মেসির রেকর্ডে বার্সেলোনার জয়, শীর্ষেই অ্যাথলেটিকো

মেসির রেকর্ডে বার্সেলোনার জয়, শীর্ষেই অ্যাথলেটিকো

একটি ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখন লিওনেল মেসির দখলে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী পেলেকে ছাড়িয়ে মেসি গতকাল রাতে রিয়াল ভায়াদোলিদের বিপক্ষে গোল করে এই অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন। মেসির গোলেই কাল লা লিগায় ভায়াদোলিদকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে টেবিলের তিন নম্বরে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।

বার্সেলোনার হয়ে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে মেসি ক্যারিয়ারের ৬৪৪তম গোলটি করেন। এর মাধ্যমে সান্তোসের জার্সি গায়ে পেলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন এই তারকা। এই জয়ে এ্যাথলেটিকোর থেকে আট পয়েন্ট পিছিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে থাকলো বার্সা।

এ্যাওয়ে ম্যাচটিতে অপেক্ষাকৃত দূর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে কাল প্রথম থেকেই মূল দায়িত্ব পালন করেছেন মেসি। চলতি মাসের শুরুতে কাডিজ ও জুভেন্টাসের কাছে দুটি অস্বস্তিকর পরাজয়ের পর কাতালান জায়ান্টরা শেষ চারটি ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে নিয়েছে। ম্যাচ শেষে বার্সা বস রোনাল্ড কোম্যান বলেছেন, ‘আমি মেসিকে দেখে দারুন খুশী। সে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং বরাবরের মতই আমাদের আক্রমনভাগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।’

হোসে জোরিলা স্টেডিয়ামে প্রথম থেকেই ম্যাচের আধিপত্য ছিল বার্সেলোনার । সাত মিনিটে মেসির কার্লিং শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ২০ মিনিটে তার আরো একটি জোড়ালো শট দারুন দক্ষতায় রুখে দেন ভায়াদোলিদ গোলরক্ষক জোর্দি মাসিপ। ২১ মিনিটে মেসির অসাধারন একটি ক্রসে ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ট ল্যাঙ্গেলট কাতালান জায়ান্টদের এগিয়ে দেন। ৩৫ মিনিটে সার্জিও ডেস্টের লো ক্রসে মার্টিন ব্রেথওয়েইট ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ৬৫ মিনিটে পেড্রির ব্যাকহিল এেিস্ট মেসি তার মাইলফলক গোল আদায় করেন নেন। সাথে বার্সার বড় জয়ও নিশ্চিত করেন।

সহজ এই জয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা সোসিয়েদাদ ও ভিয়ারিয়ালের থেকে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলো বার্সা। কাল দিনের আরেক ম্যাচে এ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে ভিয়ারিয়াল।

দিনের শুরুতে মারিও হারমোসো  ও মার্কোস লোরেন্টের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে এ্যাথলেটিকো ২-০ গোলে সোসিয়েদাদকে পরাজিত করে টেবিলের শীর্ষস্থানটি অক্ষুন্ন রেখেছে। এ্যাথলেটিকোর থেকে তিন পয়েন্ট পিছনে থেকে ম্যাচ শুরু করলেও এই পরাজয়ে এখন তারা ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে গেছে। এ নিয়ে লিগে তারা টানা তৃতীয় পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের থেকে অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছেন দিয়েগো সিমিওনের দল। এদিকে সোসিয়েদাদ এ্যাথলেটিকোর থেকে তিন ম্যাচ বেশী খেলেছে। এই জয়টি ছিল এ্যাথলেটিকোর কোচ হিসেবে সিমিওনের ৩০০তম লিগ ম্যাচ জয়।

আর্জেন্টাইন এই কোচ বলেছেন, ‘এটা আমার কাছে সত্যিই অনেক বেশী অর্থপূর্ণ। আমি এখানে এসেছিলাম এ্যাথলেটিকোকে লা লিগায় একটি পর্যায়ে আসীন করতে। বিপরীতে ক্লাবটি আমাকে যা দিয়েছে তাতে তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাইনা।’

রিয়াল এরিনাতে স্বাগতিক সোসিয়েদাদ প্রথমার্ধে সব দিক থেকেই এ্যাথলেটিকোর থেকে এগিয়ে ছিল। কিন্তু গোলের কোন সুযোগ তৈরী করতে পারছিল না। বিরতির তিন মিনিটের মধ্যেই অবশ্য এগিয়ে যায় এ্যাথলেটিকো। ইয়ানিক কারাসকোর ফ্রি-কিক থেকে হারমোসো নিজেকে ফাঁকায় আবিষ্কার করে উড়ন্ত হেডে সফরকারীদের এগিয়ে দেন। ম্যাচ শেষের ১৬ মিনিট আগে লোরেন্টের গোলে ব্যবধান দ্বিগুন হবার পাশাপাশি এ্যাথলেটিকোর জয় নিশ্চিত হয়।

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সুসোর একমাত্র গোলে ধুকতে থাকা ভ্যালেন্সিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে সেভিয়া। এ্যাথলেটিকোর থেকে এই মুহূর্তে তারা ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। ৮১ মিনিটে হোয়াও জর্ডানের থ্রু বল থেকে সুসো জয়সূচক গোলটি উপহার দেন। এই পরাজয়ে টানা ষষ্ঠ ম্যাচে জয়বিহীন থাকা ভ্যালেন্সিয়া রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র এক পয়েন্ট উপরে উঠে টেবিলের ১৩তম স্থানেই থাকলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD