ভারতকে হারিয়ে ইতিহাসই গড়ল বাংলাদেশ

ভারতকে হারিয়ে ইতিহাসই গড়ল বাংলাদেশ

ইতিহাসই গড়লো বাংলাদেশ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লো ইয়াং টাইগাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রোমে, ভারতকে প্রথমে ১৭৭ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশের তরুণরা। জবাবে, ৭ উইকেটে ১৭০ রান তুলে ২৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের তরুণরা। প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বোলিং-ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দুরন্ত পারফর্ম করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়লো আন্ডারডগ হিসেবে টুর্নামেন্টে শুরু করা বাংলাদেশ। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো ইয়াং টাইগাররা।

১৭৮ রানের টার্গেট পেয়েই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু হয় বাংলাদেশের। সেই স্বপ্নের ডালপালা মেলে পারভেজ হোসেন আর তানজিম হাসানের ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটিতে।

ভারতীয় বোলারদের সহজেই সামলে দলের স্কোরে ৫০ রান যোগের পর তানজিদ, রবি বিষ্ণোর শিকার হন। সেমিফাইনালের সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান জয়ও ব্যর্থ। তৌহিদ হৃদয় ও শাহদাত হোসেনের বিদায়ে, ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে হৃদয় ভাঙার অবস্থা তখন বাংলাদেশের।

এইসব বিপর্যয়ের মাঝেও একপাশ আগলে রাখেন পারভেজ হোসেন ইমন। শামিম হোসেন ও অভিষেক দাস দ্রুত বিদায় নিলে ইতিহাস গড়ার তীরে এসে তরী ডোবার অবস্থা ইয়াং টাইগারদের।
অধিনায়ক আকবর আলীর সাথে দলকে বাঁচানোর চেষ্টা তখন ওপেনার ইমনের। কিন্তু ৪৭ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমন।

এরপর রকিবুল হাসানকে সাথে নিয়ে দলকে ইতিহাস গড়ার পথে নিয়ে যান ম্যাচসেরা আকবর আলী। ৭ উইকেটে বাংলাদেশের ইনিংস ১৬৩ রান তোলার পর বৃষ্টিতে থেমে যায় খেলা।

বৃষ্টি থেমে গেলে ডাকওয়ার্থ-লুইস ম্যাথডে বাংলাদেশ টার্গেট পায় ৩০ বলে ৭ রানের। ৭ বলের খরচায় লক্ষ্যে পৌছে যায় আকবর আলীর দল।
তাতে করে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস রচনা করলো পদ্মাপাড়ের বাংলাদেশ।

এর আগে পচেফস্ট্রোমে, টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে, দলের ৯ রানে অভিষেক দাসের বলকে কাট করতে গিয়ে নিজেই কাট হয়ে প্যাভিলিয়নে ভারতীয় ওপেনার দিব্যাংশ সাক্সেনা।

যশস্বী জসওয়াল আর তিলক ভার্মার ব্যাটে প্রাথমিক বিপদ কাটে ভারতীয় যুবাদের। তাদের ৯৪ রানের জুটিতে বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন দেখে টুর্নামেন্টের চারবারে চ্যাম্পিয়নরা। দলের ১০৩ রানে ভার্মার উইকেট ভেঙে জুটি ভাঙেন তানজিম হাসান সাকিব। এরপর যশস্বীর ব্যাটে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ভারতের, তখনই আঘাত শরিফুলের। ৮৮ রানে থাকা যশ্বস্বীর পর তুলে নেন, সিদ্ধেশ বীর উইকেটও। ১৫৬ রানে ৫ উইকেট হারানো ভারত তখন দিশেহারা।

পরের ব্যাটসম্যানরা ভারতের রানের চাকা গতিশীল করতে চাইলেও সফল হননি। তাতে ১৬ বল বাকী থাকতেই ১৭৭ রানেই অলআউট হয় ভারতের যুবারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD