করোনা-মহামারীর মধ্যেই খেলতে চান মরগান

করোনা-মহামারীর মধ্যেই খেলতে চান মরগান

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের সবকিছুই এখন অচল। অলস সময় পার করছেন খেলোয়াড়রা। কোথাও নেই খেলাধুলা। আন্তর্জাতিক সকল ইভেন্টই বন্ধ। কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে জানে না কেউই। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়ানক অবস্থা হতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও ক্রিকেট খেলতে চান বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান। প্রয়োজনে একদিনে দু’টি ম্যাচ খেলতে রাজি তিনি।

এক সংবাদ সম্মেলনে মরগান বলেন, ‘এই অস্বাভাবিক সময়ে আমি সব ধরনের বিকল্পের কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চাই। আমি এর আগে কখনো এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি এবং আমার ধারনা অন্য কেউও হয়নি। আমি মনে করি, খেলাটির জন্য অর্থনৈতিক ও আর্থিকভাবে পরিস্থিতির মারাত্মক প্রকৃতি এমন একটি বিষয় যা আমরা কখনো পাইনি।’

মরগানের খেলার কারণ অযৌক্তিক নয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও ক্রিকেট খেলা হয়েছিলো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল ছিলো ১৯১৪ থেকে ১৯২০ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল ছিলো ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৬। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পর দুই সপ্তাহ ইংল্যান্ডে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা হয়েছিল। ঐ যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীও নিজেদের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ও ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেটাররা। ১৯৪৪ সালে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ম্যাচ হয়েছিলো। সেটি হয়েছিলো ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে। ঐ ভয়ানক অবস্থার মধ্যেও লর্ডসে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ খেলা দেখতে এসেছিলো।

দু’টি বিশ্ব যুদ্ধের সময় যদি খেলা হতে পারে তবে এখন নয় কেন!সেটিও বুঝাতে চেয়েছেন মরগান, ‘এমন অবস্থায় বেশি ক্রিকেট ম্যাচ খেলার চেষ্টা করা উচিত। যদি ঘরোয়া মৌসুম ছোট আকারে করে একই সময়ে আলাদা-আলাদা ভেন্যুতে দুই দলে ভাগ হয়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা যেতে পারে।’

করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে গৃহবন্দী মানুষ। এ অবস্থায় মাঠে খেলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন মরগান, ‘খেলাধুলা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। এখন সময়টা মোটেও অনুকূলে নয়। এতে মানুষের মন অলস হয়ে যায়। খেলাধুলা এমন একটি মঞ্চ যা মানুষকে আবারও ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসার অনুভূতি এনে দিতে পারে। যদি এমন কিছু করা যায়, তাহলে আমি মনে করি বড় পদক্ষেপ হবে।’

তারপরও যদি, রুদ্ধদার স্টেডিয়ামে খেলা পরিচালনা করতে হয় তাতেও কোনো আপত্তি নেই মরগানের। তবে টেলিভিশনে খেলা সম্প্রচার করতে হবে বলে জানান তিনি, ‘দরকার হলে শুন্য স্টেডিয়ামেও খেলা চলতে পারে। যাতে লকডাউনের সময়েই মানুষ ঘরে বসে খেলা দেখতে পারে।’

এতোদিন খেলা বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তা বাড়বে বলে মনে করেন মরগান। তাই যেভাবেই হোক কোন ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি, ‘আমি মনে করি এই অস্বাভাবিক সময়ে যে কোনো উপায়ই হোক বের করতে হবে। আমার মনে হয়, এই মারাত্মক পরিস্থিতি খেলাটায় আর্থিক যে প্রভাব ফেলছে, আমরা কখনও এটা দেখিনি। এভাবে চলতে থাকলে, আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে। তাই অন্য কোন উপায় বের করাটা খুবই প্রয়োজন।’

আগামী ২৮ মে পর্যন্ত ইংল্যান্ডে সবধরনের খেলাধুলা স্থগিত করে ইংল্যান্ড সরকার। তবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজের সূচি রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD