করোনার ছোবলে বিষময় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন

করোনার ছোবলে বিষময় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন

করোনার বিষবাষ্পে জর্জরিত ছিল ২০২০ সালের বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। এই ১২ মাসে বাতিল হয়েছে টোকিও অলিম্পিকসহ ইউরো ও কোপা আমেরিকার মত মেগা ক্রীড়া আসরগুলো। ইউরোপের বহুল জনপ্রিয় চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে। থমকে গিয়েছিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বসহ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ও ফুটবলের অন্য আসরগুলো। আয়োজিত হয়নি বিশ্ব ফুটবলের পুরস্কার বিতরনীর আসর ব্যালন ডি’অর। পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা, ইতালির পাওলো রোসি, অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার ডিন জোন্স এবং বাস্কেটবল তারকা কোবি ব্রায়ান্ট সহ বহু ক্রীড়াবিদ। এমনকি কোভিড ১৯ এর থাবায় আর্থিক সংকটসহ গোটা বিশ্ব এভাবে থমকে গিয়েছিল যে মানুষের মনে দাগ কেটে রাখবে বিষময় ২০২০ সালটি।

এখন সবার মনেই একটিই প্রশ্ন কিভাবে এমন সংকট থেকে মুক্তি পাবে আগামী বছরটি অর্থাৎ ২০২১ সাল। এই সময় অন্য ইভেন্টের মত গভীর সংকটে পড়ে ফুটবল। তাই ২০২১ সালটি হবে এই খেলাটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বছর।

তাই ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ কর্তারা এখন থেকেই ভাবতে শুরু করেছে ২০২১ সালটি নিয়ে। এখন থেকেই পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন তারা। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না শেষ পর্যন্ত পরিস্থতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

উদাহারণ হিসেবে বলা যেতে পারে এই বছর লিসবনে সরিয়ে নেয়ার কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের পরবর্তী ভেন্যু হিসেবে ইস্তাম্বুলকে বেছে নেয়া হলেও আসলে তখনকার পরিস্থিতি কেমন হবে। অথবা কেমন হবে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপ।

উয়েফকে এখন  ডাবলিনের বাকুতে নেয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১২টি ভিন্ন ভেন্যুতে বাস্তব সম্মত পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরো আয়োজন করবে কিনা। সম্প্রতি উয়েফার সভাপতি আলেকক্সান্দার সেফেরিন বলেছেন,‘ আগের বছরের তুলনায় আরো বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়েছি। এখন আমরা জানি যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। তবে তাত্বিকভাবে বলতে গেলে আমরা ১২টি দেশে ইউরো ধরে রাখতে পারি। আবার সেটি কমে, এগার, দশ , তিন কিংবা একটিতেও চলে আসতে পারে।’

এবার ফেরা যাক বিষ বাস্প ছড়ানো বিশ সালে। পুরো বছরটা কেটেছে অজানা ভাইরাসের আতঙ্কে। প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের সংক্রমণে টালমাটাল ছিল পুরো বিশ্ব। প্রাণ হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন হারিয়েছে তার চিরচেনা রং। স্থগিত হয়েছে বড় বড় ক্রীড়া আসর। না ফেরার দেশে চলে গেছেন অনেক কিংবদন্তি।

দিয়েগো ম্যারাডোনা: ২০২০ সালের শেষ ভাগে এসে ফুটবল বিশ^ হারায় ফুটবল ঈশ্বরখ্যাত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনকে। ২৫  নভেম্বর পুরো বিশ্বকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরপারে চলে যান ৬০ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী।  

দীর্ঘ অসুস্থতার পর অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে ফিরেছিলেন ম্যারাডোনা। কিন্তু হঠাৎ মারা যান এই তারকা। তার মৃত্যুশোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ভক্ত-সমর্থকরা।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। ১৯৯০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। তবে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপাবঞ্চিত থাকতে হয় তাকে।

পাওলো রোসি: ম্যারাডোনা চলে যাওয়ার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চলে যান আরেক কিংবদন্তি রোসি। ৯ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় এই ইতালিয়ান ফুটবল কিংবদন্তির। ৬৪ বছর বয়সে মারা যান ১৯৮২ সালে ইতালিকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়া এই ফুটবল তারকা।

কোবি ব্রায়ান্ট: বছরের শুরুতেই মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড় কোবি ব্রায়ান্ট। ২৬ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪১ বছর বয়সী এই বাস্কেটবল তারকা ও তার ১৩ বছরের মেয়ে জিজি ব্রায়ান্ট। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে।

বাস্কেটবলে তিনি পাঁচবার জিতেছেন এনবিও চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ১৮ বার ছিলেন অলস্টার দলের সদস্য। এ ছাড়া দেশের হয়ে ২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণপদকও জিতেছেন এই কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড়।

একই বছর প্রান হারান অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা ডিন জোন্স, ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্যের সঙ্গে জড়িত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আইপিএলে ধারাভাষ্য দিয়েছেন। জোন্স ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এছাড়া পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার চেতন চৌহান। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রবিন জ্যাকম্যান ও আমেরিকান রেসলার লুক হারপার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD