ইউনাইটেডকে হারিয়ে আরো এগিয়ে লিভারপুল

ইউনাইটেডকে হারিয়ে আরো এগিয়ে লিভারপুল

ভার্জিল ফন ডাইক ও মোহাম্মদ সালাহ’র গোলে প্রিমিয়ার লিগে পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জয়ের পথে আরো এগিয়ে গেছে শীর্ষে থাকা লিভারপুল। এই জয়ে ১৬ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি লিগে টানা ১৩ জয় নিশ্চিত করলো `অল রেড’রা। পঞ্চম স্থানে থাকা ম্যান ইউ’র তুলনায় লিভারপুলের পয়েন্টের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ালো ৩০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির থেকে এক ম্যাচ কমও খেলেছে লিভারপুল। এ্যানফিল্ডে গতকাল রোববার প্রথমার্ধে দুটি গোল বাতিল না হলে লিভারপুল হয়ত আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারতো।

একমাত্র দল হিসেবে এবারের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছিল ইউনাইটেড। অক্টোবরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ম্যাচটি ১-১ গোল ড্র হয়েছিল। কিন্তু কালকের ম্যাচে ১৪ মিনিটেই লিভারপুলের এগিয়ে যাবার পর সেই সম্ভাবনার আর কোন সুযোগই দেখা যায়নি। সহজ একটি সেট পিস আক্রমনে ট্রেন্ট আলেক্সান্দার-আর্নল্ডের কর্ণার থেকে ফন ডিকের শক্তিশালী হেড আটকানোর ক্ষমতা ছিলনা ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়ার। এই গোলের পরপর ইউনাইটেড বস ওলে গানার সুলশারের গেম প্ল্যান ভুল প্রমানিত হয়। সুলশার কাল পাঁচজনকে রক্ষনভাগে খেলিয়েছেন। লুক শ’কে তার পজিশন থেকে সড়িয়ে তৃতীয় সেন্টার-ব্যাক হিসেবে দলে রাখা হয়েছিল। রবার্তো ফিরমিনোর পাস থেকে সাদিও মানেকে নিশ্চিত একটি গোল থেকে বঞ্চিত করেছেন সাউদাম্পটনের সাবেক এই লেফট-ব্যাক।

বিরতির আগে জার্গেন ক্লপের শিষ্যরা দু’বার জালে বল জড়ালেও ভিএআর ও অফ-সাইডের কারনে ইউনাইটেড বড় পরাজয়ের লজ্জা থেকে রক্ষা পায়। ফিরমিনোর দুর্দান্ত স্ট্রাইকার ভিএআর এর কারনে বাতিল হয়ে যায়। এরপর এ্যালেক্স অক্সালেড-চেম্বারলেইনের অসাধারণ একটি থ্রু বল থেকে জর্জিনিও উইজনালডামের গোল অল্পের জন্য অফ-সাইডের কারনে বাতিল হয়ে যায়। সর্বোচ্চ গোলদাতা মার্কাস রাশফোর্ডের ইনজুরির কারনে ইউনাইটেডের আক্রমনভাগ সামলানোর দায়িত্ব পড়েছিল এন্থনি মার্টিয়াল, ড্যানিয়েল জেমসের ওপর। ৪০ মিনিটে মার্টিয়ালের একটি শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটেই এ্যারন ওয়ান-বিসাকার ক্রস থেকে আন্দ্রেস পেরেইরা ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরাতে ব্যর্থ হন। বিরতির ঠিক আগে মানের একটি চমৎকার শট ডি গিয়া পা দিয়ে কোনরকমে রক্ষা করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সালাহ ও জর্ডান হেন্ডারসনের দুটি সুযোগ নষ্ট না হলে ব্যবধান বাড়াতে পারতো লিভারপুল। ৬০ মিনিটে পেরেইরার সাথে দারুন এক সমঝোতায় মার্টিয়াল সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন। গত সপ্তাহে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচটির মত লিভারপুল শেষ ২০ মিনিটে আবারো নড়েচড়ে বসে। মধ্যমাঠকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ক্লপ মানে ও ফিরমিনোকে উঠিয়ে নেন। ইনজুরি টাইমে গোলরক্ষক এ্যালিসনের কাছ থেকে বল নিয়ে মিশরীয় তারকা সালাহ নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে ডি গিয়াকে পরাস্ত করলে লিভারপুলের জয় নিশ্চিত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD