অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ

অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৮টি স্বর্ণ পদক ছিল বাংলাদেশের। এবার নেপালে নিজেদেরকে ছাড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশী এথলেটরা। গেমসের নবম দিন শেষে ১৯ টি স্বর্ণ পদক জমা হয়েছে বাংলাদেশের ঝুলিতে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি পদক আসে আরচ্যারি ইভেন্ট থেকে। কারাতে থেকে তিনটি, ক্রিকেট ও ভারোত্তোলন থেকে দু’টি করে, তায়কোয়ান্দো ও ফেন্সিং ইভেন্ট থেকে আসে একটি করে স্বর্ণ পদক। আগের দিন বাংলাদেশের সোনার পদক ছিল ১৪টি।

আজ সোমবার দিনের শুরুতেই চারটি স্বর্ণ আসে আরচ্যারদের মাধ্যমে। অপর স্বর্ণটি জয় করেন পুরুষ ক্রিকেটাররা। পোখরার আরচ্যারি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ডিসিপ্লিনের শেষ চারটিই একক ইভেন্টের খেলা। শেষদিনেও বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশী আরচ্যাররা। চারটিতেই স্বর্ণ পদক জয় করে এ ডিসিপ্লিনের দশ ইভেন্টের দশটিতেই স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড গড়লো লাল-সবুজরা। মেয়েদের কম্পাউন্ড এককে সুমা বিশ্বাস, ছেলেদের কম্পাউন্ড এককে সোহেল রানা, মেয়েদের রিকার্ভ এককে ইতি খাতুন ও ছেলেদের রিকার্ভ এককে রোমান সানা সোনার পদক জয় করেন। অন্যদিকে, কীর্তিপুরে পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সোনার পদক অক্ষুন্ন রাখে বাংলাদেশ।

সকালে মেয়েদের কম্পাউন্ড একক ইভেন্ট দিয়ে শুরু হয় শেষ দিনের খেলা। এই ইভেন্টের ফেবারটি শ্যামলী রায় সেমি ফাইনাল থেকেই বাদ পড়ে যান। আর ফাইনালে উঠে আসেন দলের চার নম্বরে থাকা সুমা বিশ্বাস। ফাইনালে শ্রীলঙ্কান প্রতিযোগি অনুরাধাকে ১৪২-১৩৪ স্কোরে হারিয়ে বাংলাদেশকে দিনের প্রথম সোনার পদক এনে দিয়ে সবাই তাক লাগিয়ে দেন মাগুরার এই আরচ্যার। স্বর্ণ নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই আনন্দে কেঁদে ফেলেন সরকারী বাংলা কলেজে অধ্যায়নরত সুমা। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাক কাজী রাজীব উদ্দিন আহম্মেদ চপলসহ অন্যরা তখন আনন্দে আত্মহারা। স্বর্ণ নিশ্চিতের পর সুমা নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনিই ইভেন্টের খেতাব অর্জন করেছেন। তাইতো দু’চোখ পেয়ে তখন তার অশ্রু ঝরছিল। বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল না এ ইভেন্টে স্বর্ণ পাবো। কেউ আশাও করেনি। আর আমি ছিলাম টিমের চার নম্বর প্লেয়ার। কমপিটিশনে আসার আগের দিনও আমাকে পরীক্ষার হলে বসতে হয়েছিল। তার আগে পাঁচদিন অনুশীলন করতে পারিনি টানা দু’টি পরীক্ষা থাকার কারনে। আরচ্যারি এমন একটি খেলা যেখানে একদিন অনুশীলন না করলেই ফিটনেস থাকে না। সবকিছু মিলিয়ে আমার কনফিডেন্ট শতভাগ ছিল না। টিম ও কোচেরও আত্মবিশ্বাস কম ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই আজ আমি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল্ড মেডেল জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পেরেছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

সুমার পথ ধরে ছেলেদের কম্পাউন্ড এককের ফাইনালেও দেশকে স্বর্ণ উপহার দিয়েছেন মো. সোহেল রানা। ভুটানের তানজিং দর্জির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় তার। মাত্র এক পয়েন্টে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিক শিরোপা জয় করেন তিনি। ১৩৭-১৩৬ পয়েন্ট সেটে জয় পান সোহেল। স্কোর লাইনটা দেখেই বুঝা যাচ্ছে স্বর্ণ জয়ের পথে কতোটা ফাইন করতে হয়েছে তাকে।

মেয়েদের রিকার্ভ এককের ফাইনালেও ভুটানের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ইভেন্টে লাল-সবুজদের প্রতিনিধি ছিলেন ইতি খাতুন। প্রথমে ভুটানের আরচ্যার ডিমা সোনমের সাথে পিছিয়ে গেলেও পরের রাউন্ডে দারুনভাবে ফিরে এসে স্বর্ণ পদক জিতে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়। এসএ গেমসে দেশের প্রথম নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে এক আসরে তিন স্বর্ণ জয়ের রেকর্ডও গড়ে ফেলেন তিনি। আগের দিন দলীয় ও মিক্সড ডাবলসে স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। এককে সফলতা আসবে কি আসবে না- সেটা নিয়ে দারুন চাপে ছিলেন চুয়াডাঙ্গার এ আরচ্যার। বলেন, ‘আসলেই একটা চাপ অনুভব করছিলাম গতকাল থেকে। দলীয় ও মিক্সড ডাবলসে স্বর্ণ জয়ের পর একক ইভেন্টটা নিয়ে বেশী ভেবেছিলাম। আগের রাতে চোখে অনেক ঘুম ছিল, কিন্তু টেনশনে ঘুমাতে পারিনি। অবশেষে আজ সফল হয়েছি।’ এক আসরে তিনটা স্বর্ণ নেই দেশের কোন নারী এথলেটের। আগের দিন দুই স্বর্ণ জেতা ইতি আজ এককে জিতলেই নতুন রেকর্ডের মালিক হয়ে যাবেন, সে খবরটা আগের রাতেই পেয়েছিলেন। তাই কিছুটা বাড়তি চাপও যোগ হয়েছিল। তবে সবচাপ উপেক্ষা করে স্বর্ণ জয়ের মূলমন্ত্রটা জানালেন ইতি, ‘বিষয়টা আমি কাল রাতে শুনেছিলাম। তখন অবাক হয়েছিলাম। তখন থেকে আগ্রহটা আরো বেড়ে যায় যেনো রেকর্ডটা করতে পারি।’

এদিকে, দিনের শেষ ইভেন্ট ছেলেদের রিকার্ভ এককে প্রত্যাশীত জয়টাই পেয়েছেন দেশসেরা আরচ্যার রোমান সানা। ফাইনালে তিনি ভুটানের কিনলে সিরিকে পাত্তাই দেননি। ৭-১ সেট পয়েন্টে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখান রোমান। তিনিও আজ স্বর্ণ জয়ের হ্যাটট্রিক করে ফেলেন। তাই বাড়তি একটা আনন্দ যোগ হয়েছে তার মনেও, ‘এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গত আসর থেকে আমরা দেশকে ভালো কিছুই উপহার দিতে পারিনি। অসুস্থ্যতার কারনে সেবার আমি দলের সাথে খেলতে পারিনি। তবে এবার আমরা সবাই মিলে দশটা পদক জিতেছি, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD