সোনার খনিতে বাংলাদেশের আরচ্যাররা

সোনার খনিতে বাংলাদেশের আরচ্যাররা

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে দেশের বাইরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সফলতা ছিল ১৯৯৫ সালে। সেবার মাদ্রাজে সাতটি স্বর্ণ পদক জয়ের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশী এথলেটদের। চলতি এ আসরে সে সফলতা ছাড়িয়ে গেছে লাল-সবুজরা। বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত জয় করেছে ১৪ সোনার পদক। রোববার এক দিনেই দেশকে ৬ স্বর্ণ উপহার দিয়ে হিমালয়ের বুকে সোনালি হাসির আভা ছড়িয়েছেন আরচাররা। এক ডিসিপ্লিন থেকে এতো স্বর্ণ পদক জয়ের ঘটনা এবারই প্রথম। পোথরার আরচ্যারি গ্রাউন্ডে যখন একের পর এক সোনার পদক জয় করছিলেন রোমান সানা-ইতিরা, তখন পাশেই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে লাল-সবুজের পতাকাকে উর্ধ্বমূখী করে তুলেছিলেন নারী ক্রিকেটাররা। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ২ রানে হারিয়ে সোনার হাসি হাসে সালমা খাতুনের দল। প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়া নারী ক্রিকেটের স্বর্ণ জিতে নিয়ে নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় লেখায় বাংলাদেশ।

চলতি এ আসরের প্রথম সাতদিনে সাত স্বর্ণ পদক জয় করেছিলেন বাংলাদেশী এথলেটরা। এরমধ্যে, সর্বোচ্চ তিনটি পদক ছিল কারাতে ইভেন্টে। দু’টি জয় করেন ভারোত্তোলকরা। আর একটি করে স্বর্ণ উপহার দেয় তায়কোয়ান্দো ও ফেন্সিং। তবে রোববার ছিল বাংলাদেশের জন্য নতুন এক রেকর্ডের দিন। আগের দিনই আরচ্যারি ডিসিপ্লিনের দশটি ইভেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। ভারত না থাকায় আগেই ধরে নেয়া হয়েছিল আরচ্যারিতে স্বর্ণের লড়াইয়ে বাংলাদেশ সবার উপরেই থাকবে। তবে প্রথম দিনের সব ইভেন্টেই যে স্বর্ণ পাবে, সেটা ধারনা করেনি কেউ। আরচ্যারিতে গত দু’টি আসরেই স্বর্ণ ছাড়া ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু মাত্র তিন বছরের ব্যবধানেই নতুন এক বাংলাদেশকে দেখলো সবাই।

পোখরায় সকালটা রাঙ্গিয়েছিলেন রোমান সানা, তামিমুল ইসলাম ও হাকিম মোহাম্মদ রুবেল। শ্রীলঙ্কাকে ৫-৩ সেট পয়েন্টে পরাজিত করে রিকার্ভ দলগত ইভেন্ট থেকে পদকটি উপহার দেন তারা। পুরুষদের পদাঙ্কনুসরন করে মেয়েরাও দেশকে উপহার দেন সোনার পদক। মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্ট থেকে আসে দ্বিতীয় স্বর্ণটি। ভুটানের বিপক্ষে জয় ধরা দেয় ৬-০ সেটে। তৃতীয় সোনায় অবদান আছে দেশ সেরা আরচার রোমানের। রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টে তার সঙ্গী ছিলেন ইতি খাতুন। এবার ভুটানের বিপক্ষে তাদের জয় ৬-২ সেটে।

লাঞ্চ বিরতির আগে দুই স্বর্ণ নিশ্চিত করা দেশ সেরা আরচার রোমান সানা বলেন, ‘২০১৬ সালে এসএ গেমসে বড় একটা ইনজুরির কারণে খেলতে পারিনি। তখন অনেক দুঃখ লেগেছিল। তবে সে দু:খ অনেকটাই কমে গেছে আজ। দলগত ও মিশ্র দলগত মিলিয়ে দুটো গোল্ড পেয়েছি। ধরতে গেলে এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। আশা করছি আগামীকাল (আজ) এককের ইভেন্ট থেকেও দেশকে স্বর্ণ এনে দিতে পারবো।’ ইতি খাতুন বলেন, ‘এটা এমন একটা খেলা যে কেউ তিন দিন বা এক সপ্তাহ বিশ্রাম নিলে খেলা আর হবে না। ফেডারেশন আমাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশী কোচের তত্বাবধায়নে অনুশীলন করছি নিজস্ব মাঠে। যার ফল আমরা পেয়েছি এবার। আগামিকাল (আজ) আমরা আরও ভালো করবো।’

লাঞ্চ বিরতির পর কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত বিভাগে ভুটানকে ২২৫-২১৪ স্কোরে হারিয়ে সোনার পদক জয় করেন অসীম কুমার দাস, সোহেল রানা ও মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান। এরপর কম্পাউন্ড মহিলা দলগত বিভাগে শ্রীলঙ্কাকে ২২৬-২১৫ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতেছেন সুস্মিতা বণিক, শ্যামলী রায় ও সোমা বিশ্বাস। আর দিনের শেষ ইভেন্ট কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন জুয়েল রানা-রোকসানা আক্তার জুটি। স্বাগতিক নেপালের জুটিকে তারা হারান ১৪৮-১৪০ ব্যবধানে। সব মিলিয়ে দিনের ৬ ইভেন্টের ৬টিতেই সেরা বাংলাদেশ। আজ এককের চারটি ইভেন্টের ফাইনাল হবে। যেখানে সবগুলোতেই অংশ নেবেন বাংলাদেশী আরচাররা। আজ যদি চারটিতে জিতে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, তাহলে এসএ গেমসে নতুন এক রেকর্ডের মালিক হবেন সোনাজয়ীরা। কারন কোন ইভেন্টের সব স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড এখনো করতে পারেনি কোন দেশ।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে ১৮ সোনার পদক জয় করেছিল বাংলাদেশী এথলেটরা। এবার সেই সাফল্য পেড়িয়ে যাওয়ারও বেশ বড় একটা সুযোগ রয়েছে। আরচারির চারটি ইভেন্ট থেকে সোনা প্রত্যাশিতই। ছেলেদের ক্রিকেটের ফাইনালও কবে। অনন্যা ইভেন্ট থেকেও সম্ভাবনা আছে আরও দু-একটি সোনার পদকের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD