১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট

১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট

ফারদিন আল সাজু

১১ দফা দাবিতে আলোচিত এখন বাংলাদেশের ক্রিড়াঙ্গন। বেতন বাড়ানো, বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি বদলোনে সহ ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছে দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারা। বয়সভিত্তিক দলগুলো ছাড়া জাতীয় দল, হাইপারফরম্যন্স (এইচপি), “এ” দল এবং ঘরোয়া লীগসহ সবধরানের কার্যক্রম আপতত স্থাগিত থাকছে আজ সোমবার থেকেই। তবে চাইলে নারী দলসহ অন্যান্য ক্রিকেট দল তাদের ধর্মঘটে অংশগ্রহন করতে পারে এমনটাই সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান।

কয়েক দিন পরে অনুষ্ঠিত হবে ভারত সফর । তারই অংশ হিসেবে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভারত সফরের ক্যাম্প। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান, সাকিব-তামিমরা। তাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত সফর।
সোমবার সাকিবের নেতৃত্বে বিসিবির মাঠে জড়ো হন খেলোয়াড়রা। সেখানে বিকেলে সংবাদ সম্মেলেন করেন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারা। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ ও ঘরোয়া লিগে খেলা ক্রিকেটাররা।

এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে নেই ফ্রাঞ্চাইজি। তাই হতাশ ক্রিকেটারা। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ( এনসিএল) শুরু হবার আগে ক্রিকেটাররা ভেবেছিলেন বাড়ানে হবে ম্যাচ ফি। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা হতাশ। এই করণে ধর্মঘটে যান ক্রিকেটাররা।
তাদের দেওয়া ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-

১. ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে কখনো সোচ্চার না হওয়ায় কোয়াবের বর্তমান কমিটির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিসহ সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি ক্রিকেটারদেরই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে দিতে হবে।
২. প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের নিয়ম আগের মত করতে হবে, যেন ক্রিকেটারদের দল বেছে নেবার এবং পারিশ্রমিক নিয়ে দর কষাকষির সুযোগ থাকে।
৩. পরের বছর থেকে আগের মত বিপিএল হতে হবে, বিদেশীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে হবে। নিলামের সময় ক্রিকেটারদের নিজেদের গ্রেড বেছে নেবার স্বাধীনতা দিতে হবে।
৪. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। সারা বছরই কোচ-ফিজিও-ট্রেনারের ব্যবস্থা করতে হবে বিভাগীয় পর্যায়ে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ভালো মানের বল দিতে হবে।
৫. ডিএ ১৫০০ টাকার চেয়ে বাড়াতে হবে। ট্রাভেল অ্যালাউন্স ২৫০০ টাকায় কিছু হয় না। ম্যাচ ভেন্যুতে যেন ক্রিকেটাররা প্লেনে যেতে পারে এবং স্টেডিয়ামে যেতে যেন মানসম্পন্ন, অন্তত এসি বাস দিতে হবে। জিম এবং সুইমিংপুল আছে এমন হোটেলে ক্রিকেটারদের রাখতে হবে।
৬. জাতীয় পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়াতে হবে; বাড়াতে হবে তাঁদের বেতন।
৭. বাংলাদেশের সব পর্যায়ের কোচ-আম্পায়ার-ফিজিও-ট্রেনার থেকে গ্রাউন্ডসম্যান, সবার বেতন বাড়াতে হবে।
৮. ঘরোয়া ক্রিকেটে ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বাড়াতে হবে; বিপিএলে আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হবে; জাতীয় লিগে চার দিনের ম্যাচের সঙ্গে এক দিনের ম্যাচও আয়োজন করতে হবে।
৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকতে হবে।
১০. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে।
১১. বিদেশে দুটির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলা যাবে না– এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD