায় ল্যাজিওকে এগিয়ে দেন। ৩৭ মিনিটে মুরিয়েলের সহয়তা রুসলান মালিনোভস্কি আটালান্টার হয়ে সমতা ফেরান।

দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটের মধ্যে ল্যাজিওর বদলী খেলোয়াড় ম্যানুয়েল লাজ্জারিকে ফাউলের অপরাধে পালোমিনো সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে গেলে আটালান্টা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। কিন্তু একজন কম নিয়ে খেলেও গাসপেরিনির দলকে কোন অসুবিধায় ফেলেননি শিষ্যরা। ৫৭ মিনিটে ক্রিস্টিয়ানো রোমেরোর ক্রসে রাশিয়ান মিডফিল্ডার এ্যালেক্সি মিরানচুক ইতালিয়ান কাপের এবারের মৌসুমে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আটালান্টার জয় নিশ্চিত করেন।

এই গোলের পরপরই গাসপিরিনি কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার ডুভান জাপাটাকে মাঠে নামান। ৬৭ মিনিটে স্পট কিক থেকে জাপাটার শট রুখে দেন রেইনা। ৭১ মিনিটে ল্যাজিও বস সিমোনে ইনজাগি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা সিরো ইমোবিলেকে মাঠে নামিয়েও ম্যাচটি রক্ষা করতে পারেননি। ৮৯ মিনিট অবশ্য ইমোবিলের হেড অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন আটালান্টা গোলরক্ষক পিয়ারলুইগি গোলিনি।

রোববার সিরি-এ লিগে বোলোনিয়াকে পরাজিত করার দলটি থেকে নয়টি পরিবর্তন করে কাল মূল একাদশ সাজিয়েছিলেন জুভেন্টাস কোচ আন্দ্রে পিররো। বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল দলের মূল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে। ৪৩তম জন্মদিনের ঠিক আগেরদিন গোলরক্ষক গিয়ানলুইগি বুফন ম্যাচ শুরু করেছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে একমাত্র নীচু লিগের দল হিসেবে টিকে থাকা এসপিএএল’এর বিপক্ষে জুভেন্টাস কিছুটা হলেও আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল। 

গত মৌসুমে ফাইনালে নাপোলির কাছে পরাজিত জুভেন্টাস এবার যেন শিরোপা জয়ের জন্য একটু বেশী মরিয়া হয়ে উঠেছে। আদ্রিয়ের রাবোয়িতের আদায় করা পেনাল্টি থেকে আলভারো মোরাতার স্পট কিকেট ১৬ মিনিটে এগিযে যায় জুভেন্টাস। যদিও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। ভিএআর এর সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি বহাল রাখা হয়। ৩৩ মিনিটে তরুণ ফুল-ব্যাক গিয়ানলুকা ফ্রাবোত্তা দলের ব্যবধান দ্বিগুন করেন। সিনিয়র দলের হয়ে এটি ফ্রাবোত্তার প্রথম গোল। ম্যাচ শেষের ১২ মিনিট আগে ডিয়ান কুলুসেভিস্কি ব্যবধান ৩-০’তে নিয়ে যান। ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে বদলী খেলোয়াড় ফেডেরিকো চিয়েসা জুভেন্টাসের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD