যুবভারতীতে মুখোমুখি ভারত-বাংলাদেশ

যুবভারতীতে মুখোমুখি ভারত-বাংলাদেশ

ভারত-বাংলাদেশ লড়াই মানেই টান টান উত্তেজনা। খেলারো অধিক স্নায়ু চাপ। তাছাড়া এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপের যৌথ বাছাইপর্বে নিজেদের পরের রাউন্ডে নিয়ে যেতে চাইলে এ ম্যাচে জয় ভিন্ন কোনো পথ খোলা নেই দু’দলের। সেই লক্ষ্য নিশ্চিত করার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার কোলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলাটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে।

ম্যাচটা দুই দলের জন্যই মহাগুরুত্বপূর্ণ। পরের রাউন্ডে যেতে দুই দলের কাছেই জয়ের বিকল্প নেই। ওদিকে আট বছর পর কলকাতায় খেলতে আসছে ভারতীয় দল, ফলে এই ম্যাচ নিয়ে কলকাতার মানুষের প্রত্যাশাও আকাশচুম্বী। এদিকে, ভারতের সঙ্গে ম্যাচটি খেলতে চারদিন আগেই কোলকাতায় পা রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। টানা তিনদিন যুব ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে অনুশিলনের পর আজ সোমবারই প্রথম মূল্য ভেন্যুতে নামার সুযোগ পায় জামাল-মামুনুলরা। সেখানে ভারত বধের ছক কষেছেন বাংলাদেশের হেড কোচ জেমি ডে।

তার আগে নবোটেল হোটেল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচ নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা বলেন এই ব্রিটিশ কোচ। প্রতিপক্ষের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে জেমি ডে বলেন, নিশ্চিতভাবে এ ম্যাচে ভারত ফেভারিট। সম্প্রতি দারুণ ফুটবল খেলছে তারা। কাতারের সঙ্গে ড্র তার জলন্ত উদাহরণ। তাছাড়া নিজেদের মাঠে ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে খেলতে ওরা। সবকিছু মিলিয়ে আমরাই আন্ডারডগ।’ তবে দলের অধিনায়ক জামাল ভুইয়া এটাকেই প্লাস পয়েন্ট বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘এ ম্যাচে আমরা নয়, ওরা চাপে থাকবে। আর এই ম্যাচে এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চাই আমরা।’

এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপের যৌথ বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপ ‘ই’ তে সবচেয়ে বাজে অবস্থানে আছে ভারত আর বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে ভারতের সংগ্রহ এক আর বাংলাদেশের শূন্য। ওমানের সঙ্গে হারের পর এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারকে রুখে দিয়ে এক পয়েন্ট ঝুলিতে ভরেছে ভারত। আফগানিস্তানের সঙ্গে এক গোলে হারের পর অসাধারন ফুটবল খেলেও কাতারের কাছ থেকে পয়েন্ট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

এমনিতে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। একে তো প্রতিবেশী দেশ হওয়ার কারণে দুই দলই চাচ্ছে নিজেদের ফুটবলীয় আধিপত্যের কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে। আবার গ্রুপের সবচেয়ে নিচের দুই দলের জন্য এ ম্যাচ বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম জয় পাওয়ার উপলক্ষ।
তবে সে লড়াইয়ে ভারতই এগিয়ে। র‌্যাঙ্কিংয়ের দিক দিয়ে তো বটেই, দুই দলের মাঠের খেলাতেও পার্থক্য দৃশ্যমান। ভারতের র‌্যাঙ্কিং যেখানে ১০৪, বাংলাদেশ আছে তার ৮৩ ধাপ পেছনে। এ ম্যাচে ভারত স্বাগতিক, খেলা ৮৫ হাজার দর্শকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।

বলা চলে মোটামুটি সব দিক দিয়েই বাংলাদেশ একটু ব্যাকফুটে। পরিসংখ্যানেও ঢের পিছিয়ে জামাল ভুইয়ারা। দু’দলের পঁচিশ বারের সাক্ষাতে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটি ম্যাচে। ভারত জিতেছে ১২ ম্যাচে। তিনটি ড্র হয়েছে। বাংলাদেশের সবশেষ জয়টি ২০০৩ সালের জানুয়ারীতে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সবশেষ অনুষ্ঠিত ম্যাচ দুটিতে জিততে পারেনি ভারত। ২০১৩ সালে কাঠমান্ডুর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আতিকুর রহমান মিশুর গোলে খেলার প্রায় শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া একটা ফ্রিকিকে ম্যাচে সমতা ফেরান সুনীল ছেত্রী। ২০১৪ সালে গোয়ায় প্রীতি ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। সে ম্যাচে ভারত প্রথমে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল। পরে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। এরপর আত্মঘাতী গোলে ভারতের ভাগ্য-বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছিল ২-১ গোলে। পরে আবারও সমতায় ফেরে ভারত।

এর সঙ্গে স্বস্তির বিষয় হলো, ফুটবলে র‌্যাঙ্কিং শেষ কথা নয়। নিজেদের মাঠের সুবিধাও সব সময় সব দল নিতে পারে না। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ খোদ ভারতই দিয়েছে গত ম্যাচে। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪২ ধাপ এগিয়ে থাকা গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল, ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারকে তাদের মাঠে রুখে দিয়েছে। এই ম্যাচ থেকেই চাইলে প্রেরণা নিতে পারেন জামাল ভূঁইয়ারা। ভারতের মাটি থেকে অন্তত এক পয়েন্ট হলেও ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ। ওদিকে ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশকে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




bangladesherkhela.com 2019
Developed by RKR BD