তিন ফরম্যাটেই খেলতে চান মুস্তাফিজ

তিন ফরম্যাটেই খেলতে চান মুস্তাফিজ

কেবল টেস্ট নয়, ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই খেলতে চান বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। অনেকেরই ধারণা ছিল টেস্ট ক্রিকেটকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে তিন ফর্মেটই তার কাছে গুরুত্বপুর্ণ বলে জানান এই বাহাতি পেসার মুস্তাফিজ। তিনি জানান, বর্তমানে ফিটনেস ও স্কিল নিয়েই বেশি কাজ করছেন। যাতে তিন ফরম্যাটের জন্য নিজেকে উপযোগি করে তুলতে পারেন।

আজ সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কিল ট্রেনিং সেশন শেষে মুস্তাফিজ বলেন, ‘আমি তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে খেলতে চাই এবং বর্তমানে আমি ফিটনেস ও অন্যান্য স্কিল নিয়ে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোলিং দক্ষতা বাড়াতে যা করা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করছি এবং সব ফরম্যাটে নিয়মিত করতে অন্যরাও সহায়তা করছে।’

টেস্ট ক্রিকেটে ভালো বোলারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বলকে ভেতরে আনা। পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই যা করতে পারেননি তিনি। মুস্তাফিজের প্রধান অস্ত্র হলো- কাটার ও স্লোয়ার, যা দিয়ে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সাফল্য অর্জন করেছিলেন ফিজ।

মূলত তার কাটার ও স্লোয়ারের কারনে, ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্তভাবে নিজের অভিষেক ঘটান মুস্তাফিজ। ভারতের বিপক্ষে প্রথম দু’ম্যাচে ১১ উইকেট নেন তিনি। ঐ দু’টি ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে জয় পায় দল। ফলে প্রথমবারের মত ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয় টিম ইন্ডিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে অভিষেক সিরিজে নিজের শিকার সংখ্যাকে ১৩তে নিয়ে যান মুস্তাফিজ।

টি-২০ ক্রিকেটেও নিজেকে প্রমান করেন মুস্তাফিজ। ফলে ওয়ানডে ও টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলারে পরিণত হন তিনি। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে, সাফল্যের ক্ষেত্রে তেমন পারদর্শী নন মুস্তাফিজ।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ইনসুইঙ্গারেই বেশি শক্তিশালী মুস্তাফিজ। এমনটাই মুস্তাফিজ জানেন এবং তিনি জানান, বোলিং কোচ ওটিস গিবসনকে নিয়ে সেই বিশেষ দিকটি নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের আগে, কিভাবে বলকে ভেতরে আনতে হবে, সে বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমি এখনো এটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এবং আল্লাহর রহমতে এটি ভালোভাবে চলছে। কিন্তু আমি জানি, এটি করার জন্য পারদর্শী হতে আমার অনেক কাজ করা দরকার।’ বলকে ভেতরে আনার পাশাপাশি, বোলিংএ অন্যান্য দিক নিয়েও কাজ করছেন মুস্তাফিজ।

মুস্তাফিজ বলেন, ‘একমাস পাঁচদিন হয়ে গেল, আমি ঢাকা এসেছি, প্রথমে আমি সংক্ষিপ্ত রান-আপে বল করেছি। দুই কি তিন ধাপে বল করেছি। আমি বাড়িতেও এটি করেছি। কিন্তু ঢাকায় এসে প্রথম থেকেই সব শুরু করেছি। শুরুতে আমি জগিং ও জিমের দিকে মনোনিবেশ করেছি এবং পরে অন্যান্য বোলারদের সাথে ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং শুরু করি। তবে সবকিছু ভালো চলছিলো।’

তিনি জানান, শুরুতে বোলিং ও ফিটনেস অনেক কঠিন ছিলো। তবে যতদিন যাচ্ছে, সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে।

মুস্তাফিজ বলেন, ‘দলগত অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঘরে কাজ করেছি, তবে সেটি ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু আমি যখন স্টেডিয়ামে কাজ শুরু করেছি, তখন কঠিন ছিলো, কিন্তু এখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD