শিরোপা জয়ে ব্যাট করছে মাহমুদউল্লাহ একাদশ

শিরোপা জয়ে ব্যাট করছে মাহমুদউল্লাহ একাদশ

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ফাইনালেও ধরে রাখলেন ইরফান শুক্কুর। সম্ভবত আসরের সেরা ইনিংসটি উপহার দিলেন শান্ত একাদশের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এরপরও তার দল পারল না বড় স্কোর গড়তে। সুমন খান যে হয়ে উঠলেন বিধ্বংসী!

ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট শিকারি বোলার হিসেবে পরিচিতি আছে সুমনের। তরুণ পেসার নিজের সেরা বোলিং মেলে ধরলেন যেন প্রেসিডেন্ট’স কাপের ফাইনালে। ৩৮ রানে তার শিকার ৫ উইকেট। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার ট্রফির লড়াইয়ে মাহমুদউল্লাহ একাদশের বিপক্ষে ১৭৩ রানেই শেষ শান্ত একাদশ।

আগের ম্যাচগুলির মতোই শান্তদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে আবার ত্রাতা ইরফান। ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের দারুণ প্রদর্শনীতে করেছেন তিনি ৭৭ বলে ৭৫ রান। উইকেট এই টুর্নামেন্টে যেমন দেখা গেছে, এ দিনও তেমন; অনেকটা মন্থর, তবে ভয়ঙ্কর কিছু নয়। শান্ত একাদশের ব্যাটসম্যানরাই শুরুতে ডেকে এনেছেন নিজেদের পতন।

একাদশে ফেরা সাইফ হাসান টিকতে পারেননি ম্যাচের প্রথম ওভারও। রুবেল হোসেনের বলে ব্যাটের কানায় লেগে একটি চার পেয়েছেন। পরের বলেই আবার ব্যাটের কানায় লেগে হয়েছেন বোল্ড।

আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার কিছুক্ষণ উইকেটে থাকার পর মাঠ ছাড়েন চোখের সমস্যায়। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম এরপর চেষ্টা করেন ধীরে ধীরে জুটি গড়ে তোলার।

সেই চেষ্টা থামিয়ে দেন সুমন। ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ করে দেন মুশফিককে। ১২ রান করতে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৩৭ বল। মুশফিকের বিদায়ের পর ক্রিজে ফেরেন সৌম্য। আবার ড্রেসিং রুমে ফিরতেও তার সময় লাগেনি। সুমনের ছোবলে এক ওভারেই সৌম্য ও আফিফ হোসেনকে হারায় শান্ত একাদশ। দুজনেরই বিদায় প্রায় একইভাবে, অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা।

অধিনায়ক শান্ত একটা প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন বেশ কিছুক্ষণ। তিনিও উইকেট বিলিয়ে আসেন ধৈর্য্য হারিয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজকে একবার বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মেরে ধরা পড়েননি অল্পের জন্য। পরের বলে আবার একই চেষ্টায় বল তুলে দেন আকাশে, ক্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান। ৫৭ বলে শান্ত করেন ৩২।

২২তম ওভারে শান্তদের রান তখন ৫ উইকেটে ৬৪। এরপর ইরফান আর তৌহিদ হৃদয়ের লড়াই। দল প্রবল চাপে থাকার কোনো ছাপ পড়েনি ইরফানের ব্যাটিংয়ে। শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাসী সব শট খেলেছেন। মিরাজকে দুবার বেরিয়ে এসে উড়িয়েছেন লং অন দিয়ে। প্রান্ত বদলেছেন নিয়মিত। আলগা বল পেলে কাজে লাগিয়েছেন যেমন, তেমনি ভালো বলেও আদায় করেছেন রান।

আরেক পাশে হৃদয় স্রেফ সঙ্গ দিয়ে গেছেন। তাতে গড়ে ওঠে জুটি। হৃদয়কে ২৫ রানে রেখে ইরফান ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন ৪৬ বলে। ৭০ রানের জুটি ভাঙে হৃদয়ের আলগা শটে। মাহমুদউল্লাহর শর্ট বল মিড উইকেটে তুলে দেন হৃদয় (৫৩ বলে ২৬)।

এরপর লোয়ার অর্ডারে আর কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি ইরফানকে। তিনি একাই যতটা পেরেছেন টেনেছেন দলকে। রান বাড়ানোর চেষ্টায় রুবেলকে স্কুপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে থামে তার ইনিংস। ৭৫ রানের ইনিংসে চার ৮টি, ছক্কা ২টি।

নিজের শেষ ওভারে নাসুম খানকে ফিরিয়ে সুমন পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। আগের ম্যাচগুলির মতোই ভালো বোলিং করেন রুবেল ও ইবাদত। স্পিনে মিরাজ ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব খুব প্রভাব ফেলতে পারেননি।

শেষ খবর পা‌ওয়া পর্যন্ত ১৭৪ রানে জয়ের টাের্গেটে নেমে ৮ ‌ওভারে ১ উইকেটে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছে মাহমুদউল্লাহর দল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD