কাজটা আমি উপভোগ করি: পল স্মলি

কাজটা আমি উপভোগ করি: পল স্মলি

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য দ্বিতীয়বার কাজ করতে পারাটা দারুণ এক সুযোগ বলেই মানছেন, বাফুফের টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল থমাস স্মলি। তাছাড়া ফেডারেশনের সভাপতি, টেকনিক্যাল কমিটি এবং কার্যনিবার্হী সদস্যদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রেরণ করা সাক্ষাৎকারে স্মলি এ দেশের ফুটবল নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা এভাবেই জানিয়েছেন। নিচে ওই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ উপস্থাপন করা হল।

প্রশ্ন: কোনো সন্দেহ নেই আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আপনার সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশে আপনি তিন বছর কাজ করেছেন। আপনি এ তিন বছরে কী সফলতা দেখছেন বা এ সময়ে আপনার কাজের মূল্যায়ন কিভাবে করবেন?

পল: আমার বায়োডাটা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা বেশ সুনাম কুড়িয়েছে ইউরোপ ও এশিয়ার ফুটবলের বাজারে। আর বাংলাদেশে এসে প্রথম ধাপে যা কিছু করেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। কিন্ত বাংলাদেশের জন্য এখনো দক্ষিণ এশিয় অঞ্চল ও আরও বড় পরিসরের প্রেক্ষিতে অনেক কাজ করার বাকি। এসব বাফুফে সভাপতি, টেকনিক্যাল কমিটি ‌ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা মূল্যায়ন করবেন। টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পক্ষে সব কিছু করা অসম্ভব। আমি অজুহাত খুঁজছি না, কিন্তু অনেক সময় অনেক ভূমিকায় কাজ করতে হয় টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে। তবে আমি বলব এ কাজটা আমি বেশ উপভোগ করি।

প্রশ্ন: আপনি আসার আগে যুব ফুটবল নিয়ে কাজ হয়েছে। আপনি এসেও এই কাজ করলেন। তাহলে আপনার সাফল্য কোথায়? কেন আপনি তৃণমূল ফুটবল নিয়ে কাজ করলেন না?

পল: আমি আধুনিক ও যুগোপযোগী পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি, যা ছিল দৃশ্যমান। যে উপায়ে কাজ করলে ফুটবলের উন্নয়ন হবে, সেসব ক্ষেত্রে কাজ করেছি। তবে এটাও দেখতে হবে পাশের দেশগুলোর চেয়ে ফুটবলে আমাদের বাজেট ছিল কম। এ কাজে ধারাবাহিকতাও দরকার ছিল, কিন্তু তাও হয়নি। তবু তৃণমূল ফুটবলে বেশ কিছু কাজ হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কাজে আরো মনোযোগ দিতে হবে।

প্রশ্ন: আপনাকে ২০১৬ সালে চার বছরের একটা পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল অথচ এর ২৫ শতাংশ পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি। এ ব্যর্থতার জন্য দায়ী কে? আর আপনার পরিকল্পনা ছিল বর্ষা মৌসুমে ফুটবল লিগ যেন হয়- কেন?

পল: ঘরোয়া ফুটবল ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য একটা কাঠামোগত পরিকল্পনার সমন্বয় করতে গেলে বাংলাদেশের মতো দেশে সমালোচনা শুনতে হবে। ২০১৬ সালে চার বছরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তাতে আমি দেখেছি অনেকেই এটার পক্ষে ছিল না। কারণ আবহাওয়ার কারণে ফুটবল ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আসতে পারে, তাই বাইরের দেশের সঙ্গে এর সমন্বয় করা কঠিন ছিল। তাছাড়া বিজ্ঞাপনের কথা বলে ক্লাবগুলো অনেক সময় ব্যয় করেছে। দুর্ভাগ্য চার বছরের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন এই পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করে দেখতে হবে কিভাবে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়া যায়।

প্রশ্ন: কয়েকদিন আগে বাফুফে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির সদস্যদের নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। আপনি কি এই কমিটি পছন্দ করেন?

পল: আমি ফেডারেশনের মনোনয়ন ও নিয়োগের ব্যাপারে অবগত নই। তবে খেলায় ইতিবাচক প্রভাবের জন্য টেকনিক্যাল ক্ষেত্রে কাজের অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় এনে একটা কৌশলগত নির্দেশনা যুক্ত করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: সারাদেশের সব একাডেমিকে এক সঙ্গে যুক্ত করছে বাফুফে। আপনি কি মনে করেন, আপনার টেকনিক্যাল কমিটি সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারবে?

পল: ফেডারেশন একটি একাডেমি অ্যাক্রেডিটেশন স্কিম চালু করবে। বাংলাদেশে অনেক বেসরকারি একাডেমি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ফুটবলের বাজারের আওতায় নেই। এসব একাডেমির সঙ্গে ফেডারেশনের একটি অর্থবহ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে। তৃণমূল, একাডেমি ও এলিট ফুটবলের মাঝে একটা সম্পর্কের বিস্তার ঘটাবে এই অ্যাক্রেডিটেশন স্কিম। এর মধ্যে ফেডারেশন একাডেমিগুলোকে স্বীকৃতি দেবে ও পুরস্কৃত করবে। এতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী ও কোচদের মর্যাদা বেড়ে যাবে। আর যেসব একাডেমি বাফুফের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণ করবে তাদের মধ্যে এক, দুই ও তিন তারকার স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। এই স্কিম ফুটবলে প্রতিভা খোঁজের জন্য কাজ করবে। বাফুফে ও ক্লাবগুলোকে আরও সহায়তার জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুযোগ সুবিধা বাড়াতে উৎসাহ প্রদান করবে এই প্রকল্প।

প্রশ্ন: আগেরবার মেয়েদের ফুটবলে বেশি কাজ করেছেন। এবারো একই রকম ভূমিকা রাখতে চান?

পল: ফুটবলে টেকনিক্যালি উন্নয়নের জন্য সব সময়ই বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ দিকে মনোযোগ দেওয়ার ইচ্ছা আমার ছিল। আর মেয়েদের ফুটবল এ মুহূর্তে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দিক বিবেচনায় মেয়েদের ফুটবলে অনেক সুযোগ রয়েছে। এ জন্য মেয়েদের ফুটবলে অনেক সময় দিতে হয়েছে এবং বেশ সাফল্য পেয়েছিলাম। তবে আমি বলব সব সময়ই কাজের প্রতি আমার একাগ্রতা রয়েছে। তাই ফুটবলের উন্নয়নের জন্য টেকনিক্যাল দিক দিয়ে আমি সর্বোচ্চটা প্রদাান করব।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উত্তর: আমরা ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যা করেছি তার মূল্যায়ন করবো প্রথমে। যা শিখলাম, তা মাথায় রাখতে হবে। এরপর এএফসি ও ফিফার সঙ্গে মিলিয়ে চার বছরে ফুটবল উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এ সবই রুটিনমাফিক কাজ। তবে এসব কাজই শেষ কথা নয়। আরও অনেক কাজ করতে হবে আমাদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD