বাংলাদেশের সেরা সাফল্যে পর্দা নামল এসএ গেমসের

বাংলাদেশের সেরা সাফল্যে পর্দা নামল এসএ গেমসের

কোনো বিষাদ-বেদনা নয়, আনন্দের বারতা নিয়ে নেপালের কাঠমান্ডু স্টেডিয়ামে শেষ হলো এসএ গেমসের মিলনমেলা। সাত দেশের ক্রীড়াবিদ, সংগঠক আর আয়োজকদের মাঝে এই গেমস হয়ে রইল এক মধুর স্মৃতি। গত ১০ দিনে প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ পদক জয়ের লড়াইয়ে নামার সঙ্গে একে অপরের সাথে পরিচিতও হন। গত পয়লা ডিসেম্বর উদ্বোধনী দিন সাতটি দেশ নিজেদের বহরে থেকে মার্চ পাস্টে অংশ গ্রহণ করেন। কিন্তু আজ মঙ্গলবার সেখানে ছিল বাধন হারা উচ্ছ্বাস, মনোলোভা উল্লাস। যে যেভাবে পেরেছেন বিদায়ী মার্চ পাস্টে অংশ গ্রহণ করেছেন। তাদের এই আনন্দঘন মুহূর্তই, বিদায়ের বিষাদ ভুলিয়ে দিয়েছিলে। আবার বিদায়ের বিষান্নতা নেপালীদের অনেকটা ছুঁয়ে যেতে পারেনি ফুটবলে স্বর্ণ জেতায়। কিংবা বলা যায়, বিদায়ের বিষন্নতা তারা ভুলে গিয়েছিল এই স্বর্ণ জয়ে।

গত ১০ দিন নেপালের আকাশে ভোরের সূর্য উঠেছিলৈ অন্যরকম ব্যস্ততা নিয়ে। ক্রীড়াবিদদের পদভারে মুখরিত। স্বর্ণ জয়ের লড়াই। এক একটি দেশের জাতীয় সংগীত বেজে উঠা। সে সময় অন্যদেরও দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো। পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। বন্ধুত্ব গড়ে উঠা। পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়। হিমালয় কন্যার বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষদের সফল আয়োজনে প্রাণপন চেষ্টা। এখন থেকে আর দেখা যাবে না। ভেঙ্গেছে মিলন মেলা। আবার দেখা হবে ২০২১ সালে পাকিস্তানে চৌদ্দতম আসরে। শুধু কি তাদেরই অন্তরে দু:খের ছবি। এই গেমসকে সামনে রেখে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হোটেল, রেস্টুরেন্টে ব্যবসায়ীরাও জড়িয়ে পড়েছিলেন। যদিও নেপাল পর্যটকদের দেশ। এখানে সব সময়ই বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে। কিন্তু গেমস চলাকালে সর্বত্রই গেমস সংশ্লিস্টদের পদচারণা ছিল। লম্বা সময় অবস্থান করায় অন্যরকম একটা ঘনিষ্টতাও গড়ে উঠেছিল।

গেমসের শেষ দিন নেপালের আকাশে যে সূর্য উঠেছিল সেখানে কিছুটা বিষাদের ছায়া থাকলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে সফল সমাপ্তির জন্য অন্য রকম একটা তাড়া দেখা গেছে সংশ্লিষ্টদের। সবচেয়ে বেশি ছিল আইন-শৃংখলা বাহিনীর। একেতো দশরথ স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠান। আবার সেখানে ফুটবলের ফাইনাল। যে ফাইনালে ভুটানের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক নেপাল। বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আগের ম্যাচে দুপুরের পর থেকেই জনস্রোতের কারণে বিশাল যানজট তৈরি হয়েছিল। এবার সেদিকে ছিল বেশি নজরদারী। যে কারণে স্টেডিয়ামমুখি অনেক রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এমন কি অন্য অনেক রাস্তায় বাস চলাচলও করেনি। তারপরও যানজট ছিল। তবে আগের তুলনায় কম। ফুটবল আবার নেপালের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। যে কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। মূল্যও বৃদ্ধি করা হয়। অনেকেই টিকিট না পাওয়াতে স্টেডিয়ামের সামনে বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখেন। সেখানেও প্রায় কয়েক হাজার নেপালি ছিলেন। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের সতর্কতার কারণে কোন যানজট সৃষ্টি হয়নি। যান চলাচল ছিল ধীর গতিতে।

জাকজমক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পর সমাপনিতেও ছিল একই রকম আঢ়ম্ভরপূর্ণ। সেই আয়োজনের চমকে বিদায়ের বিষন্নতাকে ভুলিয়ে দিতে যথেষ্ট। যদিও তখন নেপালিরা বুধ ছিলেন ফুটবলের স্বর্ণ জয়ের আনন্দে। লেজার শোর মাধ্যমে বিভিন্ন ডিসিপ্লিন ফুটিয়ে তুলার পাশাপাশি বিশেষত্ব বা অন্যতম আকষর্ন ছিল ড্রোন। ১৫০টির মতো ড্রোন দশরথ স্টেডিয়ামের আকাশে উড়ে ইংরেজিতে লেখা NEPAL THANK YOU শব্দটি ফুটিয়ে তোলে। ছিল মুগ্ধতা ছড়ানো আতশবাজির ঝলকানি। আর ছিল স্কুলের বালক-বালিকাদের অংশগ্রহণে নেপালের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় দুই ঘন্টার সমপানি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইসর পোখরেল, অর্থমন্ত্রী নবরাজ খাতিওরা, যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী জগদ বাহাদুর সোনার, নেপাল অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সভাপতি জীবন রাম শ্রেষ্ঠা। তিনি এসএ গেমসের পরবর্তি আয়োজক পাকিস্তানে অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের হাতে গেমস পতাকা তুলে দেন। যদিও পরবর্তি গেমস পাকিস্তানে আয়োজন নিয়ে সংশয় আছে। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাতেই সম্ভাবনা বেশি।

সমাপনি দিন বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন গত আসরে সাঁতারে স্বর্ণ জয়ী মাহফুজা আক্তার শীলা। সাধারণত গেমসের উদ্বোধনী দিনই পতাকা বহনের গুরুত্ব থাকে। কিন্তু উদ্বোধনী দিন এবার একমাত্র নেপাল ছাড়া আর কোন দেশের পতাকা সেদেশের কেউ বহন করতে পারেননি। তাই সমাপনি দিন পতাকা কার হাতে থাকবে তার কোন বিশেষ গুরুত্ব থাকে না। তবে এবার শীলার হাতে দিয়ে সমাপনি অনুষ্ঠানে পতাকা বহন করানো হয়।

এবারের আসরে বাংলাদেশ গেমসের ৩৫ বছরের ইতিহাসে সেরা সাফল্য ১৯টি স্বর্ণ জিতেও নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করতে পারেনি। সেই পাঁচেই থেকেছে। ভারত দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েও অপ্রতিদ্বন্দ্বিভাবে শীর্ষে থেকেছে। তারা জিতেছে ১৭৪টি স্বর্ণ। স্বাগতিক নেপাল ৫১টি স্বর্ন জিতে দ্বিতয়ি হয়েছে। ৪০ স্বর্ণ জিতে শ্রীলঙ্কা তৃতীয় ও ৩১ স্বর্ণ জিতে পাকিস্তান হয়েছে চতুর্থ। একটি স্বর্ণ জিতে মালদ্বীপ ষষ্ট। আর একমাত্র দেশ হিসাবে কোন স্বর্ণ পদক জিততে না পারা ভুটান ৭ রৌপ্য জিতে সাত দেশের মাঝে সবার নিচে।

পদক তালিকা

দেশ স্বর্ণ রৌপ্য ব্রোঞ্জ মোট

ভারত ১৭৪ ৯৩ ৪৫ ৩১২

নেপাল ৫১ ৬০ ৯৫ ২০৬

শ্রীলঙ্কা ৪০ ৮৩ ১২৮ ২৫১

পাকিস্তান ৩১ ৪১ ৫৯ ১৩১

বাংলাদেশ ১৯ ৩২ ৮৭ ১৩৮

মালদ্বীপ ১ ০ ৪ ৫

ভুটান ০ ৭ ১৩ ২০

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD