হাসপাতালে বাংলাদেশের সোনার মেয়ে প্রিয়া

হাসপাতালে বাংলাদেশের সোনার মেয়ে প্রিয়া

মঙ্গলবার নেপালের সাদ্দোবাদোর ন্যাশনাল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আলো ছড়িয়ে মেয়েদের একক কুমি ইভেন্ট থেকে দেশকে স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছিলেন মারজান আক্তার প্রিয়া। সেই স্বর্নকন্যাকে আজ বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। দলীয় কুমিতে শ্রীলঙ্কান প্রতিপক্ষের এক পাঞ্চে আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারান তিনি। ম্যাট থেকে সরাসরি ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। তবে প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে ‌ওঠেন এই স্বর্ণ জয়ী এথলেট। আর কোন শঙ্কা নেই বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রিয়া নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় লাল-সবুজদের রৌপ্য পদক নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়।

মেয়েদের দলীয় কুমিতে ম্যাটে নেমেছিলেন প্রিয়া। আরেক স্বর্ণজয়ী হুমায়রা আক্তার অন্তরা ও মাউনজেরা বর্নর সাথে জুটি গড়েছিলেন তিনি। স্বাভাবিক কারনেই তাদের কাছ থেকে আরো একটি স্বর্ণ জয়ের আশা ছিল। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম রাউন্ডটা বর্না জিতে নেন ৮-৪ পয়েন্টের ব্যবধানে। ম্যাটে আসেন প্রিয়া। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। রাউন্ড শেষ হতে তখন বাকী মাত্র ৩৮ সেকেন্ড। ১-০ তে পিছিয়ে লাল-সবুজরা। কিন্তু হঠাৎ করেই শ্রীলঙ্কান প্রতিযোগির একটি পাঞ্চ সরাসরি আঘাত হানে প্রিয়ার কানের নিচে। সাথে সাথেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাংলাদেশ টিমে। গ্যালারিতে বসে থাকা নেপালি দর্শকরাও হতভম্ব হয়ে যান। মেডিকেল টিম এসে সরাসরি দশরথের রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের পাশ্ববর্তী ব্লু ক্রস হাসপাতালে নিয়ে যায় প্রিয়াকে। সেখানকার জরুরী বিভাগের ইনচার্জ ডা: প্রয়াল শ্রেষ্ঠা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে তুলেন প্রিয়াকে। চিকিৎসা শেষে প্রয়াল শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমরা তাকে ব্যথা নাশক ঔষধ দিয়েছি। এখন সে সুস্থ্য।’

হাসপাতালের নিউরো সার্জন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ড ডা: অভিষেক চতুরবেদি বাংলাদেশী স্বর্ণ কন্যার সিটি স্ক্যান রিপোর্ট দেখে বলেন, ‘ভয়ের কিছু নেই। সে এখন পুরোপুরি সুস্থ্য।’

এ রাউন্ডে আরো দু’বার আঘাত পেয়েছিলেন প্রিয়া। প্রথমবার ৪৮ সেকেন্ডে। তখন শ্রীলঙ্কান প্রতিপক্ষ তার চোয়ালে সজোড়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলেছিলেন। মেডিকেল টিমের সাপোর্ট নিয়ে সে যাত্রায় আবারো ম্যাটে নামেন। দ্বিতীয় আঘাতটি পেয়েছিলেন পেটে। দু’বার আঘাত পেয়েও দেশের হয়ে লড়াই যাচ্ছিলেন মারজান আক্তার প্রিয়া। হয়তো চোখের সামনে লাল-সবুজের পতাকাটা ভেসে উঠেছিল বারবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠেননি। জ্ঞান হারিয়ে ম্যাট ছাড়তে হয় তাকে। শুধু প্রিয়া নন, তার জুটি বর্নাও দুইবার আহত হন শ্রীলঙ্কান এক প্রতিযোগির আঘাতে। প্রথম আঘাতটি পেয়েছিলেন চোখে। এক চোখ বন্ধ করেই লড়াই করেন তিনি। নাক দিয়েও রক্ত ঝড়েছে তার। শেষদিকে, বাম হাতের দ্বিতীয় আঙ্গুলেও চোট পান। ১৮ সেকেন্ড বাকী থাকতে প্রতিপক্ষের এক পাঞ্চ বর্না মাথায় আঘাত হানে। তিনিও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। তবে হাল ছেড়ে দেননি। মেডিকেল টিমের সাপোর্ট শেষে ৮-৪ পয়েন্টে রাউন্ডটি জিতে ম্যাট ছাড়েন বর্না। তবে ম্যাটের নিচে নামতে না নামতেই ফের মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এ এথলেট। শেষ রাউন্ডে আরেক স্বর্ণ জয়ী অন্তরা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৪-১ পয়েন্টে ম্যাচ জিতে দলকে ফাইনালে তোলেন।

কিন্তু ফাইনালে প্রথম রাউন্ডে বর্ণা ৬-৪ ব্যাবধানে হেরে যান পাকিস্তানী প্রতিযোগির কাছে। সেমিফাইনালে পাওয়া আঘাতে অনেকটাই দূর্বল হয়ে পড়েছিলেন। পরের রাউন্ডে অন্তরা আবারো দলকে ম্যাচে ফেরান। তিনি জয় পান ৭-৩ পয়েন্টে। কিন্তু শেষ রাউন্ডে প্রিয়ার স্থলাভিসিক্ত হওয়া নাঈমা খাতুন পেরে উঠেননি পাকিস্তানের সাথে। ফলে রৌপ্য পদক নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয় বাংলাদেশকে।

এদিকে, কারাতে ইভেন্ট থেকে পুরুষদের একক কুমিতে থেকে সবুজ মিয়ার হাত ধরে স্বর্ণের আশা করলেও হতাশ করেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষের কাছে নিজের ভুলেই হেরে যান ৫-৪ পয়েন্টে। রাউন্ড শেষ হতে মাত্র এক সেকেন্ড বাকী। ৪-৪ পয়েন্টে ড্র চলছিল। আর মাত্র একটি সেকেন্ড ধরে রাখতে পারলেই তিনি জয়ী হতেন। কারন সে রাউন্ডে প্রথম পয়েন্টটি পেয়েছিলেন সবুজ। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন সেনাবাহিনীর হয়ে খেলা এই এথলেট। উল্টো পয়েন্ট হারিয়ে সেমি ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়। দলীয় কুমিতে ইভেন্টেও হেরেছে লাল-সবুজরা। ব্রোঞ্জ নিয়েই ফিরতে হচ্ছে তাদের। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশে ফিরতে এখনো পর্যন্ত দেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি স্বর্ণ পদক জেতা দলটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD