চাহারের রেকর্ডে সিরিজ ভারতের

চাহারের রেকর্ডে সিরিজ ভারতের

ভারতের বিপক্ষে একাই লড়ে গেলেন নাঈম। কিন্তু সতীর্থরা সঠিকভাবে সাহয্য করতে না পারায় লড়াই ব্যর্থ হলো। আর বাংলাদেশের ব্যর্থতা মানেই ভারতের সফলতা। নাগপুরে সিরিজরে তৃতীয় ‌ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৩০ রানে হারিয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতল ভারত। দীপক চাহারের আগুনে বোলিংয়ে ঝলসে যায় টাইগাররা। তার আগে, ব্যাট হাতে লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়স আইয়ার ভারতের জয়ের মঞ্চ তৈরি করেন।

টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। ফিফটি করেন লোকেশ রাহুল ও শ্রেয়স আইয়ার। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শফিউল ইসলাম ও সৌম্য সরকার দুটি করে উইকেট তুলে নেন। জবাবে, বাংলাদেশ ১৯.২ ওভারে ১৪৪ রানে অলআউট হয়। মোহাম্মদ নঈম দারুণ এক ফিফটি করলেও বাকিরা কেউই তাঁকে যথাযথ সাহায্য করতে পারেননি। বল হাতে দীপক চাহার হ্যাটট্রিকসহ বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তাতে ভারত ৩০ রানে জয় পায়।

ভারত ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রোহিত শর্মার উইকেট হারিয়ে বসে৷ মাত্র ২ রান করে শফিউল ইসলামের বলে উইকেট হারান। শিখর ধাওয়ান ৪ বাউন্ডারিতে ১৬ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ধাওয়ানের উইকেটটিও তুলে নেন শফিউল। লোকেশ রাহুল ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৫ বলে ৫২ রান করে ফিরে আসেন। আল-আমিনের বলে লিটনের হাতে ধরা দেন রাহুল।

শুরুতেই স্লিপে জীবন পাওয়া শ্রেয়স আইয়ার ৬২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় রানের দিকে নিয়ে যান। ৩৩ বলের ইনিংসে শ্রেয়স ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন। তার উইকেটটি তুলে নেন সৌম্য সরকার। ঋষভ পান্ট আরও একবার ব্যাট হাতে ব্যর্থ। মাত্র ৬ রান করে সৌম্যর বলে বোল্ড হন তিনি। ৩ বাউন্ডারিতে মণীশ পান্ডে ১৩ বলে ২২ ও শিবম দুবে ৮ বলে ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

জবাবে, বাংলাদেশ মাত্র ১২ রানের মধ্যে লিটন দাস (৯) ও সৌম্য সরকারের (০) উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায়। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে পর পর দু’জনকে ফিরিয়ে দীপক চাহার হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি করেন। তাকে হতাশ করেন মোহাম্মদ মিঠুন। সেই সঙ্গে নাঈমকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে দলের স্কোরে ৯৮ রান যোগ করে প্রাথমিক বিপর্যয় রোধ করেন। মিঠুন ব্যাক্তিগত ২৭ রানে আউট হওয়ার পরেই ধস নামে বাংলাদেশ শিবিরে। মিঠুনকে‌ও বিদায় করেন চাহার। পরের ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই মুশফিকুর রহিমকে বোল্ড করেন শিবম দুবে। মুশফিক খাতা খুলতে পারেননি।

১৬তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে দুবে পর পর আউট করেন নাঈম ও আফিফ হোসেনকে। নাঈম ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ বলে ৮১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। আর রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন আফিফ। ১৭ তম ওভারের পঞ্চম বলে মাহমুদুল্লাহকে (৮) বোল্ড করেন যুবেন্দ্র চাহাল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর ৫০তম শিকার।

১৮তম ওভারের শেষ বলে এবং ২০তম ওভারের প্রথম দু’টি বলে দীপক চাহার আউট করেন শফিউল ইসলাম (৪), মুস্তাফিজুর রহমান (১) ও আমিনূল ইসলামকে (৯) এবং প্রথম ভারতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব দেখান। ৩.২ ওভারে চাহার ৭ রানে ৬টি উইকেট তুলে নেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই এখনও পর্যন্ত সেরা বোলিং। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন দীপক চাহার। সিরিজ সেরাও হন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD