ইতির রেকর্ডের দিনে সুমার চমক

ইতির রেকর্ডের দিনে সুমার চমক

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে এরআগে এক আসরে দেশের হয়ে কোন নারী এথলেটই হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে পারেননি। চলতি আসরে সে কৃতিত্ব দেখালেন তীরন্দাজ ইতি খাতুন। দেশের হয়ে নারী এথলেট হিসেবে গড়লেন নতুন রেকর্ড। আরচ্যারি ডিসিপ্লিনে মেয়েদের রিকার্ভ দলগত, রিকার্ভ মিশ্র দলগত ও মেয়েদের রিকার্ভ এককের স্বর্ণ জিতে নিজেকে নিয়ে যান তিনি অনন্য এক উচ্চতায়। ইতির রেকর্ডের দিনে আরচ্যারি গ্রাউন্ডে চমক দেখিয়েছেন সুমা বিশ্বাস। মেয়েদের কম্পাউন্ড এককে শ্রীলঙ্কান প্রতিযোগী অনুরাধাকে ১৪২-১৩৪ স্কোরে হারিয়ে সবাই তাক লাগিয়ে দেন মাগুরার এই আরচ্যার।

আগের দিন মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ও রিকার্ভ মিশ্র দলগত ইভেন্টে সোনা জয় করে শান্তির একটা ঘুম দেয়ার কথা ছিল ইতি খাতুনের। কিন্তু পরের দিন মেয়েদের রিকার্ভ এককের ফাইনাল নিয়ে অতিরিক্ত চাপে ছিলেন চুয়াডাঙ্গার মেয়ে। তাছাড়া যখন জানতে পারেন নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, তখন নানা ভাবনা চেপে বসে মাথাতে। তাই ঘুমটাও খুব একটা ভালো হয়নি। সকালে মাঠে আসার পর রাতে না ঘুমানোর বিষয়টি জানতে পেয়ে সহকারী কোচ জিয়াউর রহমান তাকে বকাঝকা করেছিলেন। তীর হাতে নামার পর প্রথমে পিছিয়ে গেলেও পরে দারুন খেলে গেমে ফিরে আসেন হ্যাটট্রিক স্বর্ণজয়ী ইতি। এক আসরে তিন স্বর্ণ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ার পর আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি। কোচ প্যাড্রিককে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে উঠেন।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন আহম্মেদ চপল ‘রেকর্ড কণ্যা’ ইতিকে কাঁধে তুলে নিয়ে নাচতে শুরু করেন। এমন আনন্দের দিনে ইতি শোনালেন তীরন্দাজ হতে গিয়ে পরিবার থেকে বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ার গল্প, ‘প্রথমে বাবা-মা চায়নি আমি আরচ্যারি খেলি। তবে যখন থেকে ভালো রেজাল্ট শুরু করেছিলাম, তখন থেকে তারা আমাকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।’

আরেক নারী আরচ্যার সুমা বিশ্বাস এবারের আসরে ‘জিরো থেকে হিরো’ বনে গেছেন। মেয়েদের কম্পাউন্ড একক ইভেন্টে ফেবারিট ছিলেন শ্যামলী। কিন্তু ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। সবাইকে চমকে দিয়ে ফাইনালে উঠে আসেন চার নম্বর আরচ্যার হিসেবে এসএ গেমসে আসা সুমা। তার হাত ধরে স্বর্ণ পদক আসবে– এমন প্রত্যাশাও করেননি কেউ। এমনকি নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসটাই ছিল কম। কিন্তু আজ সোনার পদকের শুরুটাই করেছিলেন এক সময় খো খো ও ক্রিকেট খেলা সুমা। স্বর্ণ জয়ের পর আনন্দে কেঁদেছেন বড় ভাইয়ের হাত ধরে আরচ্যারির মঞ্চে আসা সুমা। বলেন, ‘আমি ছিলাম টিমের চার নম্বর প্লেয়ার। ঠিক মতো অনুশীলন করতে পারিনি পরীক্ষার কারনে। আমার কনফিডেন্টও শতভাগ ছিল না। কোচেরও আত্মবিশ্বাস কম ছিল আমার উপর।’

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে আরচ্যারির জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক কোন আসরে খেলতে আসেন। ঘরোয়া কোন প্রতিযোগিতার এককে স্বর্ণ জয় করতে না পারা প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চেই বাজিমাত করেছেন সুমা, ‘বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ছাড়া পরিবারের আর কেউ চায়নি আমি খেলাধূলার সাথে জড়িত হই। এক প্রকার যুদ্ধ করেই আমাকে এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে। ভাইয়ের সাপোর্ট না থাকলে এখানে আসতে পারতাম না। আজ নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে দেশের জন্য কিছু করতে পেরে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD