অস্ট্রেলিয়ার মিলিয়ন ডলার গার্ল: অ্যাশলে বার্টি

অস্ট্রেলিয়ার মিলিয়ন ডলার গার্ল: অ্যাশলে বার্টি

অস্ট্রেলিয়ার মিলিয়ন ডলার গার্ল অ্যাশলে বার্টি। ক্রিকেট ছেড়ে টেনিসে যোগ দিয়ে সাফল্যের পাশাপাশি মনি-কাঞ্চনও যোগ করছেন তার ক্যারিয়ারে। তিনি শুধু নারী টেনিসের শীর্ষ খেলোয়াড়ই নন, চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি অর্থ পুরস্কারও পেয়েছেন। তার আয় এবছর ১০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

দারুণ ফর্মের কারণে রেকর্ড আর অর্থ, অ্যাশলে বার্টির পিছু ছাড়ছেনা। ছলতি বছর তার আয় ১০.৯৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। আর এক বছরের এই আয়, অ্যাশলে বার্টির ক্যারিয়ারের উপার্যনকে রীতিমতো দ্বিগুণ করেছে। এখনও আরো ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্ট রয়েছে। সুতরাং বার্টি আয় আরো বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

গত জুনের শুরুতে রোলা গ্যাঁরোর ফাইনালে চেক প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কেতা ভন্দ্রসোভাকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জয় করেন অ্যাশলে বার্টি। ১৯৭৩ মার্গারেট কোর্টের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম নারী খেলোয়াড় হিসেবে ফরাসি ওপেন জিতেন বার্টি। এতে গ্র্যান্ডস্ল্যামের আসরে অস্ট্রেলিয়ার ৪৬ বছরের খরা ভাঙেন অ্যাশলে বার্টি।

এর ১৫ দিন পরই বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও উন্নতি ঘটে তার। জাপানের নাওমি ওসাকাকে সরিয়ে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠে আসেন তিনি। বার্মিংহাম ক্যাসিক্সের ফাইনালে ডাবলস পার্টনার জুলিয়া জর্জেসকে হারানোর সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাংকিংয়ে একনম্বর স্থান নিশ্চিত করেন বার্টি। এর আগে ১৯৭৬ শেষবার অস্ট্রেলিয়ার নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছিলেন গুলাগং কাউলি। ৪৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে মহিলাদের র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে ওঠেন অ্যাশলে বার্টি।

বিখ্যাত ক্রিকেটার রিকি পন্টিংয়ের দেশ কুইন্সল্যান্ডের মেয়ে অ্যাশলে বার্টি। ছোটবেলায় ক্রিকেটের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। বরং ওয়েস্ট ব্রিসবেনে টেনিস সেন্টারের কোচ জিম জয়েসের কাছে আগ্রহ নিয়েই টেনিস শিখতেন। বাড়িতেও বার্টির অনুশীলন চলত। নেটবল অনুশিলনও করতেন একসময়। কারণ তার দুই বড়বোন সারা এবং অ্যালি ভালো নেটবল খেলতেন। এক সময় বার্টির মনে হতে থাকে নেটবল একেবারেই মেয়েলি খেলা। তাই টেনিস খেলাটাই প্রিয় হয়ে ওঠে তার। এবং এই খেলাতেই সাফল্য আসতে শুরু করে। পরে টেনিসই একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে অ্যাশলে বার্টির।

মাত্র চারবছর বয়সে টেনিসে হাতেখড়ি এই অস্ট্রেলিয়ান তরুণীর। ২০১১ সালে পনেরো বছর বয়সে জুনিয়র উইম্বলডন খেলেন। ঐ বয়সেই প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়! সেইসঙ্গে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসেছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। স্বদেশি কেসি ডেলাকোয়ার সঙ্গে জুটি গড়ে ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, উইম্বলডন এবং যুক্তরাষ্ট্র ডাবলসে রানার্স হয়ে বার্টি টেনিস দুনিয়াকে বিস্মিত করেছিলেন। সাড়া জাগানো এক সম্ভাবনাময় তারকা হয়ে উঠেছিলেন।
কিন্তু মাত্র সতেরো বছর বয়সে তিনটি গ্র্যান্ডস্ল্যামে ডাবলস খেলার পর হঠাৎ করেই টেনিস ছেড়ে আবারো ক্রিকেটে নেমে পড়েন। যে টেনিস ছেড়ে মেতেছিলেন ক্রিকেট দুনিয়ায়, সেই বাইশ গজের পিচের লড়াই ছেড়ে ২০১৬ সালে আবার টেনিসে প্রত্যাবর্তন করেন অ্যাশলে বার্টি। টেনিস কোর্টে ফিরে অল্পদিনের মধ্যেই অসামান্য সাফল্য পেয়েছিলেন। এবার তিনি সাফল্য এবং আয় রোজগারে সবার শীর্ষে।

ক্রিকেটেও বার্টির ভালো পারফরম্যান্স ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি মেয়েদের পেশাদার ক্রিকেট লিগের ব্যস্ত ক্রিকেটার ছিলেন। ক্রিকেট থেকে টেনিসে ফেরাটাই বার্টির জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। মাছধরা এবং নিজের পোষা প্রাণীদের নিয়ে সময় কাটানো তার প্রিয় শখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD