বাংলাদেশের ভারত জয়

বাংলাদেশের ভারত জয়

দিল্লির দূষণ এবং পরাজয়ের রেকর্ড পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হাজারতম ম্যাচে জয় পেলো বাংলাদেশ। ভারতের সাথে আগের আটবারের মুখোমুখি সাক্ষাতের প্রতিটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। দু’বার তো জয়ের খুব কাছে এসেও নিজেদের ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল টাইগারদের। অবশেষে নয়বারের প্রচেষ্টায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবার ভারতকে পরাজিত করল লাল-সবুজের পতাকাধারীরা। ম্যাচসেরা মশিফকুর রহিমের অপরাজিত ফিফটিতে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টিম ইন্ডিয়াকে ৭ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ।

টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ৷ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে তোলে তারা ১৪৮ রান। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ৩ উইকেটের হারিয়ে ১৫৪ রান তুলে ইতিহাস গড়ে টাইগাররা।

২০১৬ টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে ২ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের৷ ১ রান করলেই ম্যাচ টাই হতে পারত৷ বাংলাদেশ শেষ তিন বলে তিনটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারে৷ ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে শেষ বলে জয়ের জন্য ৫ রান দরকার ছিল ভারতের৷ দীনেশ কার্তিক শেষ বলে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন৷

গত দু’বারের এমন ভুল থেকেই শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে নিজেদের মেলে ধরে যথাযথ৷ শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২১ রান তারা ৩ বল বাকি থাকতেই তুলে নেয়৷ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জয়ের জন্য মুশফিকুরকে যেমন কৃতিত্ব দিতে হয়, ঠিক তেমনই অস্বীকার করা যায় না ক্রুণাল পান্ডিয়ার ভুলকেও৷ ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে চাহালকে গ্যালারিতে ফেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্রুণালের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন মুশফিকুর৷ পান্ডিয়া শুধু সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন, এমন নয়৷ উপরন্তু সেই বলে চার রান উপহার দেন৷

তার আগেও একবার চাহালের বলেই নিশ্চিত এলবিডব্লিউ হতে হতে বেঁচে যান মুশফিক৷ আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় এবং ভারত রিভিউ না নেওয়ায় ক্রিজে টিকে থাকেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান৷

পর পর দু’বার জীবন দান পাওয়া মুশফিকুরই ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৪৩ বলে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জয় এনে দেন৷ ১৯ তম ওভারের শেষ চারটি বলে খলিল আহমেদকে চার বার বাউন্ডারিতে পাঠান মুশফিকুর৷ স্বাভাবিকভাবেই তিনি ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন৷

এছাড়া মহম্মদ নঈম ২৬, সৌম্য সরকার ৩৯ ও মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত ১৫ রানের যোগদান রাখেন৷ লিটন দাস আউট হন ৭ রান করে৷ তার আগে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ৪১ রান করেন শিখর ধাওয়ান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD