সাউদি-সেইফার্টে সিরিজ নিশ্চিত নিউজিল্যান্ডের

সাউদি-সেইফার্টে সিরিজ নিশ্চিত নিউজিল্যান্ডের

টিম সাউদির বোলিং ও টিম সেইফার্টের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। আজ রবিবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজের ৯৯ রানের পরও সিরিজে সমতা আনতে পারলো না পাকিস্তান। এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও যাওয়ার সাথে সাথে সিরিজ‌ও নিশ্চিত করলো নিউজিল্যান্ড।

হ্যামিল্টনে টস জিতে এবারও প্রথমে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডের পেসার সাউদির বোলিং তোপে ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। সবগুলো উইকেটই শিকার করেন সাউদি। উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ২২, হায়দার আলি ৮ ও আব্দুল্লাহ শফিক শুন্য রানে ফিরেন।

টপ-অর্ডারে সতীর্থরা বিদায় নিলেও এ প্রান্ত দিয়ে পাকিস্তানের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন হাফিজ। একবার জীবন পেয়ে ৩৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের পেসার স্কট কুগিলিজেনকে ছক্কা মেরে হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছান হাফিজ।

পঞ্চম উইকেটে খুশদিল শাহ’র সাথে ৪৬ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন হাফিজ। সেখানে হাফিজের অবদান ছিলো ২৬ বলে ৪৮ রান। ২০ বলে ১৪ রান করে আউট হন  খুশদিল।

তবে ইনিংসে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেছেন হাফিজ। ১৯ ওভার শেষে হাফিজের রান ছিলো ৫২ বলে ৮২। নিউজিল্যান্ডের পেসার কাইল জেমিসনের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে ১ রান নেন হাফিজ। চতুর্থ বলে ছক্কা, পঞ্চম বলে চার ও ষষ্ঠ বলে ছক্কা মেরে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন হাফিজ। দলকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৩ রানের পুঁজি এনে দেয়ার পেছনে বড় অবদান হাফিজের। তবে আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ৫৭ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মাত্র ১ রানের জন্য ৯৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ  নিতে পারলেন না হাফিজ।

তার ৯৯ রান পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। এই ফরম্যাটে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান আহমেদ শেহজাদের। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে অপরাজিত ১১১ রান করেছিলেন শেহজাদ। নিউজিল্যান্ডের সাউদি ২১ রানে ৪ উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৬৪ রানের জবাব দিতে নেমে দ্রুত রান তুলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও সেইফার্ট। প্রথম ২০ বলে ৩৫ রান তুলে ফেলেন তারা। এরপরই ১১ বলে ১৬ রান করা গাপটিলকে থামিয়ে পাকিস্তানকে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার ফাহিম আশরাফ। গাপটিল ১টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন।

গাপটিলের আউটের পর সেইফার্টের সাথে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। উইকেটের সাথে মানিয়ে দ্রুততার সাথে রান তুলতে থাকেন তারা। এতে ১০ ওভারে ৯১ রান তুলে ম্যাচে লাগাম নিজেদের পক্ষে রাখেন সেইফার্ট ও উইলিয়ামসন। ৩২তম বলে টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন সেইফার্ট।

পেসার হারিস রউফের করা ১৩তম ওভারের শেষ তিন বলে ১৪ রান তুলে জয়ের সমীকরণটা সহজ করে ফেলেন উইলিয়ামসন। শেষ ৭ ওভারে ৪২ রান প্রয়োজন পড়ে নিউজিল্যান্ডের। ৩৭ বলে টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান উইলিয়ামসন। শেষ ওভারে চার রানের প্রয়োজন ২ বলেই শেষ করেছেন উইলিয়ামসন।

৬৩ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৮৪ রান করেন সেইফার্ট। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪২ বলে অপরাজিত ৫৭ রান করেন উইলিয়ামসন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাউদি।

আগামী ২২ ডিসেম্বর নেপিয়ারে সিরিজে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD