অর্থের কারণেই আইপিএল আয়োজন

অর্থের কারণেই আইপিএল আয়োজন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড-বিসিসিআইয়ের। আয়োজন করতে না পারলে ৪ হাজার কোটি রুপির ক্ষতির মুখোমুখি হতে হতো তাদেরকে। এই ক্ষতি যাতে না হয় সে জন্যই করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে‌ও আইপিএল আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছে বিসিসিআই।

ইতোমধেই সবার জানা হয়ে গেছে যে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে আট দলের ৫১ দিনের এই টুর্নামেন্ট। তারিখ চূড়ান্ত, বাকী শুধু বোর্ডের অনুমোদনের। আগামী সপ্তাহেই সেটা নিশ্চিত হবে। অর্থের কারণেই এবারের আইপিএল আয়োজন করা বলে, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর ছিল বিসিসিআই কর্মকর্তাদের। তাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আইসিসি বাতিল করার সাথে সাথেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএলের ঘোষণা। এবং ভারতীয় ক্রিকেটকে আর্থিক সঙ্কট থেকে বাঁচানোর সবুজ সংকেত দিয়েছে আইপিএল।

সন্দেহ নেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট সংস্থা হলো- বিসিসিআই। তাদের আর্থিক শক্তির পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আইপিএলের। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাভজনক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। খেলোয়াড় এবং আর্থ উভয় কারণেই এই লীগে আয়োজন করে থাকে বিসিসিআই। অতি অর্থের কারণে খেলোয়াড়রা‌ও অংশ নিতে পছন্দ করেন এই লিগে।

৩৩০০ কোটি রুপি মিডিয়া রাইটস চুক্তি: বিসিসিআই আইপিএলের জন্য মিডিয়া রাইটস হোল্ডারের (স্টার টিভি) থেকে প্রতি বছর ৩৩০০ কোটি রুপি পেয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার মধ্যেই আইপিএলের জন্য স্টার টিভি ২০০০ কোটি রুপি পরিশোধ করেছিল।

ভিভোর সাথে ৪৪০ কোটি রুপি টাইটেল স্পনসরশিপ: ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেও স্পনসরশিপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিসিসিআইয়ের পক্ষে বিশাল গুরুত্ব বহন করে। আর এই সময়ে তো কোভিড-19 মহামারীটি ভারতের অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলছে। আইপিএলের স্পন্সর চীনা ব্র্যান্ডের মোবাইল কোম্পানি ভিভোকে ঘিরে প্রচুর কথা উঠলে‌ও তাদের অর্থের কাছে বাধা পড়েছে বিসিসিআই। ভিভোর অর্থকে না বলতে পারছেনা, তাই চুক্তিটি বাতিল‌ও করতে পারেনি বিসিসিআই।

১৭০ কোটি রুপি অন্যান্য স্পনসরশিপ চুক্তি: লিগের আরও অনেক স্পনসরশিপ চুক্তি রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ফ্যান্টাসি স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ড্রিম 11, পেটিএম, সিয়াট ইত্যাদি। এই ধরণের স্পন্সরশিপ থেকে বিসিসিআই মোট ১৭০ কোটি রুপি আয় করে থাকে।

বিসিসিআই এই অর্থ দিয়ে কী করবে? ভারতীয় ক্রিকেটারদের বেতন পরিশোধ ছাড়া‌ও এই টাকার ন্যায্য অংশ ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। আইপিএল থেকে প্রাপ্ত অর্থে বিসিসিআই প্রতি বছর আরো দু'হাজারেরও বেশি ঘরোয়া ম্যাচ আয়োজন করতে পারে। তাছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে নারী ক্রিকেট কার্যক্রমও এই অর্থে পরিচালনা করে বিসিসিআই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD